রূপাতলীতে সওজের জমি দখল করে অবৈধ দোকান নির্মাণ

বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকায় সরকারি খাল এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করছে স্থানীয় এক শ্রেণির প্রভাবশালী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা পরিষদের ওই খালের অর্ধেকের বেশি অংশ দখল হয়ে গেছে। এতে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে খালটি। স্থানীয়রা বলছেন, বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক ঘেঁষে এভাবে অবৈধ দোকান নির্মাণ করায়, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাতের আঁধারে দখল বাণিজ্য চালাচ্ছে স্থানীয় এক শ্রেণির প্রভাবশালী। সম্প্রতি প্রায় ২০টি দোকান ঘর তুলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খাবার হোটেল, চায়ের দোকান ও ফলের দোকান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, স্থানীয় খোকন গাজী, পান্না ও সেলিমসহ একাধিক ব্যক্তি সরকারি খাল ও সড়ক জনপদের জমি দখল করে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এর কয়েকটিতে নিজেরা ব্যবসা করছেন। বাকিগুলো থেকে প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করছেন। তাদের কাছ থেকে দোকান নিতে মৌখিক চুক্তি বাবদ অগ্রিম ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্তও দিতে হচ্ছে প্রভাবশালীদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অবৈধ দখল করা জমিতে নির্মাণকরা দোকানের এক ভাড়াটিয়া বলেন, মাস শেষে পান্না, জলিল ও সেলিম ভাইয়ের কাছে ভাড়ার টাকা দিতে হয়। টাকা না দিতে পারলে অগ্রিম দেয়া টাকা থেকে কেটে নেয়।
এ বিষয়ে পান্না ও সেলিম জানান, আমাদের আগেই এখানে দোকান ছিল। সড়ক জনপদ ভেঙে দেয়ায় দোকান করতে পারেনি। এখন আবার দোকান তোলার জন্য জায়গা নির্ধারণ করেছি। ভাড়া নেয়া ও মৌখিক চুক্তির বিষয়ের অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি তাদের।
বরিশাল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমএম মহিউদ্দিন কবীর বলেন, জেলা পরিষদের জমি কারো কাছে লিজ দেয়া হয়নি। কেউ যদি গায়ের জোরে দখল করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন বলেন, রূপাতলী সড়কের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেখানে ফোর লাইনের কাছ চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় পুনরায় দখল হলে তা ভেঙে ফেলা হবে।
আরজেএন