প্রচারণার শেষ মুহূর্তে স্বতন্ত্র প্রার্থী মেয়র প্রার্থী রুপণের ইশতেহার ঘোষণা

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী হলে নগর উন্নয়নের ইশতেহার ঘোষণা করেছেন টেবিল ঘড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপণ। শনিবার দুপুর ২টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে ৩০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।
এসময় নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকা, নৌকার প্রার্থীকে বিশেষ সুবিধা প্রদান, কর্মীদের গ্রেফতার, ভোটারদের হুমকি এবং আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির পক্ষে বিএনপির পদধারী নেতাদের কাজ করার অভিযোগ করেন রুপণ।
কামরুল আহসার রুপণ বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক বিএনপির মেয়র আহসান হাবিব কামালের পুত্র। নির্বাচনে প্রতিদ্বদ্বিতা করায় সম্প্রতি বিএনপি থেকে তাকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করা হয়। যদিও এই বহিস্কারের বিষয়টি ষড়যন্ত্রবলে দাবি করেছেন রুপণ।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে কামরুল আহসান রুপণ বলেন, ‘আমার পিতা বরিশালের সাবেক সফল মেয়র মরহুম আহসান কামাল দীর্ঘদিন নগরবাসীর সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর নীতি আদর্শ বুকে ধারণ করে আপনাদের সেবক হিসাবে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারার কাঙ্খিত উদ্দেশ্য নিয়ে আমি স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হয়েছি।
পারিবারিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রাপ্ত নীতি আদর্শের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে নগরবাসীর দুঃখ, দুর্দশা লাঘব করে সবার মুখে প্রশান্তির হাসি ফুটাতে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমি শতভাগ নিষ্ঠা, সততা ও অর্জিত মেধা দিয়ে একটি আধুনিক পরিবেশ বান্ধব, ডিজিটাল, মানবিক নগর উপহার দিতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হবে আমার মূল কর্মপ্রেরণা।
এসময় তিনি নির্বাচিত হলে নগর উন্নয়নে ৩০ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন। ইশতেহারগুলো হলো, বরিশাল সিটি করপোরেশনকে মানবিক ও সবুজ নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ, সাধারণ নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষা ও জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ত্রৈমাসিক মেয়রের জবাবদিহিতা, নগরবাসীর অধিকার” কর্মসূচি চালু করা, সিটি করপোরেশনকে সম্পূর্ন দূর্নীতিমুক্ত ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা, নগরীর হাট বাজারের ইজারা, সিটি করপোরেশনের দরপত্র ও সম্পদ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা।
সাধারণ জনগণের ওপর বাড়তি পৌরকর আরোপ না করা ও যাদের উপর অধিক কর ধার্য্য করা হয়েছে তা পুনরায় নির্ধারন করা হবে, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও আধুনিকায়ন করা, প্রতিটি ওয়ার্ডে যথাসময়ে বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারন করে নগরকে পরিস্কার ও দুষণমুক্ত রাখা এবং আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মান ও নগরী থেকে ময়লাখোলা অন্যত্র স্থানান্তর করা, পানযোগ্য সুপেয় পানি ব্যবস্থাপনায় পানি শোধনাগার চালুসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা ও অনুমোদিত ডিপ টিউবলে সিটি করপোরেশনে যে অর্থ জমা দেয়া হয় তা বাতিল করা হবে।
জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে বরিশাল নগরীর প্রতিটি খাল দখলমুক্ত করে প্রবাহমান পানির সুষ্ঠু চলাচল নিশ্চিত করা, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা অর্থাৎ নগরীর প্রতিটি সড়ক ও ড্রেন জনগণের চাহিদা ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সর্বাধুনিক উপায়ে নির্মাণ করা, সুষ্ঠু সড়ক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসাবে নগরীর সকল ব্যাটারী চালিত যানবাহনগুলোকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা ও ফুট ওভার ব্রীজ নির্মাণ করা, প্রতিটি সড়কে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন সড়কবাতি স্থাপন করা।
সাধারণ জনগনের নিরাপত্তা ও নগরীর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আধুনিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা, নগরীতে সৌন্দর্য্য বর্ধনে স্থাপনা নির্মাণ করা, ইভটিজিং ও মাদকমুক্ত নগরী গড়ার লক্ষ্যে আন্তরিক প্রচেষ্টা ও যুদ্ধ ঘোষণা করা, অস্বচ্ছল নারীদের কর্মমুখী কারিগরী শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে সাবলম্বি করা, নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নগর মাতৃসদন হাসপাতাল আধুনিকায়ন করা, প্রতিটি ওয়ার্ডে সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অংশগ্রহণে মাসিক মেডিকেল ক্যাম্প চালু করা।
সকল ধর্মের মানুষের সমান ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের সম্মানী ভাতা বৃদ্ধিসহ পবিত্র মাহে রমজানে নগরীর প্রতিটি মসজিদ ও মাদরাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহবোডিং এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপসানালয়গুলোতে স্ব স্ব ধর্মীয় অনুষ্ঠান সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে করা, মৃত ব্যক্তির দাফন কার্য্যে সহায়তার জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পরিবহন সুবিধার ব্যবস্থা করা। নগরীর মধ্যে কোন বেওয়ারিস লাশ যদি পাওয়া যায় তবে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা হবে।
বয়স্ক ও প্রতিবন্ধিদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, নগরীর মেধাবী ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বাৎসরিক শিক্ষা ভাতা ও বৃত্তি চালু করা, তরুণ বেকার যুবক-যুবতীদের কারিগরী ও তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক প্রশিক্ষন প্রদান করা ও সিটি করপোরেশনে “আইসিটি ও আউটসোর্সিং সহায়তা কেন্দ্র” সেল প্রতিষ্ঠা করা, হকারদের পূনর্বাসন ও হোলিডে মার্কেট চালু করা, অনুন্নত কলোনী ও বাস্তুহারাদের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অগ্রাধীকার ভিত্তিতে রাস্তাঘাট, সুপেয় পানি, উন্নত পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
বর্ধিত এলাকায় জনগণের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়কবাতিসহ সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা, মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী জাতির বীর সন্তানদের পৌরকর ও পানির বিল সম্পূর্ন মওকুফ করা, দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ পূনরুদ্ধার করা ও বিশেষ অঞ্চল ভিত্তিক শিশু পার্ক নির্মাণ করা এবং সবশেষ বিসিক শিল্পনগরীর আধুনিকায়নসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করবেন বলে ইশতেহারে উল্লেখ করেন তিনি।
ইশতেহার ঘোষণা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন কামরুল আহসান রুপণ। তিনি বলেন, আমি নির্বাচনে বেশ সাড়া পেয়েছি। তবে বিএনপির একটি পক্ষ নৌকা এবং লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন রুপণ বলেন, নৌকার মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ্ বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিনের সম্পর্কে দুলাভাই। এ কারণে তার পক্ষে কাজ করছেন শিরিন। নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য বলছেন। এর তথ্য প্রমাণও আমার কাছে আছে।
তাছাড়া লাঙ্গল প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর ভাই এইচএম তসলিম উদ্দির যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা। বরিশাল জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তিনি। তিনিও তার লোকেরা লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে কাজ করছে। আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে বিএনপির একটি পক্ষ। তবে তার পরেও আমি একেবারে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবো। কারণ আমি বিএনপি পরিবারের সন্তান। বিএনপির বৃহৎ অংশ আমার সাথে আছে। আমি যে ভোট পাবো বলে প্রত্যাশা করছি তার ৪০ ভাগ ভোট বিএনপির বলেও দাবি জানানা তিনি।
এইচকেআর