তীরে এসে তড়ি ডুবলো সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মান্নার

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাত্র চারদিন আগে আবারো প্রার্থীতা বাতিল হয়ে গেলো মহানগর ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক আহ্বায়ক ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী রইজ আহমেদ মান্নার।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কারাগারে থাকা মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশ দেয় উচ্চ আদালতের এপিলেড ডিভিশন। তবে মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েছেন তার বড়ভাই মুন্না।
এর আগে গত ১৮ মে ঋণখেলাপি, তথ্যে গরমিল ও সশরীরে মনোনয়নপত্র দাখিল না করায় রইজ আহমেদ মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলো নির্বাচন কমিশন। পরে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছিলেন তিনি।
জানা গেছে, ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বদ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহণ করেন মান্না ও তার ভাই মুন্না। এর পরপরই নৌকার কর্মীদের মারধরের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় মান্নাসহ ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাইয়ে মান্না ও তার ভাই মুন্নার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তারা দুই ভাই বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে বড় ভাই মুন্না প্রার্থীতা ফিরে পেলেও মান্নার মনোনয়ন অবৈধই থাকে যায়।
পরবর্তীতে পরে হাইকোর্টে আপিল করে প্রার্থীতা ফিরে পান কারাগারে থাকা রইজ আহমেদ মান্না। তার নির্বাচনী প্রতীক দেয়া হয় “ঘুড়ি”। মান্না কারাগারে থাকলেও তার পক্ষে প্রচার প্রচারণায় চালিয়ে যান তার পরিবার এবং অনুসারী নেতা-কর্মীরা। তারা প্রচার-প্রচারণায় মাঠপর্যায়ে সম্ভাবনা সৃষ্টি করেন। ঠিক সেই মুহুর্তে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ মেলে মান্নার মনোনয়নপত্র পুনরায় বাতিল হওয়ার।
হাইকোর্ডের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল জানান, ‘হাইকোর্টের এপিলেড ডিভিশন বৃহস্পতিবার দুপুরে রইজ আহমেদ মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে। তাছাড়া মান্নার বড়ভাই মুন্নাও স্বীকার করেছেন মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিলের তথ্য।
এর আগে আওয়ামী লীগের নৌকার কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে গ্রেফতারের পর মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক পদ হারান রইজ আহমেদ মান্না। ঘটনার একদিন পরেই ভেঙে দেয়া হয় মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি।
অপরদিকে, আদালতে থাকা মান্না গত মঙ্গলবার উচ্চ আদাল থেকে জামিন লাভ করেন। বুধবার কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার কথা ছিলো তার। কিন্তু মুক্তির আগেই উচ্চ আদালতের এপিলেড ডিভিশন তার জামিন আবেদন বাতিল করে দেয়। এর একদিন পর বৃহস্পতিবার বাতিল করা হয় তার প্রার্থীতা।
প্রসঙ্গত, আগামী ১২ জুন ১২৬টি কেন্দ্রের ৮৯৪টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ৫৮ বর্গকিলোমিটারের এই নগরীতে মোট ভোটার ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৯৮ জন। তাদের মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০৯ জন ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৮৯ জন।
এইচকেআর