ঢাকা শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭ রোমে বিমানের ভেতর ৭ ঘণ্টা ধরে আটকা আড়াই শতাধিক যাত্রী উজিরপুরে হস্তিশুন্ড-কাজিরা রাস্তার বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগ বরিশালে ১৩০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক  দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে তোলা হবে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী গ্যাস-বিদ্যুৎসহ নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে বরিশালে ১১ দলীয় ঐক্যের অবস্থান কর্মসূচি  বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পরিচালনা পর্ষদ’র মতবিনিময় সভা, দুই-এক দিনে ম্যানেজিং কমিটি ঘোষণা ‘র‍্যাব’ বিলুপ্ত করে আসছে ‘এসআরবি’ বিএমপি'র নবাগত পুলিশ কমিশনারকে ফুলেল শুভেচ্ছা মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা 
  • টিকিট কালোবাজারি

    শাস্তির তালিকায় বরিশাল নদীবন্দরের আরও ১২ শুল্ক আদায়কারী

    শাস্তির তালিকায় বরিশাল নদীবন্দরের আরও ১২ শুল্ক আদায়কারী
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    বরিশাল নদী বন্দরে ঘাট টিকিট কালোবাজারির ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। দুদকের অভিযান পরবর্তী এরি মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন তিনজন শুল্ক আদায়কারী। এছাড়া দায়িত্ব অবহেলার কারণে স্ট্যান্ড রিলিজ হয়েছেন বরিশাল নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মো. মুস্তাফিজুর রহমান।

    এদের বাইরেও টিকিট কালোবাজারি এবং ঘাট টিকিটের সঙ্গে সম্পৃক্ত আর বেশ কয়েকজনকে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। এরিমধ্যে টিকিট কালোবাজারির সাথে জড়িত আরও ১২ জন কর্মচারীর তালিকা করা হয়েছে। যেকোন সময় তাদের বদলি করা হতে পারে দেশের বিভিন্ন নদী বন্দরে। যদিও সোমবার সকাল থেকেই ওই ১২ কর্মচারীর বদলির গুঞ্জন শুরু হয় নদী বন্দর এলাকায়।

    এদিকে, ‘বন্দর কর্মকর্তাকে ঢাকায় স্ট্যান্ড রিলিজের দুদিনের মাথায় বরিশাল নদী বন্দরে নতুন দুই কর্মকর্তা যোগদান করেছেন। এদের মধ্যে বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক সোমবার বরিশাল নদী বন্দরে যোগদান করেছেন। ইতিপূর্বে তিনি খুলনায় দায়িত্বে ছিলেন। তার একদিন পূর্বে অর্থাৎ রোববার বরিশাল নদী বন্দরে সহকারী পরিচালক পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মো. মাহাবুবুর রহমান। ইতিপূর্বে তিনি ঢাকা সদরঘাটে দায়িত্বে ছিলেন।

    বরিশাল নদী বন্দর সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ঘাট টিকিট নিয়ে দুর্নীতি এবং কালোবাজারি চলে আসছিল। যাত্রীরা টাকা দিয়ে বন্দরে প্রবেশ করলেও তাদের হাতে টিকিট দেওয়া হতো না। সেই টিকিট পুনরায় বিক্রি করে অর্থ আত্মসাত করতেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে ইতিপূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু এর পরেও টনক নড়েনি বন্দর কর্তৃপক্ষের।

    সূত্রগুলো জানায়, বন্দর কর্মকর্তার যোগসাজসেই শুল্ক আদায়কারীরা টিকিট কালোবাজারি করে আসছিলেন। তারা যাত্রীদের কাছে একবার বিক্রি করা টিকিট পূনরায় অপর যাত্রীর কাছে বিক্রি করতো। কোন কোন ক্ষেত্রে এক টিকিট অন্তত ৩-৫ বার পর্যন্তও বিক্রি করা হয়। আর অবৈধভাবে টিকিট বিক্রির পুরো টাকাটাই চলে যায় শুল্ক আদায়কারীদের পকেটে। যার থেকে মোটা অংকের ভাগ নিতেন বন্দর কর্মকর্তারা।

    বন্দরে দায়িত্বরত কয়েকটি সূত্র জানায়, ‘লঞ্চঘাটে শুল্ক আদায়কারীদের সিন্ডিকেট রয়েছে। যেটার নিয়ন্ত্রণ করেন নদী বন্দর সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারী নেতারা। তারা নিজেরাই ঘাটে দাঁড়িয়ে থেকে টিকিট কালোবাজারি মনিটরিং করতো। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন শ্রমিকলীগ নামধারী একটি গ্রুপ। এসব নেতাদের প্রহরায় প্রকাশেই চলে আসছিল টিকিট কালোবাজারি। গেলো রোজার ঈদেও বন্দরে প্রবেশ করা যাত্রী টিকিটের মোটা একটি অংশ ভাগ-বাটোয়ারা করেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

    সবশেষ গত ২৮ জুন বরিশাল নদী বন্দরে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি টিম। এসময় তারা বন্দরের ২ নম্বর কাউন্টার থেকে বিক্রি করা ৮৬৩টি টিকিট জব্দ করেন তারা। তাছাড়া ১ নম্বর কাউন্টারে বিক্রি করা টিকিটের তুলনায় অতিরিক্ত টাকা খুঁজে পান দুদকের টিম। একই টিকিট একাধিকবার বিক্রি করায় টাকা বেশি থেকে যায় বলে ধারণা দুদকের।

    এদিকে, দুদকের অভিযানের পরেই নড়েচড়ে বসে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। অভিযানের চার দিনের মাথায় বরিশাল নদী বন্দরের তিনজন শুল্ক আদায়কারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। একইদিন ঢাকায় স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয় বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মো. মুস্তাফিজুর রহমানকে।

    নদী বন্দরের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছেন, ‘বন্দরে শুল্ক আদায় এবং শুল্ক প্রহরীদের মাধ্যমে টিকিট কালোবাজারি অর্থাৎ এক টিকিট একাধিকবার বিক্রি করা হয়। এ কারণে ১২ জন শুল্ক আদায় এবং শুল্ক প্রহরীকে বদলি করা হচ্ছে। এদের তালিকা বিআইডবিøউটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে রয়েছে। যেকোন মুহুর্তে তাদের বদলির আদেশ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও একটি সূত্র বলছে, একসঙ্গে এতোজন কর্মচারীকে বদলী করা হলে বরিশাল বন্দর জনবল সংকটে পড়ে। সামনে ঈদে চাপ সামলানো দুস্কর হয়ে দাঁড়াবে। এ কারণে ঈদের পর পরই ওই ১২ কর্মচারীকে একযোগে বদলি করা হতে পারে।

    এ প্রসঙ্গে বরিশাল নদী বন্দরে সদ্য যোগদানকারী সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি দুদিন হলো এখানো যোগদান করেছি। যে কারণে পুরো বিষয়টি এখনো বুঝি উঠতে পারিনি। তবে সোমবার সকাল থেকেই ১২ জন কর্মচারীকে বদলির গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত বদলির কোন আদেশ আসেনি। তাছাড়া পূর্বে যে তিনজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে জানতে পেরেছি তাদের বিষয়েও কোন আদেশ আমাদের কাছে আসেনি। এমন কিছু হয়ে থাকলে সেটা হেড অফিস ভালো বলতে পারবে। 

    তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে বিআইডব্লিউটিএ’র কেন্দ্রীয় দপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক কাজী ওয়াখিল নেওয়াজ এর ব্যবহৃত একাধিক কল এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
     


    এএজে
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ