তাদের ঠিকানা এখন 'বৃদ্ধাশ্রম'

৯৮ বছরের সরলা গাইন। এক সময় ঢাকায় ছিলো বাড়ি। সেখানে পরিবার নিয়ে সুখেই ছিলেন তিনি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সবকিছু হারিয়ে এখন আছেন বরিশালে। সরলার মতো যাদের কেউ নেই বা থাকলেও হয়েছেন কেবলই অযত্নে আর অবহেলার শিকার- তাদের আশ্রয় হয়েছে বরিশালের একটি বৃদ্ধাশ্রমে। জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে এমন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে তা হয়তো এদের কেউই ভাবেননি কখনো।
২০১৫ সাল থেকে এসকল অসহায় বৃদ্ধদের পরম মমতায় আগলে রাখছে ‘বয়স্ক পুনর্বাসন কল্যান সংস্থা’ নামের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। বরিশাল নগরীর কাউনিয়া হাউজিং এলাকায় ভাড়া নেয়া ৩ কক্ষের এক ফ্ল্যাটের এই আশ্রমে এখন আছেন ৮ জন অসহায় প্রবীন। যাদের চিকিৎসাসহ যাবতীয় সবকিছুর দেখাশুনা করছে সংস্থাটি।
এখানকার প্রতিটি জীবনের আছে একএকটি দীর্ঘশ্বাসের গল্প। সেইসব স্মৃতি আওয়াতে গেলেই চোখে পানি ধরে রাখতে পারেননা আয়েশা, কমলা, ময়নারা। তবে স্বজনরা কাছে না থাকলেও ছোট এই নতুন পরিবারে যেন সুখেই আছেন তাঁরা।
৭৬ বছরের আয়েশা বেগম বলেন, ‘এখানে এখন বেশ ভালো আছি। এখানকার লোকজন আমাকে মায়ের মতোই ভালোবাসে। ভালো খাবার খেতে দেয়। অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। যতদিন বেঁচে আছি এখানেই থাকতে চাই।’
বৃদ্ধাশ্রমটিকে আরো বড় করার ইচ্ছা এর প্রতিষ্ঠাতা মো. শাখাওয়াত হোসেনের। নানান সংকট আর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বলেন, সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে আমরা আরো বৃদ্ধকে সেবা দিতে পারবো। এই বৃদ্ধাশ্রমটির জন্য আরো বড় বাসা নিতে চাই যেখানে শতশত বৃদ্ধ মানুষ শান্তিতে জীবন কাটাতে পারবেন।
সারাজীবন নিজের পরিবারের জন্য সবটুকু দিয়ে গেলেও আজ সেই পরিবার থেকেই বিচ্ছিন্ন। অনেকেই আবার হয়েছেন বিতারিত। জীবনের কাছে আর কিছু চাওয়ার নেই তাদের। শুধু একটাই প্রার্থনা তাদের- আর কোন বাবা মাকে যেন কোন বৃদ্ধাশ্রমে ঠাই নিতে না হয় ।
তাহ্সীন উদ্দীন/এইচকেআর