বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে নগরে বহিরাগতদের আনাগোনা

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ২১ দিন। ফলে র্নিবাচন ঘিরে নগরীতে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়েছে। নির্বাচনের দিন এসকল বহিরাগতরা লোক বিশেষ কোনো প্রার্থীর পক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে বহিরাগতদের ঠেকাতে নগরের আবাসিক হোটেল, ছাত্রাবাস, বাসা-বাড়িসহ প্রার্থী ও তাদের স্বজনদের বাসা-বাড়িন নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম ।
সূত্রে জানা গেছে, নগরের চরের বাড়ি, সাগরদি, ধানগবেষনা সড়ক, রূপাতলী, কেডিসিসহ একাধিক এলাকায় নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ওয়ার্ডে প্রভাব বিস্তারসহ শক্তি বৃদ্ধির জন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের সর্মথন নিয়ে গোটা এলাকা দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে বহিরাগতরা। এরা সিটি কর্পোরেশন নিবার্চনে ভাড়াটে বাহিনী হিসেবে মাঠে কাজ করবে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ শর্তে একাধিক ওয়ার্ডের বাসিন্দরা জানায়, গত এক সপ্তাহ ধরে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। তাঁরা স্থানীয় প্রভাবশালী প্রার্থীর সঙ্গে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে। এর আগে এসব লোকদের কখনো দেখা যায়নি। বহিরাগতদের এমন আনাগোনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে।
১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন রয়েল অভিযোগ করেন, এলাকায় নতুন লোকজনের আনাগোনা বেড়েছে।
২৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী রাইফুল আলম নোমান মল্লিক বলেন, জনসমর্থন যাদের পক্ষে নেই, তারা বহিরাগতদের ওপর নির্ভরশীল। আমার এলাকায় বহিরাগতদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদের মধ্যে অনেকেই র্যাব- পুলিশের তালিকায় নাম রয়েছে। বিভিন্ন সময় আমার সমর্থকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বহিরাগতদের বিষয়ে কঠোর হবেন।
১০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী এটি এম শহিদুল্লাহ বলেন, বহিরাগতদের নিয়ে আমি শঙ্কিত। তারা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করতে পারে। স¤প্রতি আমার এলাকার কলোনিতে বসবাসকারি ভোটারদের বাসায় বাসায় গিয়ে হুমকি ধামকি দেয়া হয়েছে। আশা করছি এদের বিরুদ্ধে প্রশাসন সতর্ক থাকবে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কেন্দ্র করে বহিরাগতরা যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য পুলিশ কঠোর অবস্থানে আছে। স্বাভাবিকের চেয়ে ১০-১২ প্লাটুন পুলিশের টহল বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ পথেও চেকপোস্ট থাকবে। এছাড়া আবাসিক হোটেল ও বাসাবাড়িতে বহিরাগতরা যাতে আশ্রয় নিতে না পারে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে বলেন তিনি।
এইচকেআর