ঢাকা বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বাংলাদেশে ইয়াবা আসক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভয়ঙ্কর তথ্য এনসিপির গাড়িবহরে ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, সারজিসসহ আহত অনেকে বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানম নাসরীনের পিতাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন বিএম কলেজ অধ্যক্ষ  জাপানে ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে শপিংমল, বহু হতাহতের শঙ্কা ভোলায় ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার সাড়ে ৭ বছরে সড়কে ঝরেছে ৭৩৬৪ জন শিক্ষার্থীর প্রাণ ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনে নির্দেশ হাইকোর্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, দিনক্ষণ ঠিক হয়নি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী  কৃষিবান্ধব সরকার কৃষকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিবে: এমপি হাফিজ ইব্রাহিম 
  • লোডশেডিং ও মশার উপদ্রবে ত্রাহি অবস্থা রোগী ও চিকিৎসকদের

    বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের জেনারেটর তিন বছর ধরে অচল

    বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের জেনারেটর তিন বছর ধরে অচল
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    বিদ্যুৎ গেলে ঠিক যেন নরকে পরিণত হয় ১০০শয্যা বিশিষ্ট বরিশাল সদর জেনারেল হাসপাতাল। ভুক্তভোগীরা বলছেন, একদিকে মারাত্মক ভ্যাপসা গরম অন্যদিকে ঘন ঘন লোডশেডিং। 

    বিদ্যুৎ গেলে হাতপাখার ওপরই ভরসা করতে হয়। সাথে আছে মশার উপদ্রব। বড় এই হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটরটি তিন বছর ধরে অকেজো হয়ে থাকায় রোগী, চিকিৎসক ও নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। 

    হাসপাতালের রোগীরা জানিয়েছেন, অসহনীয় ভ্যাপসা গরম ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে দিনের চেয়ে রাতে বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে।  

    বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে নার্স, চিকিৎসক ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।   

    মেডিকেল অফিসের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে ৪০ কেভির অত্যাধুনিক শক্তিশালী জেনারেটর থাকলেও ৩ বছর নষ্ট। জেনারেটরটি মেরামতে একাধিক বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এই  ভ্যাপসা গরমে হাতপাখাই ভরসা রোগীদের। পালাক্রমে এভাবে বাতাস দিতে দিতে ক্লান্ত রোগীর স্বজনরা। পাশাপাশি মশার উপদ্রব তো আছেই। কয়েল জ‍্বালালেও মশা মড়ে না। একই অবস্থার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন নার্স ও চিকিৎসকরা।

    হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি সদর উপজেলার চরআবদানির বাসিন্দা মোর্শেদ হোসেন বলেন, রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালটি মনে হয় নয় ভূতের বাড়ি। এতো বড় হাসপাতালে বিদ্যুৎ গেলে বিকল্প ব্যবস্থা থাকবে না, তা ভাবাই যায় না।

    বাবুগজ্ঞ উপজেলার মাধবপাশা গ্রামের সৌরভের সঙ্গে থাকা তার মা আছিয়া খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখানে সুস্থ মানুষ থাকলে অসুস্থ হয়ে যাবে। আজ প্রায় ৫-৬ দিন ছেলেকে নিয়ে এখানে রয়েছি। রাতে কারেন্ট চলে গেলে খুবই কষ্ট হয়। সেদিন রাতে অন্ধকারে আমাদের খাবার বিড়ালে খেয়ে গেছে’।

    মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি  শায়েস্তাবাদ এলাকার অনিতা বিশ্বাস বলেন, ‘বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো ওয়ার্ডটি অন্ধকার হয়ে যায়। তখন আমরা সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীনতায় থাকি’।

    একই অবস্থা ডায়েরিরা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীদেরও। তাদেরও একই ধরনের অভিযোগ।

    এই ওয়ার্ডের নার্স ইনচার্জ অর্চনা রানী বলেন, প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরমে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৪ ঘন্টায় ৩২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত ১৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা চলছে। বিদ্যুৎ গেলে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় রোগী ও আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।

    জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, ‘বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগী দেখতে আমাদের ভীষণ অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে’। জেনারেটর থাকলেও সেটি দীর্ঘ বছর ধরে মেরামতের অপেক্ষায় পরে রয়েছে। মেরামতের জন্য তাগিদ দেয়া হেলেও কাজে আসছে না। তাই বিদ্যুতের উপর নির্ভর থাকতে হচ্ছে। 


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ