২০০০ টাকা কর নিয়ে চিন্তিত সাধারণ মানুষ

অসুস্থ স্বামীর ব্যবসায়িক ৩ লাখ টাকা পারিবারিক সঞ্চয়ী হিসাব শাখায় রাইখাছিলাম। হেআন দিয়া (সেখান থেকে) মাসে ২ হাজার ৫৮০ টাকা লাভ পাই। মাসে না নিয়া ৫ মাস পর আইয়া ১২ হাজার ৯০০ টাকা তুইল্লা নেই। এই টাহা দিয়া স্বামী আর তিন সন্তান নিয়ে অনেক কষ্ট কইরা চলি। হের মধ্যে টিভিতে হুনছি সরকার কর ২০০০ হাজার টাকা বাধ্যতামূলক করেছে। এই খবর হুইন্না এহন কি করমু ভাইব্বা পাইনা।
সোমবার সকালে বরিশাল পোস্ট অফিসে এ প্রতিবেদকের কাছে এমন আক্ষেপের কথাগুলো বলেন পারিবারিক সঞ্চয়ের টাকা তুলতে আসা কাউনিয়ার বাসিন্দা সালমা বেগম। তিনি বলেন, বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম, হেইয়া কিন্না খাইতেই কষ্ট হইয়া যায়। সংসার চালামু, না কর দিমু, কিছু বুঝতে পারছি না।
শুধু সালমা বেগমই নয়, একই কথা বলেছেন সদর রোডে ২২ বছর ধরে মোবাইল ব্যাকিংয়ের ব্যবসা করে আসা জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে পলাশপুরে ভাড়া বাসা থেকে বসবাস করে আসছি। এই ব্যবসাই আমার আয়ের একমাত্র সম্বল। এক লাখ টাকা বিকাশ করতে পারলে ৪০০ টাকা পাই। এছাড়া অন্যান্য ফ্লেক্সিলোড ও সিম বিক্রি করে প্রতিমাসে সব মিলিয়ে ১২ হাজার টাকার মতো আয় হয়। এই টাকা দিয়া বর্তমান বাজারে সংসার চালাইতে হিমশিম খাচ্ছি।
এর মধ্যে ঘর ভাড়া, ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ। বাধ্য হয়ে স্ত্রীও কাজে নেমে পড়েছে। ফুটপাতে ব্যবসা করে সিটি করপোরেশনে ট্রেড লাইসেন্স করেছি। ১৪০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে বর্তমানে ২২০০ টাকা ট্রেড লাইন্সেসের ফি দিতে হচ্ছে। আমাগো মতোন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর দিতে হবে, এখন মরা ছাড়া আর কোন উপায় দেখছি না।
রূপাতলী এলাকায় ২৫ বছর ধরে চা বিক্রি করে আসা জসিম বলেন, প্রতিদিন চা ও অন্যান্য মালামাল বেইচা ৪০০ টাকা মাসে ১০ হাজার টাকা লাভ করতেই কষ্ট হয়ে যায়। তারপরও পরিবার লইয়া দু মুঠো ডাল ভাত খাইয়া বেঁচে আছি। এহোন আবার কর দিতে হবে, কেমনে যে কি করমু? আমাগো দিক সরকার একটু তাকাইবে না। একই এলাকার ফুটপাতে চা বিক্রেতা কালাম, সুজন ও মোবাইল ব্যাকিং ব্যবসায়ি আরিফ মাতুব্বর সরকারের কাছে করের টাকা কমিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বরিশাল কর কমিশন (চলতি দায়িত্ব) সরোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, সরকার নির্ধারিত কর না দিলে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা, ব্যাংক হিসাব অনুসন্ধান ও পরে মামলা দেয়ার বিধান রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১ জুন ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে টিনধারী ব্যক্তিকে রিটার্ন জমা দেয়ার সময় কমপক্ষে দুই হাজার টাকা কর দিতেই হবে। সেক্ষেত্রে তার করযোগ্য আয় না থাকলেও। এছাড়া "করমুক্ত সীমার নিচে আয় রয়েছে অথচ সরকারী সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে এমন সকল করদাতার ন্যূনতম কর দুই হাজার টাকা করার প্রস্তাবনা রেখে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
আরজেএন