দূর্গন্ধের কারণে ভেঙে যাচ্ছে ময়লাখোলার ছেলে-মেয়েদের বিয়ে

বরিশাল নগরীর সীমান্তবর্তী ৩ নম্বর ওয়ার্ড। এর পরই সদর উপজেলার শুরু অর্থাৎ চরবাড়িয়া ইউনিয়ন। তবে সিটি এলাকা হলেও অনুন্নতই রয়ে গেছে ৩ নম্বর ওয়ার্ডটি। তিনটি প্রধান সড়ক ছাড়া বাকি ১৩১টি রাস্তায় লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া।
আবার বসবাসকারীদের বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সিটি করপোরেশনের ময়লাখোলা। আবাসিক এই এলাকাটিতে গোটা শহরের ময়লা ফেলায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এখানকার মানুষ। তাই অনেক পরিবার পৈত্রিক ভিটা ছেড়ে চলে গেছেন অন্য এলাকায়।
অপরদিকে, ‘কিছুটা হলেও উন্নয়ন ছোঁয়া লেগেছে নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডে। নাগরিক সেবাও পাচ্ছেন এখানকার মানুষ। তবে ওয়ার্ডের কার্যক্রম থেকে কাউন্সিলকে দূরে রাখার অভিযোগ উঠেছে সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, ‘নগরীর পুরানপাড়া, মতাসার, গাউয়াসার এবং হোসনাবাদ এলাকা নিয়ে গঠিত ৩ নম্বর ওয়ার্ড। ০ দশমিক ৭৩ বর্গ কিলোমিটারের এই ওয়ার্ডটির জনসংখ্যা প্রায় ১২ হাজার হলেও এবারের ভোটার হয়েছেন ১০ হাজার ৩৪০ জন।
অপরদিকে, ‘সিবিক রোড, কাউনিয়া প্রথম গলি, জানসিংহ রোড, কাউনিয়া ক্লাব রোড, মনষাবাড়ির গলি, ব্রাঞ্চ রোড এবং কাউনিয়া প্রধান সড়ক এলাকা নিয়ে গঠিত ২ নম্বর ওয়ার্ড। ০ দশমিক ৫৯ বর্গ কিলোমিটারের এই ওয়ার্ডে প্রায় ১৪ হাজার মানুষের বসবাস। আর ভোটার সংখ্যা ১২ হাজার ৫৫ জন।
সরেজমিনে নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দেখা গেছে, ‘টেক্সটাইল মোড় থেকে ময়লাখোলা এবং টেক্সটাইলের মোড় থেকে মতাসা পর্যন্ত দুটিসহ মোট তিনটি প্রধান সড়কের উন্নয়ন হয়েছে গত পাঁচ বছরে। এরমধ্যে রাজ্জাকিয়া সড়কের উন্নয়ন করা হয়েছে জাইকা প্রকল্পের অর্থায়নে। তাছাগা গত পাঁচ বছরে ওয়ার্ডটিতে নির্মাণ হয়েছে এক কিলোমিটারের একটি মাত্র ড্রেন।
পুরানপাড়া এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শুধু গত পাঁচ বছরেই নয়, ওয়ার্ডটিতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি কোন মেয়রের আমলেই। নামমাত্র উন্নয়ন করা হচ্ছে এখানে। মশক নিধন, সড়ক বাতি এবং পানির সংকটও রয়েছে আমাদের। উন্নয়ন না হলেও আমাদের শান্তনা এতোটুকুই আমরা সিটির বাসিন্দা।
অপরদিকে, নগরীর ময়লাখোলা এলাকার মামুন বলেন, ‘ওয়ার্ডের মধ্যে সবথেকে বড় সমস্যাই হলো সিটি করপোরেশনের এই ময়লাখোলা। নাগরিক সেবা তো পাচ্ছিই না, উল্টো সিটি করপোরেশন এখানে ডাম্পিং স্টেশন করে আমাদের সামাজিকভাবে দূরে ঠেলে দিয়েছে।
এই বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, ‘এখন আত্মীয়-স্বজনদের কাছে নিজের বাড়ির পরিচয় দিতে পারছি না। আবার আত্মীয়-স্বজন বাড়িতে বেড়াতে এসে দুর্গন্ধে থাকতে চাইছে না। এলাকার ছেলে-মেয়েদের বিয়ে পর্যন্ত হচ্ছে না। যে কারণে অনেকেই বাড়ি-ঘর বিক্রি করে অন্যত্র চলে গেছে। এই এলাকা থেকে ময়লাখোলা অপসারণের দাবি জানান মামুনসহ আরও অনেকে।
৩ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিকবার নির্বাচিত কাউন্সিলর মো. সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে আমাদের ওয়ার্ড উন্নয়নের দিক থেকে পেছানো। তবে জনগনের সাথে সুসম্পর্ক এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে ১৩৪টি রাস্তা আছে। এরমধ্যে একটি রাস্তা জাইকা এবং দুটি রাস্তা সিটি করপোরেশন করেছে। বাকি একটি রাস্তারাও উন্নতী হয়নি। আমার এখানে ৫৪ কিলোমিটার ড্রেনের প্রয়োজন। সেখানে মাত্র ১ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ হয়েছে। এসব কারণে বর্ষা মৌসুম এলে এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। সিটি করপোরেশনে ফান্ড না থাকায় তাদের জন্য উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে, ‘সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের টানা ২৯ বছরের কাউন্সিলর জাতীয় পার্টির বরিশাল জেলা কমিটির আহ্বায়ক একেএম মুরতজা আবেদীন। তিনি জানিয়েছেন, ‘২ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তাঘাটের প্রসস্ত হয়েছে। আগে একটি রিকশা ঠিকভাবে চলতে পারতো না এখানকার রাস্তা দিয়ে। তবে সড়ক সংস্কারের পর এখন এক সঙ্গে তিন-চারটি রিকশাও চলতে পারছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতী হয়েছে। তবে এগুলো শুধুমাত্র গত পাঁচ বছরে নয়। সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ারের আমল থেকে ধীরে ধীরে করা হয়েছে।
তিনি দাবি করে বলেন, ‘পূর্বে এলাকায় মশক নিধন, বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহের কাজসহ পরিচ্ছন্নকর্মীরা কাউন্সিলরের নিয়ন্ত্রণে ছিলো। তারা প্রতিদিন কাউন্সিলর কার্যালয়ে এসে হাজিরা দিয়ে কাজে যেতে হতো। কিন্তু দেড় থেকে দুই বছর ধরে সেটা আর হচ্ছে না। তবে কেন হচ্ছে না সে বিষয়টি আমি নিজেও অবগত নই। যে কারণে কোথায় পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধনসহ অন্যান্য নাগরিক সেবামূলক কার্যক্রম কিভাবে চলছে তাও আমি নিশ্চিত করতে বলতে পারছি না।
বিসিসির ময়লাখোলার কারণে ভেঙে যাচ্ছে ছেলে-মেয়ের বিয়ে
২ নম্বর ওয়ার্ডে নাগরিক সেবা কিভাবে চলছে জানেন না কাউন্সিলর
বরিশাল নগরীর সীমান্তবর্তী ৩ নম্বর ওয়ার্ড। এর পরই সদর উপজেলার শুরু অর্থাৎ চরবাড়িয়া ইউনিয়ন। তবে সিটি এলাকা হলেও অনুন্নতই রয়ে গেছে ৩ নম্বর ওয়ার্ডটি। তিনটি প্রধান সড়ক ছাড়া বাকি ১৩১টি রাস্তায় লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া।
আবার বসবাসকারীদের বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সিটি করপোরেশনের ময়লাখোলা। আবাসিক এই এলাকাটিতে গোটা শহরের ময়লা ফেলায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এখানকার মানুষ। তাই অনেক পরিবার পৈত্রিক ভিটা ছেড়ে চলে গেছেন অন্য এলাকায়।
অপরদিকে, ‘কিছুটা হলেও উন্নয়ন ছোঁয়া লেগেছে নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডে। নাগরিক সেবাও পাচ্ছেন এখানকার মানুষ। তবে ওয়ার্ডের কার্যক্রম থেকে কাউন্সিলকে দূরে রাখার অভিযোগ উঠেছে সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, ‘নগরীর পুরানপাড়া, মতাসার, গাউয়াসার এবং হোসনাবাদ এলাকা নিয়ে গঠিত ৩ নম্বর ওয়ার্ড। ০ দশমিক ৭৩ বর্গ কিলোমিটারের এই ওয়ার্ডটির জনসংখ্যা প্রায় ১২ হাজার হলেও এবারের ভোটার হয়েছেন ১০ হাজার ৩৪০ জন।
অপরদিকে, ‘সিবিক রোড, কাউনিয়া প্রথম গলি, জানসিংহ রোড, কাউনিয়া ক্লাব রোড, মনষাবাড়ির গলি, ব্রাঞ্চ রোড এবং কাউনিয়া প্রধান সড়ক এলাকা নিয়ে গঠিত ২ নম্বর ওয়ার্ড। ০ দশমিক ৫৯ বর্গ কিলোমিটারের এই ওয়ার্ডে প্রায় ১৪ হাজার মানুষের বসবাস। আর ভোটার সংখ্যা ১২ হাজার ৫৫ জন।
সরেজমিনে নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দেখা গেছে, ‘টেক্সটাইল মোড় থেকে ময়লাখোলা এবং টেক্সটাইলের মোড় থেকে মতাসা পর্যন্ত দুটিসহ মোট তিনটি প্রধান সড়কের উন্নয়ন হয়েছে গত পাঁচ বছরে। এরমধ্যে রাজ্জাকিয়া সড়কের উন্নয়ন করা হয়েছে জাইকা প্রকল্পের অর্থায়নে। তাছাগা গত পাঁচ বছরে ওয়ার্ডটিতে নির্মাণ হয়েছে এক কিলোমিটারের একটি মাত্র ড্রেন।
পুরানপাড়া এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শুধু গত পাঁচ বছরেই নয়, ওয়ার্ডটিতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি কোন মেয়রের আমলেই। নামমাত্র উন্নয়ন করা হচ্ছে এখানে। মশক নিধন, সড়ক বাতি এবং পানির সংকটও রয়েছে আমাদের। উন্নয়ন না হলেও আমাদের শান্তনা এতোটুকুই আমরা সিটির বাসিন্দা।
অপরদিকে, নগরীর ময়লাখোলা এলাকার মামুন বলেন, ‘ওয়ার্ডের মধ্যে সবথেকে বড় সমস্যাই হলো সিটি করপোরেশনের এই ময়লাখোলা। নাগরিক সেবা তো পাচ্ছিই না, উল্টো সিটি করপোরেশন এখানে ডাম্পিং স্টেশন করে আমাদের সামাজিকভাবে দূরে ঠেলে দিয়েছে।
এই বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, ‘এখন আত্মীয়-স্বজনদের কাছে নিজের বাড়ির পরিচয় দিতে পারছি না। আবার আত্মীয়-স্বজন বাড়িতে বেড়াতে এসে দুর্গন্ধে থাকতে চাইছে না। এলাকার ছেলে-মেয়েদের বিয়ে পর্যন্ত হচ্ছে। যে কারণে অনেকেই বাড়ি-ঘর বিক্রি করে অন্যত্র চলে গেছে। এই এলাকা থেকে ময়লাখোলা অপসারণের দাবি জানান মামুনসহ আরও অনেকে।
৩ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিকবার নির্বাচিত কাউন্সিলর মো. সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে আমাদের ওয়ার্ড উন্নয়নের দিক থেকে পেছানো। তবে জনগনের সাথে সুসম্পর্ক এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে ১৩৪টি রাস্তা আছে। এরমধ্যে একটি রাস্তা জাইকা এবং দুটি রাস্তা সিটি করপোরেশন করেছে। বাকি একটি রাস্তারাও উন্নতী হয়নি। আমার এখানে ৫৪ কিলোমিটার ড্রেনের প্রয়োজন। সেখানে মাত্র ১ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ হয়েছে। এসব কারণে বর্ষা মৌসুম এলে এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। সিটি করপোরেশনে ফান্ড না থাকায় তাদের জন্য উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে, ‘সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের টানা ২৯ বছরের কাউন্সিলর জাতীয় পার্টির বরিশাল জেলা কমিটির আহ্বায়ক একেএম মুরতজা আবেদীন। তিনি জানিয়েছেন, ‘২ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তাঘাটের প্রসস্ত হয়েছে। আগে একটি রিকশা ঠিকভাবে চলতে পারতো না এখানকার রাস্তা দিয়ে। তবে সড়ক সংস্কারের পর এখন এক সঙ্গে তিন-চারটি রিকশাও চলতে পারছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতী হয়েছে। তবে এগুলো শুধুমাত্র গত পাঁচ বছরে নয়। সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ারের আমল থেকে ধীরে ধীরে করা হয়েছে।
তিনি দাবি করে বলেন, ‘পূর্বে এলাকায় মশক নিধন, বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহের কাজসহ পরিচ্ছন্নকর্মীরা কাউন্সিলরের নিয়ন্ত্রণে ছিলো। তারা প্রতিদিন কাউন্সিলর কার্যালয়ে এসে হাজিরা দিয়ে কাজে যেতে হতো। কিন্তু দেড় থেকে দুই বছর ধরে সেটা আর হচ্ছে না। তবে কেন হচ্ছে না সে বিষয়টি আমি নিজেও অবগত নই। যে কারণে কোথায় পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধনসহ অন্যান্য নাগরিক সেবামূলক কার্যক্রম কিভাবে চলছে তাও আমি নিশ্চিত করতে বলতে পারছি না।
আরজেএন