বাঙালি সংস্কৃতির ক্যানভাসে ব্যতিক্রমী উন্নয়ন হবে, ভাবছেন নগরবাসী
-64524fe3783e83.jpeg)
অতঃপর আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত জনগণের ভোটের রাজনীতিতে তিনিও যে রাজনৈতিক পরিবারেরই একজন যোগ্য উত্তরসূরী, এযাবত সেটাই প্রমাণিত হল। বংশ পরম্পরায় ভাগ্নে হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্ত তার ধমনীতে প্রবাহিত। তিনি আবহমান বাংলার কৃষকক‚লের নয়নের মণি সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের সন্তান এবং প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই। পারিবারিক সুনামের ভিত্তিতে তিনি এখন আমাদের নগর পিতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
বর্তমান মেয়রের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রার্থী পরিবর্তন করেছেন। সেখানে বেছে নিয়েছেন একই পরিবারের আরেক সদস্য খোকন সেরনিয়াবাতকে। বরিশালের রাজনীতিতে তিনি অপরিচিতই ছিলেন। নিজের পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন খুলনায়। শৈশবের প্রায় ১৭ বছর তার নেতৃত্ব গুণাগুণ তৈরি হয়েই ছিল পিতার সংস্পর্শে। মনোনয়ন বদলের কারণে কিছুটা ওলট-পালট মনে হয়েছিল বরিশালের রাজনৈতিক দৃশ্যপটও।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাত্রির হত্যাযজ্ঞ থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া স্বজনের রক্তভেজা দুঃসহ জীবনের মাঝে ডুবে থেকেও বরিশালের নগর পিতা হিসেবে খোকন সেরনিয়াবাত এখন নিজেকে যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চলেছেন। প্রায়শই তার ওপরও রাজনৈতিক চাপ ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার হুমকি ছিল। ফলে পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে এই মানুষটিকেও পার করতে হয়েছে আরো এক ট্র্যাজেডিময় জীবন।
তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাকেও দেশ ছাড়তে হয়েছে। কিন্তু অসম সাহসী মনোবলের কারণে অনেক বড় বড় বিপর্যয়ের মধ্যেও ভেঙে পরেননি। যদিও সেনা শাসক জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মতো কোনও আমলেই প্রকাশ্যে আসেননি খোকন সেরনিয়াবাত। অথচ রাজনীতির মাঠে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই নিজের মেধা দিয়ে উঠে আসছেন। হয়তো অচিরেই তিনি বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গন দ্বিধাবিভক্তি থেকে কলুষমুক্ত করবেন। শুধু তাই নয় তার নেতৃত্বে বরিশালের আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের সকল কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হবে। একই সঙ্গে তিনি বাঙালি সংস্কৃতির বিশাল ক্যানভাস জুড়ে বরিশাল নগরীর ব্যতিক্রমী উন্নয়নে প্রতি গুরুত্ব দেবেন বলে আশা করছেন নগরবাসী।
লেখক : কবি ও দৈনিক মতবাদের যুগ্ম সম্পাদক।
আরজেএন