বাড়ছে বরিশালের নদ-নদীর পানি, মেঘনা-সুরমার পানি বিপদসীমার ওপরে

ভারতের গজল ডোবা ব্যারেজ পয়েন্টের ৫২টি গেটের মধ্যে ৪৪টি খুলে দেয়া হয়েছে। এর ফলে বাড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের তিস্তা নদীর পানি।
এর প্রভাবে আগামী ২-৪ দিনের মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলাধীন সুরমা-মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার সুরমা-মেঘনা নদীর পানির স্তর ছিলো ২.২৪ সেন্টিমিটার। এই নদীর বিপদসীমা ২.২২ সেন্টিমিটার।
যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, এরই মধ্যে অমাবস্যার কারণে বরিশালের নদ-নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে। তবে দু-একদিনের মধ্যে অমাবস্যা কেটে গেলে পানি বৃদ্ধির শঙ্কাও কেটে যাবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি বিজ্ঞান বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুম।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ‘ভারতের গজল ডোবা গেট খুলে দেয়ায় তিস্তার পানি বাড়ছে। ব্যারেজ পয়েন্ট ৫২টি গেইট মধ্যে ৪৪টি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। পানি বাড়ায় লালমনিরহাটের আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতিবান্ধার নি¤œাঞ্চলগুলো তলিয়ে যাচ্ছে। এ ভাবে পানি বাড়লে বন্যার শঙ্কা রয়েছে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি বিজ্ঞান বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘অমাবস্যার কারণে গত কয়েকদিন ধরেই বরিশালের নদ-নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছিল। তবে সোমবার থেকে নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।
তিনি জানিয়েছেন, ‘সোমবার বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পানির স্তর সর্বোচ্চ ১.৫৭ সেন্টিমিটার ছিলো। যা গত রোববার ছিলো ১.৫৯ সেন্টিমিটার। যা বিপদ সীমার অনেক নিচে।
এছাড়া বাকেরগঞ্জের বুড়িশ্বর নদীতে গতকাল সর্বোচ্চ ১.৩১ সেন্টিমিটার, ঝালকাঠির বিষখালী নদীতে ১.১০ সেন্টিমিটার, বেতাগীর বিষখালী নদীতে ১.৪৩ সেন্টিমিটার, ভোলার দৌলতখান উপজেলাধীন সুরমা-মেঘনা নদীতে ২.২৬ সেন্টিমিটার, ভোলা সদরে তেতুলিয়া নদীতে ১.৪৪ সেন্টিমিটার, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বুড়িশ্বর/পায়রা নদীতে ১.৩২ সেন্টিমিটার, বরগুনার আমতলী উপজেলার বুড়িশ্বর/পায়রা নদীতে ১.৫৮ সেন্টিমিটার, বরগুনার বিষখালীতে ১.৬২ সেন্টিমিটার পানি ছিলো।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি বিজ্ঞান বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুম বলেন, ‘বর্তমানে পূর্ণিমার জ্যো চলছে। তবে এটা মঙ্গলবারের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। মূলতঃ অমাবস্যার কারণে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পায়। এ কারণে বর্তমানে নদীতে পানি স্বাভাবিকের থেকে একটু বেশি। তবে তিস্তার পানি নামতে গেলে এই অঞ্চলের নদীতে একটু চাপ পড়বে। তবে অমাবস্যা কেটে গেলে বরিশালে নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধির শঙ্কাও কেটে যাবে।
আরজেএন