বগুড়া রোডে ইন্টারনেট কর্মীদের ওপর হামলা, আহত ৭

বরিশালের বগুড়া রোডে প্রসিদ্ধ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এতে এ কোম্পানির অন্তত সাতজন কর্মী আহত হয়েছেন। এরা হলেন- বিকাশ চন্দ্র মজুমদার (৩৭) ফেরদৌস বাপ্পি (৩০), আমিন হাওলাদার (২২), রুবেল শিকারি (৩৭), মো. ইমরান (২২) মেহেদী আকন (৩২) ও মিরাজ তালুকদার (৩৭)। এর মধ্যে প্রথম তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা জানায়, সোমবার দুপুরে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে নাজেম’স ইফতার নামক রেস্তোরাঁর কর্মচারীদের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এরপর কর্মচারীদের নিয়ে ইন্টারনেট সেবাদান কর্মীদের ওপর প্রকাশ্যে হামলা চালায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বিএনপি নেতা আরমান সিকদার নুন্না। খুনতি, বাঁশ এবং রড নিয়ে কোম্পানির সাতজন টেকনিশিয়ানকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে তারা। হামলার সময় গোটা বগুড়া রোড এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নাজেমস রোস্তোরাঁর মালিক ফরিদুর রহমান রেজার ইন্ধনে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
অভিযোগ উঠেছে, বগুড়া রোড এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী আরাম সিকদার নুন্নার ছোট ভাই এম সালাউদ্দিন। যিনি পুলিশের দালাল হিসেবে পরিচিত। তার দাপটেই বগুড়া রোড এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব গড়ে তুলেছেন ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব নুন্না।
এমনকি ছোট ভাইয়ের দাপটে প্রকাশ্যেই মাদক ব্যবসা ও সেবনের অভিযোগ রয়েছে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী নুন্নার বিরুদ্ধে। তবে ছোট ভাইয়ের সাথে কতিপয় পুলিশের সুসম্পর্ক থাকায় নুন্নার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
এদিকে, খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও আরমান সিকদার নুন্না এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ ইন্টারনেট কোম্পানি কর্মকর্তাদের।
তবে অভিযুক্ত নাজেমস রোস্তোরাঁর মালিক ফরিদুর রহমান রেজা বলেন, ইন্টারনেট কর্মীরাই আমাদের ওপর প্রথমে হামলা চালিয়েছে। এরপর আমরা আত্মরক্ষা করেছি।
ঘটনাস্থলে থাকা কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আরাফাত রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা মামলা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান উন্নয়ন কর্মকর্তা রাকিব বাইয়ানি।
টিইউ