‘ভোট আইলে শুধু উন্নয়নের কথা কয়, ভোট গ্যালে খবর নাই’

ভোটের সময় আইলেই জন দরদী হইয়া প্রার্থীরা মোগো খোঁজ নেতে আয়, উন্নয়নের নানা কথা কয়, কিন্তু ভোট হইয়া গ্যালে আর খবর নাই। নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর জাগুয়া এলাকার বাসিন্দা রাহিমা বেগম প্রতিবেদকের কাছে এমন আক্ষেপ করে কথাগুলো বলেন।
তিনি বলেন, গ্রামের আত্মীয় স্বজনরা সবাই আমাগো সিটিতে থাহি বলে খোঁচা মারে। মোরা কিসের সিটিতে থাহি। এউক্যা রাস্তা হেই কবে হিরন মেয়া কইর্যা থুইয়া গ্যাছে। এরপর আর কেউ এইডারে ঠিক করে নাই। এহন তো এই রাস্তায় পায় হাইট্টা চলাও কঠিন।
শুধু রাহিমা বেগমই নয়, একই এলাকার ষাটোর্ধ্ব বিধবা নারী কুলসুম বেগম বলেন, আবার নির্বাচন আইছে। সারাদিন খালি মানুষ আসে ওমুক মার্কা-তমুক মার্কায় ভোট দেয়ার কতা কয়। ভোট দিলে নাকি মোগো এহানে কাম করবো। হেগো মতো আগেও অনেক মার্কা লইয়া মানুষ আইছিল, ভোট হওয়ার পর এহন আর আয়না। তিনি বলেন, মোগো এহানে মুইসহ কয়েকজন বয়স্ক ও বিধবা নারী আছে। আছে বয়স্ক পুরুষও। কিন্তু সব মিলাইয়া মোগো এহানে একলগে ২২ পরিবারের কহনো বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার কিছুই পায় না। চেয়ারম্যান (কাউন্সিলর) ও হ্যার অফিসের কারো কাছে গিয়ে চর জাগুয়ার কথা কইলে আর কথা হোনতে চায় না। মোরা পইরা রইছি আগের মতোই। কোন কামই কেউ করে নায়।
জানা গেছে, চর জাগুয়া সড়কের দুইপাশে ৪০টির মতো পরিবারের বসবাস। যারা কাগজে-কলমে সবাই নগরীর বাসিন্দা। কিন্তু কার্যত তাদের নগরী থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে সুগন্ধা নামের একটি নদী। আর এর চারপাশে রয়েছে ঝালকাঠির নলছিটির দপদপিয়া ইউনিয়নের তিমিরকাঠি গ্রামের জায়গা। বিচ্ছিন্ন জনপদের বাসিন্দা হওয়ায় খাজনা, নগর কর দিয়েও এখানকারবাসী বাস্তবতায় বরিশাল সিটির প্রায় সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির বলেন, অধিকাংশ এলাকায় উন্নয়ন কাজ করেছি। যেগুলো হয়নি তা মেয়র ভালো বলতে পারবেন।
এদিকে চর জাগুয়া ছাড়া বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে নগরীর ২৪, ২৫, ১১, ১২, ৯ নম্বরসহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে ঘুরে বাসিন্দারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সাধারণ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে কাউন্সিলর স্ব স্ব প্রার্থীরা। কিন্তু তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা সত্য, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে ওই সকল ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের।
জাহিদ, রনি, মিন্টুসহ একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, এই কাজ ওই কাজ করা হবে বলে আমাগো সাথে প্রতারণা করে প্রার্থীরা। নির্বাচনে বিজয়ী হলে তারা মূলত নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতেই ব্যস্ত থাকেন। নাগরিকদের সমস্যা দূর করতে তাদের কোনো চিন্তা নাই। সারাবছরই ভাঙাচেরা রাস্তা, মশা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে। তাই এখন প্রতিশ্রুতি নয়, যার দ্বারা উন্নয়ন হবে, বুঝে শুনে তাকেই ভোট দিব।
১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এটিএম শহিদুল্লাহ কবির বলেন, সব মানুষই কি ভালো বলে, অনান্য কাউন্সিলরের চেয়ে এই ওয়ার্ডে বেশি উন্নয়ন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আগামী ১২ জুন। এবারের নিবার্চনে মেয়র পদে ৭ জন, সাধারণ কাউন্সিলর ১১৬ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ১০টি পদে ৪২ জন প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন।
এইচকেআর