বরিশালে ব্যস্ততা বেড়েছে কামারপাড়ায়, কিন্তু ক্রেতা নেই

কোরবানি ঈদের বাকি আর মাত্র নয়দিন। ঈদ উপলক্ষে তাই ব্যস্ততা বেড়েছে কামারপাড়ায়। দোকানের সামনে সারি করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে মাংস কাটার সরঞ্জাম। সোমবার নগরীর হাটখোলা, সাগরদী ও নতুন বাজার ঘুরে কামারদের ব্যস্ততার এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে কামার শিল্পীদের দাবি, ঈদ উপলক্ষে কাজে দম ফেলার ফুসরত না থাকলেও বেচা-কেনা তেমন নেই।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কামারশিল্পীরা কোরবানির ঈদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরি করছেন। মাংস কাটার সরঞ্জাম সারি করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানের সামনে। চাপাতি বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়। আর মাংস খসানোর কাজে ব্যবহৃত চাকু বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৮০ টাকায়। তবে চাহিদার যোগান দিতে ছুরি, চাপাতি, দা, বটিসহ নানান সরঞ্জাম তৈরির করলেও বিক্রি তেমন না থাকায় হতাশ কামাররা। তারা বলেন, প্রতিবছর এ সময়ে বেচাকেনা জমে ওঠে। কিন্তু এ বছর বিক্রি নেই বললেই চলে।
৫০ বছর ধরে কাজ করা কামারশিল্পী লক্ষণ র্কমকার জানান, গত বছরেও এই সময়ে ক্রেতাদের ভিড় ছিল। কিন্তু চলতি বছর হঠাৎ করেই বাজার পড়ে গেছে। এখনও ক্রেতারা কেনাকাটা শুরু করেননি।
একই দোকানে কাজ করা নয়ন হোসেন নামে এক কারিগর জানায়, দিনরাত কাজ করে মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরি করছি। তবে ক্রেতার দেখা নেই। তবে শেষ সময়ে চাপ বাড়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাগরদি মাদ্রাসা এলাকার কামার লিটন মিয়া বলেন, কোরবানির সরঞ্জাম এক মাস আগে থেকেই বানানো শুরু করেছি। কিন্তু ক্রেতার দেখা পাচ্ছি না। আর কয়দিন পরেই কোরবানি। বিক্রি করতে না পারলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
কথা হয় কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে। তারা জানান, আগের বছরের চেয়ে দাম তুলনামূলক বেশি। গত বছর যে চাকু ৫০ টাকায় পাওয়া যেত; সেটি এখন কিনতে হচ্ছে ১০০ টাকায়।
তবে বিক্রেতারদের দাবি, দিন দিন সব জিনিসের দাম বাড়ছে। এসব পণ্যেও তাই দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই।
আরজেএন