ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news

বাবুগঞ্জে এলপিজি গ্যাসের সাপ্লাই বন্ধের অজুহাতে মূল্য বৃদ্ধি! 

বাবুগঞ্জে এলপিজি গ্যাসের সাপ্লাই বন্ধের অজুহাতে মূল্য বৃদ্ধি! 
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরিশালের বাবুগঞ্জে জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে গ্যাসের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। গ্যাস সাপ্লাই বন্ধের অজুহাতে সিলিন্ডার প্রতি ৮০-১০০ টাকা খুচরা বিক্রেতারা। 

গত তিন দিন ধরে এলপিজি গ্যাসের পরিবেশকরা খুচরা গ্যাস ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন। খুচরা ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দিতে না পারায় পরিবেশকরা যোগাযোগ বন্ধ রাখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কোন কোন কম্পানির পরিবেশকরা সিলিন্ডার প্রতি পূর্বের চেয়ে ১০০ টাকা বেশি মূল্যে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন। সেক্ষেত্রে কম্পানীগুলো কোন ধরনের ক্রয়- বিক্রয়ের রশিদ দিচ্ছে না। অঘোষিত এই মূল্য বৃদ্ধির কারন হিসাবে সিন্ডিকেট কে দায়ী করছেন ভুক্তভোগী সাধারন জনগন। 

উপজেলার বাজারগুলোতে দেখা পাওয়া যাচ্ছেনা সাব ডিলারদেরও। রহমতপুর ও বাবুগঞ্জের একাধীক খুচার ব্যাবসায়ীরা জানায়, পূর্ব নির্ধারিত দামের চেয়ে ৮০-১০০ টাকা দাম বাড়িয়ে কোন কোন পরিবেশক গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। দাম বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই তাদেরকে গ্যাস দিচ্ছেন না পরিবেশকরা। বাধ্য হয়েই আমরা ক্রেতাদের কাছে একটু বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছি।  অপরদিকে এ ব্যাপারে কোন ধরণের মন্তব্য করতে রাজী নন পরিবেশকরা।

খোঁজ নিয়ে গেছে, জ্বালানী  তেলের মূল্য বৃদ্ধির পরপরই খুচরা বাজারে গ্যাসের সংকট দেখা দেয়। এদিকে হঠাৎ করেই বাবুগঞ্জে গ্যাস সংকট দেখা দেয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভোক্তা সাধারণ।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন এলপিজি গ্যাসের সাব ডিলার বলেন, গ্যাসের দাম বাড়তে পারে এজন্য খুচরা বিক্রেতাদের সাথে তাদের যোগাযোগ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে একাধিক ডিলারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি। বেশিরভাগ ডিলার ডিপো বন্ধ রেখেছেন।

রহমতপুর বাজারের একজন খুচরা বিক্রেতা বলেন, দুবাই বাংলা, জি গ্যাস, সেনা,  লাফস্ সহ কয়েকটি কম্পানির ডিলারগন সাপ্লাই না থাকার অজুহাতে বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার দিচ্ছে না। এছাড়া যমুনা, পেট্রম্যাক্সসহ কয়েকটি কম্পানি চাহিদার তুলনায় কম দিলেও সিলিন্ডার প্রতি ৮০-১০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। যমুনা গত সপ্তাহে ১২ শত টাকায় ক্রয় করলেও বর্তমানে আমরা ১৩০০ টাকায় ক্রয় করছি। ফলে আমাদের একটু বেশি দামে সাধারণের কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে। 

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বরিশালে সহকারী পরিচালক মো. শাহ্ শোয়াইব মিয়া বলেন, কৃত্রিম গ্যাস সংকটের বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি বলেন, আগস্ট মাসের জন্য সরকার কর্তৃক মূল্য নির্ধারণ করা আছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে কেউ গ্যাস বিক্রির অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমীনুল ইসলাম বলেন,  অতিরিক্ত মূল্যে এলপি গ্যাস ক্রয়-বিক্রি করা যাবে না। নির্ধারিত মূল্যের বেশি দরে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করার অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।  


আরিফ হোসেন/ ‍এইচকেআর 
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন