ঢাকা শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news

স্বপ্নের ঠিকানায় বাবুগঞ্জের ২৭৪ ভূমি ও গৃহহীন পরিবার

স্বপ্নের ঠিকানায় বাবুগঞ্জের ২৭৪ ভূমি ও গৃহহীন পরিবার
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

ভূমি নেই, নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই, অন্যের জমিতে ঝুপড়ি ঘর করে, রাস্তার ধারে, ভাড়া বাসায় অথবা কারো করুনায় দিনের পর দিন জীবন জাপন করে আসছে এমন ২৭৪টি অসহায় পরিবার স্বপ্নের ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে। 

বরিশালের বাবুগঞ্জে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত মহতী পদক্ষেপ আশ্রায়ণ প্রকল্পের আওতায় ২৭৪টি পরিবার ২ শতক জমি ও পাকা ঘরের মালিকানা বুজে পেয়েছেন। উন্মুক্ত যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে ভাসমান এ পরিবারগুলো জমিসহ পাকা ঘর পেয়ে বেজায় খুশি। 

এ উপজেলায় মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে আশ্রয়ণ  প্রকল্পের আওতায় প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপে ১৮০টি পরিবার উপহারের ঘরে স্থায়ী বসবাস করছেন। অবসান হয়েছে মানবেতর জীবন যাপনের। তৃতীয় ধাপের ৯৪ পরিবারের  স্বপ্নের ঘর তৈরির কাজ শেষ ২১জুলাই আনুষ্ঠানিক ভাবে তা হস্তান্তর করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।

আশ্রায়ণের ঘরে ঠাই পাওয়া জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের কুলসুম বেগম বলেন, আমি সিলনদিয়া বাজারে ঝাড়ুদারের কাজ করে খাই। অন্যের বাড়ির আঙ্গিনায় খুপড়ি ঘরে কোন রকম থাকতাম আজ আমার ২ শতাংশ জমিসহ পাকা ঘর হয়েছে। আমারা এখন আর ভূমি ও গৃহহীন না। 

মোসাঃ তাসলিমা বলেন, আমি আশ্রায়ণের ঘর ও জমি পেয়েছি। আমার একটি স্থায়ী ঠিকানা করে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ। এখন আমার পরিবারে ৬ জন ওই ঘরে বসবাস করছি। 

মিন্টু হাওলাদার ও শাহিনুর বেগম দম্পতি তাদের দুই মেয়ে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘরে সুখে শান্তিতে বসবাস করছে। ইতিমধ্যে বাবুগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের জীবন-মানের পরিবর্তন শুরু হয়েছে । আর আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের স্বপ্ন পূরণে নিরলস ভাবে কাজ করেছেন উপজেলা প্রশাসন। ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদারকি কমিটির তত্ত্ববধায়নে ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করা সম্ভব হয়েছে।

যার অগ্রভাগে ছিলেন কমিটির আহবায়ক বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমীনুল ইসলাম, সদস্য সচিব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন এবং যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি উপজেলা কমিশনার(ভূমি) মো. মিজানুর রহমান। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারনে এবং কোন অনিয়মের অভিযোগ ছাড়াই যাচাই বাছাই থেকে শুরু করে গৃহ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন সম্ভব হয়েছে।

উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মিত মোট ২৭৪টি গৃহের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে ৪৩টি, কেদারপুর ইউনিয়নে ১৭টি, দেহেরগতি ইউনিয়নে ২৮টি, চাঁদপাশা ইউনিয়নে ৪৯টি, রহমতপুর ইউনিয়নে ৮৬টি এবং মাধবপাশা ইউনিয়নে ৫১টি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত রেখে আরো দুটি পরিবারকে দুটি গৃহ নির্মাণ করে দিয়েছেন উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন। গৃহ নির্মাণ ব্যয়ের অর্থের অর্ধেক যোগান দিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক দুলাল এবং বাকী অর্ধেক দিয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ আজদ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা বিনতে ওহাব। অপরদিকে একই প্রক্রিয়ায় ২লক্ষ ৫০হাজার টাকা ব্যয়ে উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের মেঘিয়া গ্রামের মৃতঃ আব্দুল আলী মৃধার (বীর মুক্তিযোদ্ধা) পরিবারকে ব্যক্তিগত অর্থায়নে গৃহ নির্মাণ করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমীনুল ইসলাম।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার নাসির উদ্দিন বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শেখ হাসিনার উদ্যোগ আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর উত্তোলনে আমারা দিন রাত কাজ করে যাচ্ছি। প্রথম ও ২য় ধাপে প্রতিটি ঘরের বিপরিতে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিলো। ৩য় ধাপে প্রতিটি ঘর বাবদ ২লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। আমরা যথাসাধ্য ভালো মানের ঘর উত্তলোন করার চেষ্টা করেছি। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমীনুল ইসলাম বলেন,  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহতী উদ্যোগ ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে আমরা হয়রানির শিকার হয়েছি। আমরা শত প্রতিকুল পরিবেশ মোকাবেলা করে বাবুগঞ্জে ভূমিহীনদের সুবিধা অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো যায়গা নির্বাচন করে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছি। বাবুগঞ্জের সকল জনপ্রতিনিধি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয়, উপজেলা প্রকৌশলী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সকলের সহযোগীতা ও নিরলস প্রচেষ্টায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ঘর উত্তলনে আমরা সফল হয়েছি। এটা আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ ছিলো। উত্তোলিত ঘরে বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।  রয়েছে সেনিটেশন,  গভীর নল কূপের পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে।
 


আরিফ হোসেন/এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন