বরিশাল সিটি নির্বাচন: প্রতীক পেয়ে আনুষ্ঠানিক জনসংযোগে প্রার্থীরা

প্রতীক পেয়ে আনুষ্ঠানিক নির্বাচন প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীরা। শুক্রবার সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রতীক নিয়ে প্রচারণায় নেমে পড়েন তাঁরা। এমনকি প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে যাচ্ছে নগরীর অলিগলি। ছন্দে আর গানে-গানের তালে তালে চলছে মাইকিং।
এদিকে, প্রতীক পাওয়ার পর সকল মেয়র প্রার্থী ১২ জুন অনুষ্ঠিতব্য বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিজয়ের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সাংবাদিকদের কাছে। তাঁরা সদ্য অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো একটি সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এর আগে শুক্রবার সকালে নগরীর কাশিপুর এলাকায় বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও পেয়েছেন তাদের পছন্দের প্রতীক।
নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত ‘নৌকা’, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস ‘লাঙ্গল’, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম ‘হাতপাখা’ এবং জাকের পার্টির মেয়র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমানের হাতে দলীয় প্রতীক ‘গোলাপ ফুল’ তুলে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ছাত্রদল নেতা কামরুল আহসান রূপণ গাজীপুর সিটি করপোশেন নির্বাচনে বিজয়ী স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জায়েদা খাতুনের প্রতীকেই আস্থা দেখেছেন। তিনিও বরিশাল সিটি নির্বাচনে ‘টেবিল ঘড়ি’ প্রতীক চেয়ে পেয়েও গেছেন। ‘টেবিল ঘড়ি’ প্রতীকেই বরিশাল সিটিতে নির্বাচন করেছিলেন রূপণের বাবা সাবেক মেয়র ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক প্রয়াত আহসান হাবিব কামাল।
অপরদিকে ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী আলী হোসেন হাওলাদার ‘হরিণ’ এবং অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান পেয়েছেন ‘হাতি’ প্রতীক।
প্রতীক পেয়ে বিজয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বরিশাল সিটি করপোরেশন একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। আগামী ১২ জুন নির্বাচনে আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। আর আমি নির্বাচিত হলে ট্যাক্সের বিড়ম্বনা, জলাবদ্ধতা, বাড়িঘরের নকশা পাশের জটিলতা দূও করার কথাও বলেন এই প্রার্থী।
অপরদিকে, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রতীক গ্রহণের পর জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, এখানে একটি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ ভোটের পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। আর আমি নির্বাচিত হলে অবহেলিত বরিশালের উন্নয়ন এবং নগরবাসীর নাগরিক সেবা শতভাগ নিশ্চিত করবো।’
এদিকে, প্রতীক পাওয়ার পর কাশিপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে একটি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী।
অপরদিকে, প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান রূপণসহ অন্যান্য প্রার্থীরাও।
এদের মধ্যে সৈয়দ রেজাউল করীম শুক্রবার বাদ জুমা নগরীর সদর রোড অশ্বিনী কুমার হল চত্বর থেকে নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে প্রচারণা শুরু করেন। এরপর নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পুরানপাড়া এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি।
এসময় মেয়র প্রার্থী রেজাউল করীম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বরিশাল সিটি করপোরেশন অবহেলিত। আমি নির্বাচিত হলে একটি পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে চেষ্টা করবো।
এদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ছাত্রদল নেতা কামরুল আহসান রূপন প্রতীক পেয়ে বিকাল সাড়ে ৪টায় নিজ এলাকা থেকে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রিফিউজি কলোনি, কাজীপাড়া এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। তিনিও নগরবাসীর উন্নয়নে নানা কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
বরিশাল সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এখন তাদের প্রচার-প্রচারণা চালাতে কোন বাধা নেই। তবে সবাইকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১২ জুন অনুষ্ঠিতব্য বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র, সাধারণ এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৬৫ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে চারজন দলীয় প্রার্থীসহ মেয়র পদে ৭ জন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১১৬ এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪২ জন।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৭৬ হাজার ২৯৮ জন। তাদের ভোট গ্রহণ করা হবে ১২৬টি কেন্দ্রের ৮৯৪টি কক্ষে। এর মধ্যে ৮৮টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণসহ মোট ১১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন অফিস ও মেট্রোপলিটন পুলিশ।
আরজেএন