সারা বছরই ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী, ঠাঁই হচ্ছে মেঝেতে

হাসপাতালের মেঝেতে বিছানা পেতে আসন নিয়েছেন অনেক মানুষ। সব ওয়ার্ডে রোগী ও তাদের স্বজনদের স্বজনদের ভিড়। বিছানাপত্রের আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। আছে দুর্গন্ধও। শুধু বারান্দার সামনে ফাঁকা জায়গা। মাঝে মধ্যে তাও থাকে না।
সিঁড়ির আশপাশে রোগী ও স্বজনরা চিকিৎসা নিচ্ছেন বিছানা পেতে। বৈদ্যুতিক পাখা না থাকায় হাত পাখা দিয়ে রোগীকে বাতাস করছেন স্বজনরা। এই হচ্ছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা গ্রহীতাদের দুর্ভোগের চিত্র।
গৌরনদী থেকে গাইনি চিকিৎসা নিতে আসা আলেয়া বেগম নামে এক রোগী বলেন, ‘ আমরা গরিব মানুষ ভাইরে। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে তো অনেক টাকা। সেখানে যাবো কী করে? অনেক টাকা খরচ করার সামর্থ্য আমাদের নেই। তাই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আইছি। ভর্তি হইছি, কিন্তু কোন সিট খালি পাইলাম না। তাই বাধ্য হইয়া ওয়ার্ডের সামনে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছি। এ রোগীর মেয়ে হোসনে আরা বলেন, ওয়ার্ডে জায়গা না হওয়ায় চিকিৎসা নিতে বারান্দায় আছি তিন দিন ধরে।
একই ওয়ার্ডের সালমা আক্তার নামে আরেক রোগী ভর্তি চারদিন ধরে। তিনি জানান, এখানে কোনো বিছানা নাই। নিজেদের পাটি নিয়ে আইসে থাকতে হয়। তাও অনেক সমস্যা। এক পাটির ভেতরে দুই-তিনজন আইসে বইসে থাকে। ফ্লোর অনেক শক্ত। আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।’
গাইনি ওয়ার্ডের নার্স ইনর্চাজ নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলার প্রায় ৯০ লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য ভরসার জায়গা এই শের-ই-বাংলা মেডিকেল। হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা এক হাজার। কিন্তু এর অবকাঠামো উন্নত নয়। তবুও প্রতিদিন এখানে গড়ে চিকিৎসা দিতে হয় প্রায় দুই হাজার রোগীর।
বরিশালের আশপাশের এলাকা যেমন মাদারীপুর, ফরিদপুরের রোগীও এখানে আসেন। তাই এখানে সমস্যার শেষ নেই। নিলুফা আরো বলেন, রোগী বেশি হওয়ায় চিকিৎসক নার্সদেরও ভোগান্তি আছে। জানা গেছে, গাইনি ওয়ার্ডের ৪৮টি শয্যার বিপরীতে রোগী থাকে ১২০ জন। তিন শিফটে ১৮ জন নার্স দায়িত্ব পালন করে। এত রোগীর চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্টদের। শুধু গাইনি ওয়ার্ড নয়, হাসপাতালটির পুরুষ ও শিশুসহ অন্যান্য ওয়ার্ডের চিত্র একই রকম।
হাসপাতালের প্রথম তলায় শিশু ওয়ার্ডে ৫০টি শয্যা থাকলেও ভর্তি রয়েছেন ৮৫ জন। অন্য সময়ে শতাধিক রোগী থাকে। শয্যা না থাকায় শিশুদেরও মেঝেতে রাখতে হয়েছে। বেতাগী থেকে আসা আশরাফুল নামে এক রোগীর বাবা বলেন, ‘তার ছয় বছর বয়সী ছেলে অনেক অসুস্থ। দুইদিন ধরে শয্যা পাইনি। রোগ মুক্তির আশায় হাসপাতালে এসে আরো রোগাক্রান্ত হয়ে যাচ্ছি আমরা।’
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কাগজে কলমে হাসপাতালটি ১ হাজার শয্যা হলেও বাস্তবে এর জনবল ৫শ’ শয্যা হাসপাতালের। ২২৪ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও অছেন ১৮২ জন।
শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মনিরুজ্জামান শাহিন বলেন, ৩৬০টি শয্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটিতে ২ হাজার রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। এখানে চিকিৎসকসহ অন্যান্য জনবল সংকট। এ কারণে রোগীদের সেবা দিতে অসুবিধায় পড়তে হয়। তিনি জানান, হাসপাতালটি ৩ হাজার শয্যায় উন্নীত করণের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা রয়েছে। আবেদন পাস হলে এসব সংকট নিরসন হবে।
আরজেএন