বরিশালে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় শ্মশান দিপালী উৎসব কাল

কাল রোববার বরিশালে অনুষ্ঠিত হবে উপমহাদেশের বড় শ্মশান দিপালী উৎসব। সুষ্ঠ ও শান্তি পূর্ণভাবে অনুষ্ঠান করার জন্য নিরাপত্তা চাদরে থাকবে ঢেকে ফেলা হয়েছে নগরীর কাউনিয়া নতুন বাজার আদি শ্মশান। চতুদ্দর্শী পূণ্য তিথিতে উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী, সর্ববৃহৎ দিপালী উৎসবের দিনে শ্মশান দিপালী এলাকায় সিসি ক্যামেরার নজরে থাকবে পুরো এলাকা।
শ্মশান দিপালী উৎসব এলাকার পরিবেশ পরিস্থিতি শান্ত ও পূর্ণার্থীদের ধর্মীও অনুষ্ঠান নিবিঘেœ পালনের নিরাপত্তা দায়ীত্বে নিয়োজিত থাকবে শতাধিক পোষাকী (বিএমপি) পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি টহলে থাকবে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান র্যাব, গোয়েন্দা ও নিজস্ব সদস্য। এ তথ্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাধারন সম্পাদক তমাল মালাকার।
তিনি বলেন, মহা শ্মশান রক্ষা কমিটির নিজস্ব ১ শত জন স্বেচ্ছাসেবক সদস্য দায়ীত্ব পালনে থাকবে। এদিকে এনএসআই ও সিটি এসবি সহ গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল পুরো এলাকার দায়ীত্বে নিয়োজিত থাকবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্য বারের মত ভারত, নেপাল সহ বিভিন্ন দেশ থেকে স্বজনরা এই উৎসবে অংশ নিবে। তবে গত ২ বারের চেয়ে এবার লোকের চাপ একটু বেশি হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।
শ্মশান রক্ষা কমিটির সভাপতি মানিক মূখার্জী কুডু ও সাধারন সম্পাদক তমাল মালাকার বলেন, ২০৫ বছর ধরে চলা এই মহাশ্মশানে কাঁচা পাকা সমাধি মিলিয়ে প্রায় এখন ৭০ হাজার সমাধি রয়েছে। এ মূহূর্তে সমাধী মন্দির গুলোকে রংতুলি আচরে নতুন করে সাজানো হচ্ছে। তবে সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে বরিশাল সিটি মেয়র, পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের বৈঠক শেষে তাঁরা সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন।
দিপালী উৎসবকে ঘিড়ে মৃতদের স্মৃতিচিহ্ন রাখার সমাধীগুলো ধোয়া মোছা সহ নতুন করে নির্মাণ এবং রং তুলির ছোয়ায় ভিন্ন রুপ ধারন করেছে। একটি পরিচ্ছন্ন ও পবিত্রতার পূর্ণ পরিবেশ দিপালী উৎসব বরিশালে প্রতি বছর এই দিনটি পালন করে যাচ্ছে আপন জন ও আত্বীয়-স্বজনরা। শ্মশান দিপালী অনুষ্ঠানটি একটি সার্বজনীন উৎসবে পরিনত হয়ে উঠে।
উৎসবের রাতকে শ্মশান এলাকা মমের প্রজ্জলনের আলোয় রাতকে দিনের আলোতে নিয়ে আসা হয় হবে। প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশের পিতা সত্যানন্দ দাশগুপ্ত, পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত, ব্রিটিশবিরোধী নেতা বিপ্লবী দেবেন ঘোষ, মনোরমা বসু মাসিমাসহ বহু খ্যাতিমান মানুষের সমাধি রয়েছে এই মহাশ্মশানে।
এএজে