কাল পবিত্র ঈদ-উল-আযহা

দিনক্ষণ আগেই ঠিক হয়ে গেছে। কোরবানির পশু কেনার পর্বও শেষ পর্যায়। চলছে শেষ প্রস্তুতি। আগামীকাল ১০ জুলাই রোববার সারাদেশে উদ্যাপিত হবে পবিত্র ঈদ উল আযহা।
বছর ঘুরে মুসলমানদের জীবনে আবার এল ত্যাগের মহিমায় চিরভাস্বর পবিত্র ঈদ উল আযহা। হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসারে জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদ উল আযহা পালিত হয়। ঈদ-উল-ফিতরের মতো ঈদ উল আযহায় ঠিক আগের দিনে চাঁদ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তা নেই। ১০ দিন আগেই ঠিক হয়ে যায় ঈদের দিনক্ষণ। সে অনুসারে পশু কেনা থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়াসহ ঈদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে থাকেন সবাই। পশু জবাইয়ের পূর্বে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বরিশাল নগরীতে ঈদের প্রধান জামাত ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের সর্ববৃহৎ জামাত হবে চরমোনাই পীরের দরবারে।
ঈদ-উল-আযহা আমাদের দেশের মানুষের কাছে ‘কোরবানির ঈদ’ নামেই পরিচিত। কোরবানির পশু কেনা, তার যত্ন পরিচর্যাতেই ঈদের মূল প্রস্তুতি ও আনন্দ। ইতিমধ্যে সারা দেশের ন্যায় বরিশালেও জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। বরিশালের হাটগুলোতে ট্রাকে করে কোরবানির গরু, ছাগল আনা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। পছন্দের পশুটি কেনার জন্য নগরীর অস্থায়ী দুটি পশুর হাটসহ সুবিধামতো বিভিন্ন হাটে যাচ্ছেন কোরবানিদাতারা।
অনেকেই কোরবানির পশু কিনে ভবনের কার পার্কিং ও ফুটপাতে রেখেছেন। পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে বিকোচ্ছে তাজা কাঁঠালপাতা, খড়-বিচালি-ভুসি ইত্যাদি। চলতি পথে প্রায়ই চোখে পড়ে গলায় রঙিন কাগজ ও জরির মালা জড়ানো হৃষ্টপুষ্ট ষাঁড়ের দড়ি ধরে ঘরমুখো চলছেন কোরবানি-দাতারা। গবাদিপশুর ডাকও বেশ শোনা যাচ্ছে এখানে-ওখানে। পথে পথে ক্রয় করা গরু বা ছাগলের দাম জিজ্ঞাসা করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন পথচারী বা স্থানীয়রা।
কোরবানির ইতিহাস সুপ্রাচীন। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসরণ করেই সারা বিশ্বের মুসলমানরা ১০ জিলহজ কোরবানি দিয়ে থাকেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানির জন্য মহান আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পেয়েছিলেন। পরপর দুবার তিনি পশু কোরবানি করেন। তৃতীয়বার একই নির্দেশ পেয়ে তিনি অনুধাবন করেন, পুত্র ইসমাইলের চেয়ে প্রিয় তাঁর কেউ নেই। আল্লাহপাক তাঁকেই কোরবানি করতে নির্দেশ দিচ্ছেন।
হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) কে আল্লাহর নির্দেশ জানালেন। শিশু ইসমাইল (আ.) নির্ভয় চিত্তে সম্মতি দিয়ে পিতাকে আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পালন করতে বলেন। কোরবানি করতে উদ্যত হজরত ইব্রাহিম (আ.) পুত্রস্নেহে যেন হৃদয় দুর্বল না হয়ে পড়েন, সে জন্য তিনি চোখ বেঁধে নিয়ে পুত্রের গলায় ছুরি চালিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলার অপার কুদরতে এ সময় হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। ঈদের নামাজের জামাতের আগে খুতবায় হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর কোরবানির এই কাহিনি তুলে ধরবেন ইমামেরা। বিনম্র চিত্তে তাঁদের স্মরণ করবেন সারা বিশ্বের মুসলমানরা।
কোরবানি দেওয়া আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য ওয়াজিব। ১০ জিলহজ পবিত্র ঈদ উল আযহা অনুষ্ঠিত হলেও পরের দুদিন অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজেও কোরবানি করার বিধান রয়েছে। সাধারণত উট, দুম্বা, গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া এসব পশুই কোরবানি করার বিধান রয়েছে। তবে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে সমস্ত লোভ লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ, স্বার্থপরতা তথা ভেতরের পশুত্বকে ত্যাগের মধ্য দিয়ে আত্মশুদ্ধি লাভের ভেতরেই রয়েছে কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য।
এই ঈদে পশু কোরবানিই প্রধান ইবাদত। ঈদের জামাত আদায় করে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়বেন কোরবানির জন্য। ঈদের জামাতে ব্যক্তি, সমাজ, দেশ, মুসলিম উম্মাহ এবং সারা বিশ্বের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হবে।
এএজে