ঢাকা শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • সাংবাদিক এম. মিরাজকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন মুফতি ফয়জুল করিম সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা-ভাঙচুর বরিশালে ৬৪৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা আগামীর গেমচেঞ্জার হবে তরুণরাই: ইউজিসি সদস্য বেতন বকেয়াসহ আট দফা দাবিতে বরিশালে ফরচুন সুজ শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ এক মাসে উদ্ধার ২০ হারানো মোবাইল মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিল পুলিশ এলএলবি পরীক্ষায় দেশ সেরা প্রথম শ্রেণীতে প্রথম গৌরনদীর জান্নাতুল ফেরদৌস আমতলীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্য,পরিবারের দাবি হত্যা! বরিশাল অঞ্চলের বেশিরভাগ নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানম নাসরীনের পিতাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন নুরুল আমিন 
  • ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা

    নতুন বাজারে অবাধে চলছে স্বামী-স্ত্রী মাদক বাণিজ্য

    নতুন বাজারে অবাধে চলছে স্বামী-স্ত্রী মাদক বাণিজ্য
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের জনবহুল ১৯ নম্বর ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডেই সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এবং প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটুর বসবাস। ওয়ার্ডটির রাস্তাঘাটে কিছুটা উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও সমস্যার কারণ হয়ে আছে নতুন বাজারের মাদক কারবারি দম্পতি। নতুন বাজারে হাত বাড়ালেই তাদের কাছে মিলছে মাদকদ্রব্য।

    কাউন্সিলর কার্যালয় এবং পুলিশ ফাঁড়ির দুইশো গজের মধ্যেই হারুন ওরফে ফেন্সি হারুন এবং মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত বেবীর মাদকের আখড়া গড়ে উঠেছে।  

    অপরদিকে, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। প্রতি বছর বর্ষা এলেই হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে নবগ্রাম রোডসহ অন্যান্য সড়কগুলো। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অনুন্নত থাকায় এমন সমস্যার সৃষ্টি হলেও সমস্যা সমাধানে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ ওয়ার্ডবাসীর।

    জানা গেছে, ‘নগরীর উত্তর কালিবাড়ি রোড, নাজির মহল্লা, কালিশচন্দ্র রোড, ঝাউতলা, তারিনী কুমার লেন, উত্তর বগুড়া রোড, পূর্ব কলেজ রোড, নতুন বাজার, উত্তর এবং দক্ষিণ হাসপাতাল রোড এলাকা নিয়ে গঠিত ১৯ নম্বর ওয়ার্ড। ০ দশমিক ৬১ বর্গ কিলোমিটারের এই ওয়ার্ডটির কালীবাড়ি রোডে সেরনিয়াবাত ভবনে বসবাস সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ্’র। এছাড়া প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। সেখানে প্রায় ১৪ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে ভোটার ৭ হাজার ৭২৮ জন।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, ‘১৯ নম্বর ওয়ার্ডের তীর ঘেঁষে বয়ে গেছে জেল খাল। নাজিরের পুল থেকে কাউনিয়া মড়কখোলার পুল পর্যন্ত খালের অধিকাংশ জায়গায় দখল হয়ে আছে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে জমে আছে ময়লা-আবর্জনা। এতে খালের পানির অবাধ প্রবাহ হারিয়ে গেছে। বিস্তার ঘটছে মশা-মাছির।

    স্থানীয়রা বলছে, ‘দীর্ঘ বছর ধরেই খালটি পুনরুদ্ধারে দফায় দফায় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় প্রশাসন। তাছাড়া সিটি করপোরেশনের খাল খনন ও পুনরুদ্ধারে একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও অনুমোদন হয়নি।   ফলে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী জেলখালটির অস্তিত্ব সংকট দেখা দিয়েছে।


    এদিকে, ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি সড়কের উন্নয়ন করা হলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। আবার কিছু সড়ক আছে যেখানে গত ১০ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বলে দাবি ওয়ার্ডবাসীর। 

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নতুন বাজারের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি হারুন এবং তার স্ত্রী বেবী দীর্ঘ বছর ধরে মাদক কারবার করে আসছে। এর মধ্যে ফেন্সি হারুন নতুন বাজারে ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের বিপরীতে এবং তার স্ত্রী বেবী নতুন বাজারের পেছনের বস্তিতে প্রক্যাশেই গাঁজা, ফেনসিডিল এবং ইয়াবার কারবারি করছে।

    জানা গেছে, বেবী মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত। বর্তমানে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এসে একই ব্যবসা করছেন। তাছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স পরিচয়ে মাদক কারবারি করেন তার স্বামী হারুন। তবে মাদক কারবারি এই দম্পতি নগরী এবং আশপাশের এলাকায় এই ব্যবসায় বেশ আলোচিত হলেও তাদের লাগাম টানছে না প্রশাসন। যদিও ইতিপূর্বে বেবী এবং হারুন দুজনেই মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়ে আদালত থেকে জামিয়ে মুক্ত হন। শুরু করেন মাদক কারবারি। তাদের সন্তানদের মধ্যে কেউ কেউ মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।

    তবে কাউন্সিলর কার্যালয়ের সামনেই ফেন্সি হারুন এবং কার্যালয়ের দুইশ গজের মধ্যে বেবীর মাদক কারবারি বন্ধ করতে স্থানীয় কাউন্সিলরের তেমন ভ‚মিকা নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এমনকি পার্শ্ববর্তী ফাঁড়ি পুলিশও বিষয়টিতে তেমন গুরুত্ব না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাজী নঈমুল হোসেন লিটুকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

    এদিকে, সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘ বছর ধরে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে আসছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির বর্তমান সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ। এক টনা দীর্ঘ বছর তিনি জনপ্রতিনিধিত্ব করলেও তিনি ওয়ার্ডের উন্নয়নে ভ‚মিকা রাখতে পারেননি বলে ওয়ার্ডবাসীর অভিযোগ। এ কারণেই বর্ষা মৌসুম এলেই হাঁটু সমান পানি জমে যায় ওয়ার্ডটির প্রধান নবগ্রাম সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়কে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, ‘মধ্য ও পশ্চিম অক্সফোর্ড মিশন রোড, দক্ষিণ কালিবাড়ি রোড, উত্তর আলেকান্দা, নবগ্রাম রোড বটতলা, পশ্চিম বগুড়া রোড, পশ্চিম মল্লিক রোড, বিএম স্কুল রোড, পূর্ব বগুড়া রোড, শ্রীনাথ চ্যাটার্জি লেন, ক্ষিরোধ মুখার্জি বা আমদ আলী হাজির গলি নিয়ে গঠিত ১৮ নম্বর ওয়ার্ড। এর আয়তন ০ দশমিক ৫৯ বর্গ কিলোমিটার। ওয়ার্ডটিতে ৫ হাজার ১৮৭ জন ভোটার।
    ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাইফুল বলেন, ‘১৮ নম্বর ওয়ার্ডে বড় সমস্যা ড্রেনেজ ব্যবস্থা। বছর খানেক আগে আদম আলী হাজির গলি, বিএম স্কুল লেন, খন্দকার বাড়ির গলিসহ কয়েকটি সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করে সিটি করপোরেশন। কিন্তু একটি কাজও এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। প্রতিটি রাস্তায় ইট-সুরকি ফেলে রাখা হয়েছে।

    একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, ‘রাস্তার কাজ করা হলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়নি। ড্রেনগুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় না। তাই পানি নামতে পারে না। আবার শ্রীনাথ চ্যাটার্জি লেনসহ কয়েকটি সড়কে নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থাও। 

    অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে ওয়ার্ডটির জলাবদ্ধতার সমস্যা এখানকার মানুষের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এবারের ভোট দেয়ার আগে নিজেদের ভাগ্যের অবস্থাও বিবেচনা করবেন বলেন তিনি।
     


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ