গৌরনদীতে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধুকে নির্যাতন

ভালোবেসে পিতা-মাতা ও আত্মীয় স্বজন রেখে মনিকা আক্তার পালিয়ে বিয়ে করে প্রেমিক জুয়েল মোল্লাকে। বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই ভালোবাসা বিস্বাদে পরিণত হয়। যৌতুকের দাবিতে মনিকার উপর চলে স্টিম রোলার। বিদেশ যাওয়ার জন্য ৫ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে মনিকাকে স্বামী ও শ্বাশুড়ি অমানুষিক নির্যাতন চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় মনিকাকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে গৌরনদী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল গ্রামে।
উপজেলার মাগুড়া পূনিয়াকান্দি গ্রামের নির্যাতিতা মনিকা আক্তারের মা ববিতা বেগম জানান, তিন বছর পূর্বে পরিবারের সকলে অমতে পালিয়ে তার কন্যা একই উপজেলার কটকস্থল গ্রামের সিদ্দিক মোল্লার পুত্র জুয়েল মোল্লাকে বিবাহ করে। বিবাহর পর থেকে যৌতুকসহ নানা অজুহাতে মনিকাকে তার স্বামী জুয়েল মোল্লা, শ্বাশুড়ি সুফিয়া বেগমসহ বাড়ির লোকজন শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করে আসছে। মনিকার স্বামী বিদেশ যাওয়ার জন্য মনিকার ইতালী প্রবাসী মামার নিকট থেকে ৫ লক্ষ টাকা এনে দেয়ার জন্য মঙ্গলবার মনিকাকে তার মামা বাড়ি যেতে বলে। মনিকা যেতে অস্বীকার করলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার স্বামী জুয়েল মোল্লা, শ্বাশুড়ি সুফিয়া বেগম ওড়না দিয়ে মুখ বেধে নির্মম নির্যাতন চালায়।
হাসপাতাল বেডে শয্যাশায়ী মনিকা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার স্বামী ও শ্বাশুড়ি মিলে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। এর আগে আমাকে লাকড়ি ও লাঠি দিয়ে বেধরক পিটিয়ে জখম করে এবং আমার মাথার চুল ছিড়ে ফেলে। আমার আত্মচিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসাপাতালে ভর্তি করেন।
গৌরনদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক খাইরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নির্যাতিতা গৃহবধু মনিকার মা ববিতা বেগম বাদি হয়ে মঙ্গলবার রাতে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপর আমি হাসপাতালে গিয়ে নির্যাতনের শিকার মনিকার সাথে কথা বলেছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এইচকেআর