ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বাংলাদেশে ইয়াবা আসক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভয়ঙ্কর তথ্য এনসিপির গাড়িবহরে ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, সারজিসসহ আহত অনেকে বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানম নাসরীনের পিতাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন বিএম কলেজ অধ্যক্ষ  জাপানে ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে শপিংমল, বহু হতাহতের শঙ্কা ভোলায় ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার সাড়ে ৭ বছরে সড়কে ঝরেছে ৭৩৬৪ জন শিক্ষার্থীর প্রাণ ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনে নির্দেশ হাইকোর্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, দিনক্ষণ ঠিক হয়নি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী  কৃষিবান্ধব সরকার কৃষকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিবে: এমপি হাফিজ ইব্রাহিম 
  • সেবা প্রত্যাশীদেরকে শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ

    নামেই চলছে বরিশালের অধিকাংশ মাদক নিরাময় কেন্দ্র 

    নামেই চলছে বরিশালের অধিকাংশ মাদক নিরাময় কেন্দ্র 
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন


    বরিশালে মাদক নিরাময় ও মানসিক রোগীর চিকিৎসা কেন্দ্রে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন চিকিৎসা সেবা প্রার্থীরা। এছাড়া নির্যাতনে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে অনেক। তবে এসব ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের কেউ কেউ গ্রেফতারও হন। বর্তমানে অধিকাংশ মামলা আদালতে বিচারাধীন। আবার অনেকটাই ধামাচাপা পড়ে গেছে। 

    তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, কেন্দ্রগুলোতে কিছুটা অব্যবস্থাপনা থাকতে পারে। নির্যাতন, মারধর ও হত্যার মতো কোন ঘটনা কখনই ঘটেনি। 

    বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিভাগের ছয়টি জেলায় মোট আটটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের অনুমতি রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠান বরিশাল শহরে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-তরুণ কান্তি গায়েনের পরিচালনায় ক্রিয়া, নাজমুল হাসান বাপ্পির ড্রিম লাইফ, মর্তুজা জুয়েলের দি নিউ লাইফ, শাহরিয়ার রিপনের দি লাইফ কেয়ার, শাখাওয়াত হোসেন মিঠুর সেভ দ্যা লাইফ, মোস্তাফিজুর রহমানের হলি কেয়ার, মাইন্ড কেয়ার ও স্বপ্ন। এছাড়া স্বপ্ন নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান আছে পটুয়াখালীতে। এর মধ্যে বরিশালের হলি কেয়ার, মাইন্ড কেয়ার ও স্বপ্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রোগী মৃত্যু ও নির্যাতনের অভিযোগও সবচেয়ে বেশি।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি মাদক নিরাময় ও মানসিক রোগীর চিকিৎসা কেন্দ্রে মানসিক ও মেডিসিন বিভাগের একজন করে চিকিৎসক, দু’জন করে নার্স, অক্সিজেন সিলিন্ডার, সাকার মেশিন থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এগুলো অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই নেই।

    সরেজমিনে সাতটি প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, শুধুমাত্র দি নিউ লাইফ ও ড্রিম লাইফে চিকিৎসক রয়েছেন। বাকি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবকরা চিকিৎসক পরিচয়ে দায়িত্ব পালন করেন।   

    জানা গেছে, ড্রিম লাইফে বর্তমানে ৪০ জন সেবাপ্রার্থী চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে একজন সেবাপ্রার্থী ভর্তি হলে চিকিৎসক, মেডিকেল টেস্ট, খাবার ও অন্যান্য খরচ বাবদ তিন মাসের জন্য ৪৫ হাজার টাকা নেয়া হয়। 

    ২০১৯ সালে নগরীর রূপাতলী রেডিও সেন্টার সংলগ্ন স্থানে গড়ে ড্রিম লাইফে ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর এই মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দের কর্মীদের সাথে ধস্তাধস্তিতে সুমন খান (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত সুমনের মা খাদিজা বেগম বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদিজা বেগম। 

    তিনি বলেন, সুমনের কিছুটা মানসিক সমস্যা ছিলো। বিভিন্ন অজুহাতে সুমন আমাকে এ বাসার অন্যান্য সদস্যদের মারধর করত। এই কারণে ড্রিম লাইফ মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করি। এরপর সেখানে চিকিৎসা সেবা নিয়ে সুমনকে দেড়মাস যাবত বাসায় রাখি। হঠাৎ করে সুমন আবার আমাকে (মা) মারধর শুরু করায় ড্রিম লাইফে খবর দেয়া হয়। সেখান থেকে ৫-৬ কর্মী এসে সুমনকে বাসা থেকে নিতে ধস্তাধস্তি করে। এতে সুমনের মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন তিনি। 

    তবে ড্রিম লাইফের প্রতিষ্ঠাতা নাজমুল হাসান বাপ্পি বলেন, সুমন হত্যার সাথে আমরা জড়িত ছিলাম না। ঘটনার দিন পরিবারের লোকজন বাসায় সুমনের সাথে টানাহেঁচড়া করেন। আমরা খবর শুনে বাসায় যাওয়ার আগেই সুমনের মৃত্যু হয়। কিন্তু উল্টো আমাদের ফাঁসিয়ে মামলায় জড়ানো হয়েছে। 

    অপরদিকে ২০০৭ সালে নগরীর বরিশাল ক্লাব সংলগ্ন স্থান থেকে যাত্রা শুরু হয় হলি কেয়ার নামে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে ৩০ জন সেবাপ্রত্যাশী রয়েছেন। এর বিপরীতে ২ জন চিকিৎসক, ২ জন নার্স রয়েছে। প্রতষ্ঠানটিতে ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি রয়েছে। তবে এই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে সেবাপ্রত্যাশীদের নির্যাতনের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। এ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধেও নির্যাতনে রোগী মৃত্যুর একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

    হলি কেয়ার থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফেরা এক যুবক জানান, মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে কোনো চিকিৎসা নেই। ওখানে মারধর করেই আতঙ্কগ্রস্ত করা হয়। আতঙ্কে অনেক মাদকাসক্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন। এরপর তার পরিবারকে ডেকে এনে দিয়ে দেওয়া হয়। ফলে সুচিকৎসা কিন্তু তিনি পাননি। বাসায় ফিরে আবারো মাদকে জড়িয়ে পড়েন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

    ২০২১ সালের ২৬ জানুয়ারি নগরীর সিএন্ডবি রোডের সেইভ দ্যা লাইফ মাদক নিরাময় কেন্দ্রে সোহেল নামে (৩২) এক যুবকের মৃত্যু হয়। তিনি নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তবে নিহতের পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। 

     সেইভ দ্যা লাইফের মালিক সখাওয়াত হোসেন মিঠু জানান, সোহেল নামের কাউকে চিনি না। নিরাময় কেন্দ্রে এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি।  

    মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন একাধিকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভর্তির পর অভিভাবকদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে একাকিত্বের মধ্যে ফেলা হয়। এরপরই মূলত নির্যাতন শুরু করে বিভিন্ন উপায়ে। টয়লেটে ঢুকিয়ে মুখে গামছা ঢুকিয়ে মারধর, সাউন্ড বক্সে উচ্চ শব্দে গান ছেড়ে মারধর, রাতে টয়লেটের সামনে শুতে বাধ্য করা, রাত ৩/৪টার দিকে ঘুম থেকে তুলে সকল রোগীর জন্য রুটি বা খাবার তৈরি করা ইত্যাদি। মারধরের সময়ে হাত-পা রশি বা হাতকড়া দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। 

    বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক পরিতোষ কুমার কুন্ডু বলেন,  বরিশাল বিভাগে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র কম। আর যা আছে তার মধ্যে দু একটি ছাড়া বাকিদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমস্যা আছে। লাইন্সেসের নিয়মাবলি অনুযায়ী মাদকাসক্তদের সেবার মান বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র পরিচালকদের ঢাকায় নিয়ে ১০ দিন করে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের লাইন্সেস ফি কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিমাসে বরিশালের মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলো ভিজিট করা হচ্ছে। লাইন্সেস বাতিল করাই সমাধান নয়। লাইন্সেস বাতিল করা হলে রোগী কোথায় যাবে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরিশালের পরিচালক ডা. হুমায়ূন শাহীন খান বলেন, বরিশালে মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দগুলো স্বাস্থ্য দফতরের কোনো অনুমতি নিয়ে পরিচালনা করে বলে জানা নেই। এসব বিষয়ে আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো।


    আরজেএন
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ