টানা চতুর্থ দিন বিপৎসীমার ওপরে দখিনের ৮ নদীর পানি

টানা চারদিন ধরে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বরিশালের কীর্তনখোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৮টি নদীর পানি। চতুর্থ দিনে কয়েকটি নদীর পানি পূর্বের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর ফলে টানা চারদিন ধরে নদীর জোয়ারের পানিতে ভাসছে দক্ষিণাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল। যদিও নদীর পানি কমতে শুরু করায় নিম্নাঞ্চলে জমে থাকা পানিও নিমে যাচ্ছে।
অপরদিকে, টানা দুই দিন পরে গত শুক্রবার বরিশালের আকাশে সূর্যের দেখা মেলে। এদিন হয়নি বৃষ্টিও। তবে শনিবার সকালের পর থেকে পুনরায় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন এবং থেমে থেমে বৃষ্টি শুরু হয়। যা আরও দুই একদিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুম জানিয়েছেন, ‘নদীমাত্রিক অঞ্চল বরিশাল। এ অঞ্চলে অসংখ্য নদী থাকলেও মূলতঃ গুরুত্বপূর্ণ ৮টি নদীর ১০টি পয়েন্টের পানি পরিমাপ করা হয়। শনিবার সারাদিন ৮টি নদীর ১০টি পয়েন্টের পানিই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত বৃহস্পতিবার চারটি নদীর পানির স্তর কিছুটা কমেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবারও পানির স্তর কিছুটা নিচে নেমেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, শনিবার দিনভর কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া তেঁতুলিয়া নদীর ভোলা খেয়াঘাট পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুরমা-মেঘনা নদীর ভোলা জেলার দৌলতখান পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৯১ সেন্টিমিটার, একই নদীর তজুমদ্দিন উপজেলা পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ১৫ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া বিষখালী নদীর ঝালকাঠি পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদীর বরগুনা জেলা পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার এবং পাথরঘাটা পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বুড়িশ্বর বা পায়রা নদীর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া বলেশ্বর নদীর পিরোজপুর পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার এবং কচা নদীর উমেদপুর পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বরিশালের কর্তীনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার বেড়ে ২ দশমিক ৭৩ মিটার মিটার ওপর দিয়ে দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা বুধবার ছিল ১২ সেন্টিমিটার। সে হিসেবে ৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে কীর্তনখোলার পানি। এই নদীর বিপৎসীমা ২ দশমিক ৫৫ মিটার।
বৃহস্পতিবার ভোলার তেঁতুলিয়া নদীর পানি ভোলা খেয়াঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার বেড়ে ৩ দশমিক ১৫ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা বুধবার ছিল ৩০ সেন্টিমিটার। এই নদীর পানির বিপৎসীমা ২ দশমিক ৯০ মিটার।
বৃহস্পতিবার ভোলার দৌতলখান উপজেলাধীন সুরমা-মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার বেড়ে ৪ দশমিক ২৪ মিটার ওপর দিয়ে বয়েযায়। যা আগের দিন ছিল ৬৯ সেন্টিমিটার। এই নদীর বিপৎসীমা ৩ দশমিক ৪১ মিটার।
একই জেলার তজুমদ্দিন উপজেলাধীন সুরমা-মেঘনা নদীর পানি বৃহস্পতিবার বিপৎসীমার সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৭ মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ দশমিক ৯০ মিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা বুধবার ছিল ৮৭ সেন্টিমিটার। এ নদীর বিপৎসীমা ২ দশমিক ৮৩ মিটার।
অপরদিকে, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলাধীন বুড়িশ্বর বা পায়রা নদীর পানি বৃহস্পতিবার বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে ৩ দশমিক ০৫ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা বুধবার ছিল ২৯ সেন্টিমিটার। এ নদীর বিপৎসীমা ২ দশমিক ৮১ মিটার।
বরগুনার বিষখালী নদীর পানি বৃহস্পতিবার বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে ৩ দশমিক ২৫ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা বুধবার ছিল ৩৬ সেন্টিমিটার। এই নদীর বিপৎসীমা ২ দশমিক ৮৫ মিটার।
পার্শ্ববর্তী পাথরঘাটা উপজেলাধীন বিষখালী নদীর পানি বৃহস্পতিবার বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার অতিক্রিম করে ৩ দশমিক ৭২ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা বুধবার ছিল ৬৫ সেন্টিমিটার। এই নদীর বিপৎসীমা ২ দশমিক ৮৫ মিটার।
পিরোজপুরের বলেশ্বর নদীর পানি বৃহস্পতিবার বিপৎসীমার ০৬ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে ২ দশমিক ৭৪ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা বুধবার ছিল ২ সেন্টিমিটার। এই নদীর বিপৎসীমা ২ দশমিক ৬৮ মিটার। একই উপজেলাধীন কচা নদীর উমেদপুর পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে ২ দশমিক ৮৩ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা বুধবার ছিল ২০ সেন্টিমিটার। এই নদীর বিপৎসীমা ২ দশমিক ৬৫ মিটার।
এছাড়া ঝালকাঠি জেলাধীন বিষখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে ২ দশমিক ২৫ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা বুধবার ছিল ১৯ সেন্টিমিটার। এই নদীর বিপৎসীমা ২ দশমিক ৮ মিটার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুম বলেন, ‘পূর্ণিমা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ ১০টি নদীর বাইরে দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় সবগুলো নদীর পানিই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। তবে কিছু নদীর পানির স্তল নামতে শুরু করেছে। এ কারণে নিম্নাঞ্চলে জমে থাকা পানিও নেমে যাচ্ছে।
এএজে