উজিরপুরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জমি দখল ও হত্যার হুমকীর অভিযোগ

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ১ নং সাতলা ইউনিয়নের আলামদী গ্রামে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে সাতলা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. শাহীন হাওলাদারের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি সম্পত্তিতে স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলে চেয়ারম্যান তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে নির্মাণ কাজে বাধা এবং ওই সম্পত্তি খাস জমি বলে দাবী করেন।
এমন অভিযোগে ভুক্তভোগী উজিরপুর উপজেলার ১ নং সাতলা ইউনিয়নের আলামদী গ্রামের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব বিশ্বাস মঙ্গলবার দুপুর ১ টায় শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে মো. মোতালেব বিশ্বাস বলেন, সাতলা ব্রীজের ঢালে আলামদী মৌজার জে এল নং-১ এর এস এ ১১১১ ও ১১১২ নং দাগের ১ একর ৫৩ শতক ভূমি আমার খরিদকৃত ভোগ দখলীয় ও রেকর্ডিয় সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্ঠা করছেন সাতলা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. শাহীন হাওলাদার। উল্লেখিত সম্পত্তি আমাদের ক্রয়কৃত ও রেকর্ডিয় এবং দীর্ঘদিন ধরে আমরা ভোগদখল করে আসছি।
সম্প্রতি আমাদের সম্পত্তিতে স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলে সাতলা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. শাহীন হাওলাদার তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমাদের নির্মাণ কাজে বাধা দেয় এবং ওই সম্পত্তি খাস জমি বলে দাবী করেন। আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখালে চেয়ারম্যান ও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের মারধর করে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। আমরা নিরুপায় হয়ে আদালতের সরনাপন্ন হলে আদালত উপজেলা ভূমি অফিসকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিতে বলে।
তিনি বলেন, উপজেলা ভূমি অফিস উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলেন। উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আমার পৈত্রিক ও দখলীয় সম্পতি হিসেবে প্রমান পান এবং তৎকালীন ওসি আলী এরশাদ আমাদের পক্ষে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। আদালত উভয় পক্ষকে উল্লেখিত জমিতে শান্তি শৃংঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেন।
অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট কর্তৃক বাদীর পক্ষে প্রদত্ত আদেশের অনুবলে চলতি বছরের ৫ মার্চ চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সিকদার বাচ্চু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম জামাল হোসেন, সাধারণ সম্পদক ও পৌর মেয়র মো. গিয়াস উদ্দীন, সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুল বাশার লিটন, ইউপি চেয়ারম্যান শাহীনকে ভৎসনা করেন এবং আমার ভোগ দখলীয় সম্পত্তির দিকে কু নজর না দেওয়ার অনুরোধ করেন।
কিন্তু ভূমিদস্যু সাতলা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. শাহীন হাওলাদার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের কোন কথা না শুনে
আমাদের নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন। তাঁর দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ায় গত ১২ আগস্ট রাতের আধারে আমার স্থাপনায়নে পেট্রল ও কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করে।
এ ঘটনায় আদালতে মামরা দায়ের করা হলে আমি ও আমার পুত্রদের হত্যাসহ দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় শাহিন হাওলাদার ও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী।
গত ৩১ আগস্ট মামলার প্রধান আসামি শাহীন হাওলাদার ও তাঁর দলবল লাঠিসোটা নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকদের হুমকি ধামকি ও মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। একইসাথে ৫ লাখ টাকা না দিলে আমাদের হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয় শাহিন হওলাদার ও আসাদ হাওলাদার ও তাঁর দলবল।
এ ঘটনার পর গত ৪ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল মেজিট্রেট উজিরপুর আমলী আদালতে ইউপি চেয়ারম্যান শাহীনকে প্রধান আসামি করে মোট ৯ জনকে নামধারী ও অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি সিআর মামলা দায়ের করি। মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেয় আদালত।
মামলার কথা জানতে পেরে ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার ও ৩ নম্বর আসামি মো. আসাদ হাওলাদার তাদের দলবল নিয়ে আমাদের খুঁজতে থাকে।
সোমবার ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫ টায় আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে পার্শবত্তি একতা বাজারে গেলে ইউপি চেয়ারম্যান মো.
শাহীন হাওলাদার ও ৩ নম্বর আসামি মো. আসাদ হাওলাদার অন্যান্য আসামিরা একত্রিত হয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে এবং বাজারে ঘেরাও করে রাখে ও আমার পাঞ্জাবীর কলার ধরে ঠানা হেচড়া করে লাঞ্চিত করে। এসময় আসামিরা আমাকে মামলা তুল নিতে হুমকি ধামকি দেয়।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদার এলাকায় আমাদের সম্পত্তি জোর পূর্বকদখল ও খালে বাদ দিয়ে জোরপূর্বক মাছ চাষ করছে। তাঁর বিরোধীতা করায় ঐ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে মারধর ও ভয়ভীতি করছে।
এইচকেআর