বরিশালে ১৩ জুনের টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়নি আজো, কবে শুরু হবে নির্দিষ্ট তারিখ জানেন না কর্মকর্তারা

সারাদেশে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে গত ১৩ জুন। কিন্তু বরিশালে শুরু হয়নি এখনো। ফলে অপেক্ষাকৃত কম দামে টিসিবির পণ্য কিনতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা জানান, গত রমজানের ঈদের আগেও একই অবস্থা করেছে টিসিবি। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কেউ নেই।
নগরীর নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা লায়লা বেগম বলেন, বাজারে গিয়া পণ্য গায়ে দামের কারণে হাত দেয়া যায় না। সরকারি একখান কার্ড পাইছিলাম কম দামে টিসিবির মাল কিনমু তাই। কিন্তু টিসিবি মাল আমাগো এহানে ঠিক সময়ে আয় না।
মজিলা নামের ভুক্তভোগী বলেন, দিনমজুর স্বামীর একার আয় দিয়েই চলছে দুই সন্তানসহ চারজনের সংসার। প্রতিদিন ভালো মন্দ খাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও কিনে খাইতে পারি না। সরকার আমাগো লাইগা টিসিবি দিয়া পণ্য কিনতে সুযোগ কইরা দিছে। কিন্তু সব জায়গায় পণ্য বিক্রি শুরু হইলেও মোগো এলাকায় হয় না।
বরিশাল সচেতন নাগরিক (সনাক) সভাপতি গাজী জাহিদ হোসেন বলেন, বরিশালে সবসময়ই টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হতে দেরি হয়। এদের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা কেউ কিছু বলে না।
তবে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবির) বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শতদল ম-ল জানান, আজ (রোববার) ডিলারদের কাছ থেকে টাকা জমা নেয়া হবে। ১০৮ জন ডিলার এই পণ্য বিক্রি করবেন। তবে কবে পণ্য বিক্রি শুরু কবে হবে, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি এ কর্মকর্তা।
টিসিবির ঘোষণা অনুযায়ী, ৭০ টাকায় এক কেজি চিনি, প্রতিকেজি ৭০ টাকা দরে মসুর ডাল, ১০০ টাকা লিটারপ্রতি সয়াবিন তেল বিক্রি করার কথা।
অর্থাৎ ফ্যামিলি কার্ডধারী একজন প্রথম পর্বে এক কেজি চিনি, দুই কেজি মসুর ডাল এবং দুই লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারবেন। তবে বরিশালে টিসিবির পণ্য ভিতরে চিনি থাকবে না বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শতদল ম-ল। তিনি বলেন, চিনি শুধু ঢাকা মহানগরীর কার্ডধারীরা পাবেন। অন্য জেলায় এ নির্দেশনা নেই।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন সারাদেশে নিম্ন আয়ের এক কোটি উপকারভোগী কার্ডধারী পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এরপর সারাদেশে এসব পণ্য বিক্রি শুরু হলেও বরিশালে এ কার্যক্রম শুরুই হয়নি।
আরজেএন