দক্ষিণাঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের সুফল প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ভোগ করবে

বাকেরগঞ্জের সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা, তুখোড় ছাত্রনেতা শহীদ খানকে সম্মান দেখিয়ে বরংছ এই অঞ্চলের মানুষ সম্মানিত হয়েছেন। তিনি আজীবন সুসম শিক্ষার জন্য লড়াই করেছেন। ছোটবেলা থেকে দেখেছি অত্যান্ত সাহস নিয়ে সবকিছু তিনি মোকাবেলা করতেন। সবসময়ে সত্য বলতেন। এজন্যই তাকে হয়তো এত মানুষ ভালোবাসেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) দুপুর ২টায় বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জে সাড়ে তিন একর জমির ওপর পাঁচতলা বিশিষ্ট নির্মিতব্য ছাত্রনেতা শহীদ খান টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ভিত্তিপ্রস্থরের ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ আমিনুল ইসলাম খান।
তিনি আরো বলেন, বাবার পরে আমাদের ভাইবোনদের কাছে মরহুম শহীদ খান ছিলেন আদর্শ। জীবদ্দশায় তিনি ন্যায়-নিষ্ঠার সাথে রাজনীতিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। যে কারনেই হয়তো তার চলে যাওয়ার পরও তাকে দক্ষিণাঞ্চলের আপামর মানুষ মনে ধারণ করে রেখেছেন। সিনিয়র সচিব বলেন, সফল রাষ্ট্রনায়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। করোনাকালীন ক্ষতি পূষিয়ে উঠতে না পারলেও ক্ষতির প্রভাব যেন শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিলক্ষিত না হয় এজন্য আধুনিক এবং বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন। বর্তমানে আমরা চেষ্টা করছি আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে শিশুদের আরো উন্নত শিক্ষা প্রদান করতে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাকেরগঞ্জেও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর সুফল আমরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ভোগ করবো।
এর আগে তিনি তুলাতলী নদীর ওপর নির্মিত সেতু ও ডিসি রোড নামে পরিচিত বাকেরগঞ্জ বন্দর হতে গোবিন্দপুর বাজার পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার সড়কটি শহীদ খানের নামকরণের ভিত্তিপ্রস্থর উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল শ্বিবদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ ছাদেকুল আরেফিন, বিভাগীয় কমিশনার মো. আমিন উল আহসান, রেঞ্জ ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার খন্দকার আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনুস, পুলিশ সুপার মোঃ মারুফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস, বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডক্টর মোঃ গোলাম কিবরিয়া, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক বিশ্বাস মতিউর রহমান বাদশা, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শামসুল আলম চুন্নু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল চন্দ্র শীল, সরকারী কমিশনার ভূমি আবুজর মোঃ ইজাজুল হক, পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া, গারুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এস এম কাইয়ুম খানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সংস্কৃতিক কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
আশির দশকে দক্ষিণাঞ্চলে ছাত্ররাজনীতির অবিসংবাদিত রূপকার ছিলেন শহীদ খান। ১৯৫৮ সালে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গারহাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শহীদ খান। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগকে নতুন করে সংগঠিত করার কাজে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং সামরিক সরকারের নির্যাতন ও কারাভোগ করেন। তাঁর ঈর্ষণীয় সাংগঠনিক ক্ষমতা, হাস্যজ্বল ব্যক্তিত্ব ও প্রবল স্মৃতিশক্তি দিয়ে তিনি দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে প্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৭৯ সাল হতে দক্ষিণাঞ্চলের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এককভাবে বিজয়ী হয়। ১৯৮১ সনে সরকারি ব্রজমোহন কলেজ নির্বাচনে তিনি নানক-হীদ প্যানেল থেকে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। নব্বই দশকের স্বৈরাচার বিরোধী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে তিনি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্ব দেন। সমগ্র অঞ্চলের মানুষ এখনো তাকে শ্রদ্ধা ও ভালবাসার সাথে স্মরণ করে। তিনি এখনো তরুণ সমাজ ও জনগণের কাছে রাজনীতির একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও আদর্শ নেতা হিসেবে অনুসরণীয়। সম্ভাবনাময় গণমানুষের এই নেতা মাত্র ৪৬ বছর বয়সে দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মহান এই মানুষটির ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের কাছে অবিস্মরণীয় করে রাখতে নানা উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেতু এবং সড়কের নামকরণ তার নামে করা হলো।
এসএমএইচ