ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news

হিজলায় হত্যার ৬ মাস পর রহস্য উদঘাটন

হিজলায় হত্যার ৬ মাস পর রহস্য উদঘাটন
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

পরকীয়া প্রেমিক শশুরের হাতে খুন হয়েছে। ছয় মাস পর হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে শশুর আব্দুল রশিদ ঘরামী ও তা‍ঁর পুত্র বধু রাহেলা বেগম।

ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের খাগেরচর গ্রামে। জানাযায় প্রবাসী মনির ঘরামির স্ত্রীর সাথে খাগেরচর বাজারের ওষধ ব্যবসায়ী মিলনের দীর্ঘদিন পরকীয়া আসক্ত হয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা চোখে পড়ে প্রবাসীর বাবা আব্দুর রশিদ ঘরামির। তখন তিনি মিলন কে তার ছেলের বউয়ের কাছে আসতে বারণ করে। কিন্তু মিলন তার পরেও গত ৩০ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে প্রেমিকের ফোনে ছুটে যায় প্রেমিকের বাড়িতে। ঘরের ভিতরে পুত্র বধুর সাথে মিলনকে দেখে ফেলে শ্বশুর আঃ রশিদ ঘরামী।

শশুর আস্তে আস্তে ঘরে ঢুকে মিলনের চোখে মরিচের গুঁড়া মারে। সেই মুহূর্তে তিনি গাবের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে মিলনকে। এক পর্যায়ে মৃত্যু নিশ্চিত হলে মৃতদেহ মেঘনা নদীতে ফেলে দেয়। এরকমই স্বীকারোক্তি দিয়েছে শ্বশুর আব্দুল রশিদ ঘরামী ও তার পুত্র বধু রাহেলা বেগম।

মিলন দপ্তরী নিখোঁজের ঘটনায় নিহত মিলনের বড় ভাই সবুজ গত ২ ফেব্রæয়ারী হিজলা থানায় সাধারন ডায়রী করে। ঐ সাধারন ডাইরীর প্রেক্ষিতে মিলনের মোবাইল কললিস্টন অনুযায়ী লাস্ট নাম্বার সংগ্রহ করে দেখা যায় সেই মোবাইল নম্বর আব্দুল রশিদ ঘরামীর নামে রেজিস্টেশন রয়েছে এবং সেই মোবাইল সিমকাটটি তার পুত্রবধু রাহেলা ব্যবহার করছে। সে অনুযায়ী দীর্ঘ দিন যাবত আঃ রশিদ ঘরামী ও রাহেলা বেগমকে পুলিশ নজরদারীতে রেখেছে।  দীর্ঘদিন পরে হলেও পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে ২৫ জুলাই হিজলা থানার এস আই সোহাগ আঃ রশিদ ও তার ছেলের স্ত্রীকে থানায় আসতে বলে।

আসামিরা থানায় এসে অকপটে হত্যার স্বীকারোক্তি বর্ননা দিয়ে আঃ রশিদ ঘরামী বলে আমার ছেলে বিদেশ থাকে মিলন প্রায় রাতে আমার ছেলে মনিরের বউয়ের ঘরে আসতো, আমি ক্ষিপ্ত হয়ে মিলনকে পিটিয়ে মেরে লাশ নদীতে ফেলে দিয়েছি।

এদিকে নিহত মিলনের বড় ভাই সবুজ দপ্তরী ২৫ জুলাই ২ জনের নাম উল্লেখ করে ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে হিজলা থানায় মামলা দায়ের করে। 

নিহত মিলনের ভাই সবুজ দপ্তরী হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ বিচারের দাবী করে বলে, দুই জনের পক্ষে এই হত্যা করা সম্ভব না, এই হত্যার সাথে আরো কেউ জড়িত থাকতে পারে, পুলিশের সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানায়।

হিজলা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. ইউনুছ মিয়া জানায়, আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুয়ায়ী ২ জনকে আটক করেছি। এই ঘটনার সাথে আরো যদি কেউ জড়িত থাকলে পুলিশের  তদন্তের মাধ্যমে তা বেড়িয়ে আসবে।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন