বরিশালে বাসর্টামিনালে চাঁদার ওপর ঈদ বোনাসের ঘা

ঈদ সামনে রেখে বরিশাল বাস টার্মিনালে চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে আদায় করা নিয়মিত চাঁদার সঙ্গে ঈদ উপলক্ষে যোগ হয়েছে 'বোনাস'। দুরপাল্লার বাসগুলো থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। এর জন্য কোনো রশিদও দেওয়া হচ্ছে না।
২৬ রমজান থেকে শুরু হওয়া এই বাড়তি চাঁদা নেওয়া চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত। এরপর ফের আগের হারে চাঁদা নেওয়া হবে বলেও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। তবে ইজারাদার ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বরাবরের মতোই 'বাড়তি' চাঁদা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতি ও কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাসর্টামিনাল থেকে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুরগামী দুরপাল্লার পরিবহণ বরিশাল প্রবেশ করলেই বাস থামিয়ে চাঁদ নিতে দেখা গেছে মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়ন সদস্যদের। র্টামিনাল ইজারা ও শ্রমিক কল্যাণের নামে ঈদ বখশিষের নামে তারা এ টাকা তুলছেন। পরে তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে সংগঠনগুলো টাকার ভাগ নেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দক্ষিণাঞ্চলে চলাচলকারি দুরপাল্লার এক বাস মালিক বলেন, 'সাধারণ সময়ে শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের 'পরিচালনা ব্যয়' হিসাবে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৪০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। তবে এর মধ্যে দুটির রসিদ দেয়া হয়। ঈদ সামনে ২৬ রোজা থেকে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। তবে কেউ ৫০০ টাকার নোট দিলে বাকি টাকা আর ফেরত পাওয়া যায় না। এটাকে তারা বলছেন, ঈদ বখশিশ বা ঈদ বোনাস। বাস চালাতে গেলে চাঁদা দেওয়া ছাড়া কোনো গতি নেই।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে বলেন, মালিক সমিতির লোকজন চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত না। এই সমিতি প্রতিটি বাস স্টাফদের টাকা আরো দিচ্ছে। তবে শ্রমিক ইউনিয়ন তুললে সেটা তাদের ব্যাপার।
পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন বলেন, র্টামিনাল ইজারা ৫০ এবং সিটি টোল ৪০ টাকা নেয়া হচ্ছে। ঈদ বোনাসের নামে চাঁদা তোলার বিষয়টি জানা নেই। যদি কোন বাস স্টাফ এ কাজের সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বরিশাল মেট্রোপলিট পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিবহনে ঈদ বোনাসের নামে চাঁদাবাজি করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এইচকেআর