চিনির বাজারে উত্তাপ,অভিযানে ৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

দুর্দিনের বাজারে দুর্মূল্য চিনির। চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দামে ছড়াচ্ছে উত্তাপ। এরই মধ্যে বেসরকারি পরিশোধিত চিনিকল এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিএসএফআইসি উৎপাদিত চিনির দাম আরও বেড়েছে।
খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা। যা স্মরণকালের সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার দাম ঠিক করে দেওয়ার পরও তিন থেকে চার দিনের ভেতরে চিনির দাম ফের কেজিপ্রতি ১৫-২০ টাকা বাড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দেশের এমন দুর্যোগে পণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নিচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
বরিশাল নগরের বাজার রোড এলাকার অটোরিকশা চালক জালাল আহমেদ বলেন, বাজারে দাম বাড়তে থাকায় আমরা বিপাকে পড়েছি। কোন চায়ের দোকানে এখন আর ৫ টাকায় চা পাওয়া যায়না। রং চায়ের দাম এখন ৮ টাকা প্রতিকাপ। আর দুধ চা ১৫ টাকা। আমরা খেটে খাওয়া মানুষ রাতের বাসায় ফিরে এক কাপ চা খেতে পারিনা।
একই কথা বলেন নগরের চকবাজার এলাকার বেসরকারি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, করোনা মহামারি জীবনে দুর্যোগ এনেছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও বাজারে পণ্যের দামে দুর্যোগ নিয়ে এসেছে। একটা পণ্যের দাম কমলে আর একটার দাম বাড়ে। আমরা আসলে কথা বলতে পারিনা। কার কাছে কি অভিযোগ করবো আর কি লাভ হবে জানিনা।
মুদি দোকান ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেণ, প্রতিকেজিতে চিনির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দুই তিন দিন আগেও চিকি ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি করতাম। এখন সেই চিনি ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার রোডের মুদি বিক্রেতা তুহিন বলেন, পাইকারি বাজারে বিক্রেতারা চিনির সংকট বলে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যার কারণে খুচরা বাজারে চিনির দাম বাড়তি। তবে মনে হচ্ছে, চিনি নিয়ে পাইকারি বিক্রেতারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের সঙ্গে আমাদের প্রতিদিনই দাম নিয়ে কথা কাটাকাটি হচ্ছে।
একই বাজারের পাইকারি বিক্রেতা মো. আলী হোসেন বলেন, আমাদের চাহিদা আছে ৩০ গাড়ি চিনির। কিন্তু আমাদের ১০ গাড়ি চিনি দেওয়া হচ্ছে। এতে পাইকারি বাজারে পণ্যটির সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মিল পর্যায়ে দাম বাড়ায় পাইকারিতেও দাম বেড়েছে।
এদিকে , নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে খোলা চিনি বিক্রি ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় বরিশালে ৯ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গতকাল শনিবার বরিশাল নগরের বাজার রোড, হাটখোলা এবং নতুন বাজার এলাকায় পরিচালিত বাজার তদারকিমূলক অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যদের সহযোগিতায় অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারী, সহকারী পরিচালক সাফিয়া সুলতানা এবং জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহ্ শোয়াইব মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
সহকারী পরিচালক শাহ্ শোয়াইব মিয়া জানান, অভিযান চলাকালে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৮ হাজার টাকা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে খোলা চিনি বিক্রি করায় ৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযান চলাকালে স্থানীয় নাগরিকদের মাঝে ভোক্তা অধিকার আইন সংক্রান্ত লিফলেট বিতরণ করা হয়। জনস্বার্থে বাজার তদারকিমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা।
এএজে