ঢাকা শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
বরিশালে চার লেনের কাজে ধীরগতি

ঈদযাত্রায় তীব্র যানজট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা  

ঈদযাত্রায় তীব্র যানজট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা  
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার কাজে ধীর গতির কারণে এবারের ঈদযাত্রায় দক্ষিণাঞ্চলবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, পদ্মা সেতু চালুর পর এবার প্রথম ঈদ। এতে মহাসড়কে বিভিন্ন শ্রেণির পরিবহন চলাচল স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বাড়বে। এছাড়া সেতু হওয়ার পর আগেই পরিবহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই যানজট নিরসনে বরিশালের গড়িয়ার পার থেকে দপদপিয়া আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার রাস্তা চার লেন করার উদ্যোগ নেয়া হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) তত্ত্বাবধানে এর ব্যায় ধরা হয় ৫২ কোটি টাকা। চলতি বছরের ৮ মার্চ চারলেন নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। এর দায়িত্ব পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম খান ট্রেডিং। 

কিন্তু উদ্বোধনের পর কাজ আর দ্রুত গতিতে আগায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে ক্রমেই বাড়ছে পরিবহন চালক, যাত্রী ও পথচারীদের দুর্ভোগ। 

স্থানীয়রা জানান, এমনিতেই তীব্র গরমে বাইরে বের হওয়া যায় না। এর মধ্যে চারলেন কাজের ধীরগতির কারণে তীব্র যানজটে রাস্তায় হাঁটা কষ্টকর। এছাড়া এ কাজে ব্যবহৃত বালু বাতাসে উড়ে শরীরের ওপর পড়ে। এতে খুব অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

সোমবার ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে বরিশাল আসা ইলিশ পরিবহনের চালক মোখলেসুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে ঢাকা-বরিশাল রুটে ফেরি যুগের অবসান হয়েছে। ফেরিঘাটের অসহনীয় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। তবে চারলেন নির্মাণের জন্য বরিশালের গড়িয়ার পাড় থেকে সড়কের পাশে বিশাল লম্বা গর্ত করে বালু ফেলে রাখা হয়েছে। এতে এমনিতেই একপাশ দিয়ে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচলের কারণে সড়কজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আর কয়েক দিন পরে ঈদযাত্রায় পরিবহনের চাপ বাড়লে এসব গর্তের কারণে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

পরিবহন চালক শাহিন তালুকদার বলেন, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক জুড়ে থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল বাড়ছে। এতে নির্বিঘ্নে গাড়ি চালানোও সম্ভব হয় না। তেমনি চার লেনের কাজ শেষ না হওয়ায় এখন বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা মহাসড়কটি বিপদজনক হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাশিপুরের গড়িয়ার পার থেকে শুরু হয়ে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত (দপদপিয়া) সেতু পর্যন্ত মহাসড়কটি চার লেনের কাজ চলমান থাকায় অনেক জায়গায় যানবাহন এক লেনে চলাচল করে। এতে মহাসড়কে মাঝে মধ্যেই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ঈদযাত্রায় এর মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ যাত্রীরা। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই মহাসড়কের চার লেন ও সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ না হলে ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিবে। বাস্তবতা হচ্ছে, এ কাজের গতি বাড়েনি মোটেও।    

মহাসড়কটির উন্নয়ন ও সংস্কারকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপের ঠিকাদার মাহফুজ খানের দাবি, ঈদ যাত্রায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি পোহাতে না হয়, সে জন্য দ্রুত সময়ের  মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। 

বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে বলেন, ‘পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর বরিশালের রাস্তায় গাড়ির চাপ বেড়েছে। তাই দ্রুত ফোর লেনের কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, দরপত্রে চার লেনের কাজ শেষ হতে ছয় মাস সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। নির্মাণ কাজ উদ্বোধনের পর দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। ঈদের আগে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কাজ শেষ করা হবে বলে জানান তিনি।

 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ