ঢাকা বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বাংলাদেশে ইয়াবা আসক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভয়ঙ্কর তথ্য এনসিপির গাড়িবহরে ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, সারজিসসহ আহত অনেকে বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানম নাসরীনের পিতাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন বিএম কলেজ অধ্যক্ষ  জাপানে ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে শপিংমল, বহু হতাহতের শঙ্কা ভোলায় ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার সাড়ে ৭ বছরে সড়কে ঝরেছে ৭৩৬৪ জন শিক্ষার্থীর প্রাণ ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনে নির্দেশ হাইকোর্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, দিনক্ষণ ঠিক হয়নি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী  কৃষিবান্ধব সরকার কৃষকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিবে: এমপি হাফিজ ইব্রাহিম 
  • ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে নির্বাচনী মাঠ, বাড়ছে সহিংসতা

    ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে নির্বাচনী মাঠ, বাড়ছে সহিংসতা
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    আর মাত্র ৮দিন পরেই বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী উত্তাপ ততই বাড়ছে। সাম্প্রতিক প্রতিদিনই কোন না কোনো ওয়ার্ডে ঘটছে প্রার্থী এবং সমর্থকদের মধ্যে হামলা, সংঘর্ষসহ সহিংস ঘটনা।

    স্থানীয়রা বলছে, ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের একাধিক প্রার্থী থাকায় তাদের মধ্যেই এই সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। তবে সহিংসতা নিজেদের মধ্যে হলেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে নৌকা প্রতীককে। গতকাল রোববার নগরীর দুটি ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীন দলের কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। 

    দুপুর আড়াইটায় নগরীর চান্দুর মার্কেট এলাকায় নিজ নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী এবং একই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাফিন মাহমুদ তারিক। এতে তিনি অভিযোগ করেন, রোববার সকালে তার পাঁচজন নারী কর্মী নৌকা এবং ঘুড়ি প্রতীকের প্রচারণায় বের হন। তারা ধানগবেষণা রোড এলাকায় ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিসুর রহমান শরীফ ওরফে আনিস শরীফের পুরান বাড়িতে ভোট চাইতে যান। এসময় কাউন্সিলর আনিস শরীফের ভাই এবং চরমোনাই’র মুজাহিদ কমিটির সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মোহন শরীফ তাদের ঘরে ডেকে নিয়ে হাতপাখা প্রতীকে ভোট চাইতে বলেন।

    সাফিন মাহমুদ তারিক বলেন, ‘দুপুরের দিকে আমি আমার ছেলেসহ ৪-৫ জন পুনরায় ওই এলাকায় গণসংযোগ করতে গেলে আনিস শরীফের ভাই মোহন শরীফ, বজলু শরীফ, অপি শরীফ, সাইফুল শরীফ এবং শামীম হাওলাদারসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ধাওয়া করে। এমনকি আনিস শরীফ নিজেও সেখানে উপস্থিত হয়ে নৌকার পোস্টার ছেঁড়ার অপবাদ দিয়ে আমার লোকেদের মারধর করে।

    এসময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় ছেলেসহ আমি রক্ষা পেলেও আমার কর্মী চাঁন খাঁ ও আজিম হাওলাদারকে আটকে রেখে মারধর করে একটি মোটরসাইকেল রেখে দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে আহত অবস্থায় ওই দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

    তবে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর এবং আসন্ন নির্বাচনে ঠেলাগাড়ি প্রতীকের প্রার্থী আনিসুর রহমান শরীফ।
    ধানগবেষণা সড়কে নিজ বাড়িতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সাফিন মাহমুদ তারিক নৌকার বিপক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে নিজের নির্বাচনের প্রচার করছে। রোববার দুপুরের দিকে তারিক নিজে লোকজন নিয়ে এসে নৌকা প্রতীকের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। বিষয়টি আমার লোকেরা দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। এসময় স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া দিলে তারিক লোকজন নিয়ে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় একটি মোটরসাইকেল ফেলে যায় তারা।

    খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। এই ঘটনায় মামলা করবেন বলেও জানান আনিস শরীফ।
    অপরদিকে, নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী শাকিল হোসেন পলাশকে পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি, মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রিয়াদ হোসেন সাজনের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। রোববার দুপুরে নগরীর রিফিউজি কলোনিতে পলাশের নির্বাচনী কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। এসময় নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানান পলাশ। এর প্রতিবাদে পুলিশ কমিশনার কার্যালয় ঘেরাও করে পলাশের সমর্থকরা। এসময় বিক্ষুব্ধরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

    শাকিল হোসেন পলাশ জানান, দুপুরে নগরীর রিফিউজি কলোনিতে তার নির্বাচনী কার্যালয়ে মোটরসাইকেলযোগে আসেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ঠেলাগাড়ি প্রতীকের রিয়াদ হোসেন সাজনের অনুসারী বাবুনীসহ কয়েকজন। হঠাৎ করেই টেবিলের ওপর রাখা টিফিন ক্যারিয়ার দিয়ে আমাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে আমাকে পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর করে।

    তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, ‘পলাশের সাথে সাবেক কাউন্সিলর নাসিরের বিরোধ হয়। এসময় পলাশকে মারধর করে নাসির। এ নিয়ে তাদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই নাসিদের ভাতিজা বাবু ও তার লোকেরা মারধর করেছে শাকিল হোসেন পলাশকে।

    এর আগে একই ওয়ার্ডে আগের রাতে সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী কামরুন্নাহার রোজীর প্রচার মাইক ও গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে।
    এর আগে শুক্রবার রাতে নগরীর বান্দরোডে পাবলিক লাইব্রেরি সংলগ্ন মাঠে ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী জয়নাল আবেদীন ও এটিএম শহিদুল্লাহ কবিরের লোকেদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং চেয়ার ভাঙচুর হয়। এ নিয়ে পরদিন শনিবার সংবাদ সম্মেলন করেন জয়নাল আবেদীন। তাছাড়া শনিবার দুপুরে নগরীর পলাশপুর এলাকায় এক কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে অপর প্রার্থীর সমর্থককে আটক করতে গিয়ে বস্তিবাসীর রোষানলে পড়তে হয় পুলিশকে।

    এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের নির্বাচনের প্রধান এজেন্ট মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আফজালুল করীম বলেন, ‘ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিজেদের আধিপত্য দেখানোর জন্য একে অপরের সঙ্গে বিরোধে জড়াচ্ছে। এ নিয়ে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও এখানে নৌকার কোন সম্পৃক্ততা নেই।  
    অপরদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন সহিংসতা যাতে এড়ানো যায়, সে বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি।  


    আরজেএন
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ