ঢাকা বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বাংলাদেশে ইয়াবা আসক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভয়ঙ্কর তথ্য এনসিপির গাড়িবহরে ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, সারজিসসহ আহত অনেকে বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানম নাসরীনের পিতাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন বিএম কলেজ অধ্যক্ষ  জাপানে ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে শপিংমল, বহু হতাহতের শঙ্কা ভোলায় ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার সাড়ে ৭ বছরে সড়কে ঝরেছে ৭৩৬৪ জন শিক্ষার্থীর প্রাণ ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনে নির্দেশ হাইকোর্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, দিনক্ষণ ঠিক হয়নি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী  কৃষিবান্ধব সরকার কৃষকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিবে: এমপি হাফিজ ইব্রাহিম 
  • ৫৭ বছর শিক্ষার আলো ছড়ানো পাতারহাট রসিক চন্দ্র কলেজটির আজও রুগ্ন দশা

    ৫৭ বছর শিক্ষার আলো ছড়ানো পাতারহাট রসিক চন্দ্র কলেজটির আজও রুগ্ন দশা
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সরকারি পাতারহাট রসিক চন্দ্র কলেজটি ১৯৬৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, ১৯৭০ সালে বি.এ (পাস) কোর্স ও  ১ মার্চ ১৯৮৫ তারিখে কলেজটিকে প্রথম এমপিওভুক্ত করা হয়। ২০১৬ সালে স্নাতক শ্রেণী খোলা হয়। সর্বশেষ এই কলেজটি জাতীয়করণ হয় ২০১৮ সালে।এর পর ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও কলেজটি চলছে পুরোনো ৪টি পরিত্যাক্ত টিনের ও একটি দ্বিতল ভবনে। এখন শ্রেণী কক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। অবকাঠামোগত নানা সমস্যার কারণে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পরেছে চরম বিপাকে।

    কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় ব্যবসায়ী মনোরঞ্জন দে (গান্দি বাবু)। তিনি তৎকালিন সময়ে ৫০ হাজার টাকা দান করে। যা দিয়ে জমি ক্রয় করেন এবং একটি টিনশেট ভবন নির্মান করেদেন। ওই বছরই আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে কলেজটি।

    বর্তমানে সাড়ে ৭ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটিতে একটি দ্বিতল ভবনসহ টিনসেট ৫টি ভবন রযেছে। যার মধ্যে ১৯৬৬ সালে একটি টিনশেট ভবন, ১৯৮০ সালে একটি প্রশাসনিক ভবন, ১৯৯২ সালে টিনশেড বিজ্ঞান ভবন, ১৯৯৪ সালে ২ কক্ষ বিশিষ্ট টিনশেড ভবন ও ২০০৬ সালে ৪ কক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতল একটি ডিগ্রি ভবন নির্মান করে কলেজ কতৃপক্ষ। এই ৫টি ভবনের মধ্যে ৪ টি ভবন পরিদর্শন করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ঝকিপূর্ন ও পরিত্যাক্ত ঘোষনা করেন।

    এর পর ২০১৮ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথ কলেজের এই ভগ্নদশা দেখে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরিশালের নির্বহী প্রকৌশলীর সাথে নতুন একটি ভবন নির্মানের জন্য আলোচনা করে ডিওলেটার প্রদান করেন। সেই অনুযায়ী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বরিশাল ২০১৮ সালে ৬৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকায় ৪ তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মান কাজের দরপত্র আহ্বান করলে মেসার্স দত্ত এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ পায়।

    ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক নিজে ভবনের কাজ না করে তা মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা নিরব বেপারীর কাছে বিক্রি করে দেন। নিরব বেপারী ওই বছরের শেষ দিকে ভবনের কাজ শুরু করে পিলার দার করিয়ে আংশিক বিল তুলে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায় বলে কলেজ কতৃপক্ষ দাবী করেন। এর পর বার বার তাগাদা দিয়েও নির্মান কাজ শুরু করা তে ব্যর্থহয় কলেজ কতৃপক্ষ।

    তারা বিষয়টি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবগত করেও কোন ফল মেলেনি বলে জানান। বর্তমানে এই কলেজে একাদশ থেকে স্নাতক শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৯ শত। আর শিক্ষকের ৭৩টি পদের অনুকূলে রয়েছে ৪৯জন, কর্মচারীর ২৪ পদের অনুকূলে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১ জন।

    কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য ৭২ টি ক্লাসরুম দরকার হলেও রয়েছে মাত্র ৯টি। ফলে এখন পাঠদান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। প্রয়োজনিয় ক্লাস রুমের জন্য কলেজের সাড়ে ৭ একর জমিতে থাকা গাছ কেটে পূরনো ভবন সংস্কার ও নতুন একটা টিনশেড ভবন নির্মানের সিদ্ধান্ত হয় একাডেমিক কাউন্সিলে।

    কলেজের শিক্ষক মহিদুল মোর্শেদ তালুকদার লাভু, উম্মে আনোয়ার সাবেরা সুলতানা, সুমন বেনাথ ও অবসরে যাওয়া নজমুল হোসেন আকাশ এতে বাধ সাধে। তারা কলেজ এর পাঠদান বন্ধ থাকলেও এই গাছ দিয়ে কলেজের ভবন সংস্কার বা নতুন ভবন করতে দিতে চাচ্ছেনা। এই কয় শিক্ষক বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাপ করে কলেজের সকল উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে এখন বাধ্য হয়ে এই বিপুল শংখ্যক শিক্ষার্থীদের রাখা হচ্ছে পাঠ দানের বাইরে।

    কলেজের ৭০ সালের প্রাক্তন ছাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নূরুল হক মিঞা বলেন, আমরা এই কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় যেই ভবনে ক্লাস করেছি। এখনও সেই ভবন গুলো দাড়িয়ে আছে। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ হলেও এই কলেজটির কোন উন্নতী চোখে পরছেনা। বিগত দিনে স্থানীয় কোন জনপ্রতিনিধিই এই কলেজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখেনি। ফলে এই কলেজের আজ ভগ্ন দশা। বর্তমান সংসদ সদস্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাও পদেপদে বাধার সম্মুখিন হচ্ছেন শুনে খারাপ লাগছে। এটি আমাদের প্রাণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর উন্নয়ন কে না চায়।

    কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান বলেন, প্রথম বর্ষ থেকে আমরা কলেজে ক্লাস রুম সমস্যার কারণে পাঠ নিতে পারছিনা। ক্লাস সংকট সমাধানে কতৃপক্ষ কোন উদ্যোগ না নিলে আমাদের ভবিশ্যত অন্দকার। তাই দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে কতৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন এই দাবী করছি। একই দাবি কলেজের সকল শিক্ষার্থীর। তারা বলেন আমাদের সমস্যা দেখার যেন কেউ নেই। কলেজ জাতীয়করন হয়েছে ঠিকই তবে কোন উন্নয়ন হচ্ছেনা। যা খুবই দু:খ জনক। তার মধ্যে শিক্ষকরা এখন ভবন সংস্কারে কলেজের গাছ কাটতে বাধা দিচ্ছে। তারা যাই করুক আমাদের পড়াশুনার বেঘাত ঘটিয়ে চলেছে। ক্লাস রুম সংকটে পাঠদান বন্ধ থাকলে আমরা পরিক্ষায় বসলে কি লিখবো। তাই শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সমাধানে কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কলেজের পড়াশোনার কোনো পরিবেশ নেই বলে জানান কয়েকজন অভিভাবক।

    তারা বলেন, ক্লাস রুম বা শ্রেনি কক্ষ না থাকলে শিক্ষার্থীরা কলেজে গিয়ে খোলা আকাশের নিচে সময় কাটানো ছাড়া কোন উপায় নেই। এখন কতৃপক্ষ দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না করলে পাঠদান ব্যহতের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিশ্যত অন্ধকার।

    কলেজ এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম এই বিষয়ে বলেন, কলেজের শ্রেণী কক্ষের সমস্যা সমাধান ও উন্নয়ন কাজে কলেজের কয়েক জন শিক্ষক বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। তাদের কর্মকান্ড প্রশ্নবিদ্ধ। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা অবগত আছেন।

    এবিষয়ে কলেজ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নূরুননবী বলেন, বিষয়টি আমার জানা আছে। সমাধানের চেষ্টা করছি। এখন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাথে কথা হচ্ছে তারা আরো নতুন ভবন নির্মানের জন্য প্রস্তাব করেছেন। তাছাড়া কলেজের নিজস্ব সম্পদ বা ফান্ড থেকে পুরাতন ভবন সংস্কার করে ক্লাস রুম প্রস্ততের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। কেউ কেউ একটু ঝামেলা করছে। তার পরও সমাধানের চেষ্টা চলছে।

    বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কলেজের পুরাতন ও ঝুকিপূর্ন ভবন গুলো এখন আর ব্যবহার উপযোগী নয়। এখন নতুন ভবন ছাড়া কলেজের ক্লাস রুম সংকট সমাধান সম্ভব নয়। আর নতুন ভবনের কাজ থমকে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি যেনে ঠিকাদারকে বলা হয়েছে কাজ সম্পন্ন করতে। ঠিকাদার দ্রুত কাজ সম্পন্ন না করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


    আরজেএন
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ