বরিশালের কোনো হাসপাতালে নেই বৈকালিন স্বাস্থ্যসেবা

বাহিরে ডাক্তারের চেম্বারে দেহাইন্নার সামর্থ্য নাই। হুনছি সরকারি হাসপাতালে বৈকালিক চিকিৎসা সেবা চালু করেছে সরকার। তাই আইছিলাম ডাক্তার দেহাইতে। কিন্তু আইয়া হুনি এই হাসপাতলে ঐ সেবা চালু হয় নাই।
গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৈকালিন চিকিৎসা নিতে আসা সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুরের বাসিন্দা সালেহা বেগম (৫৫) প্রতিবেদকের কাছে এমনই আক্ষেপ করে কথাগুলো বলেছেন। তিনি বলেন, বড় ডাক্তাররা চেম্বারে বেশি ভিজিট পায় হেই কারণে সরকারি হাসপাতালে বিকেলে বয় না, আমাগো মতোন রোগী হেরা দেখলে কি আর না দেখলেই কি?
শুধু সালেহা বেগমই নয়, সদর হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় রহমত পুরের বাসিন্দা লিটন নামে এক রোগীর সাথে। তিনি বলেন, ভাই বৈকালিন চিকিৎসা সেবা পেতে আইছিলাম। হাসপাতালে এক ঘন্টা ঘুইরা বিকেলে কোন ডাক্তার পেলাম না। জানতে পারলাম এই হাসপাতালে বৈকালিন চিকিৎসা সেবা নাকি চালুই হয়নি।
এই রোগীর কথার সত্যতা জানার সরেজমিনে হাসাপাতালটির জরুরি বিভাগ ও অনুসন্ধান কেন্দ্রের কর্তব্যরত নার্স অনিতার কাছে জানতে চাইলে বলেন, এ বিষয়ে তার জানা নেই। তিনি বলেন, বৈকালিন চিকিৎসা সেবা এখানে হয়না। তবে জরুরি চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সমিষ্ট ম-ল বলেন, সরকারিভাবে বৈকালিন সেবা চালু হয়েছে। কিন্তু এই হাসপাতালে এখন পর্যন্ত এই কার্যক্রম শুরু হয়নি। যতদুর জানতে পেরেছি এখানে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। এ কারণেই এই সেবা চালু হয়নি।
এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, বৈকালিন সেবা এই হাসপাতালে এখনো শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে শেবাচিম হাসপাতালের সহকারি পরিচালক মনিরুজ্জমান বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে কোন নির্দেশনা না থাকায় বৈকালিন সেবা চালু করা হয়নি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩০ মার্চ ‘সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের বৈকালিন চেম্বার’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ১২টি জেলায় এবং ৩৯টি উপজেলায় এ চিকিৎসাসেবায় অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সিনিয়র কনসালটেন্টরা বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রোগী দেখবেন। এ জন্য একজন অধ্যাপকের ফি ৫০০ টাকা, সিনিয়র কনসালটেন্ট পাবেন ৩০০ ও সহকারী অধ্যাপক পাবেন ২০০ টাকা। তাকে যারা সহযোগিতা করবেন, তারা পাবেন ৫০ টাকা করে।
আরজেএন