ঈদ উপহার হিসেবে মুজিব বর্ষের ঘর পাবে ৩২১০ জন উপকারভোগী

মুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় তৃতীয় দফায় ঈদ উপহার হিসেবে দেশব্যাপি জমিসহ আরও ৩৬ হাজার ৪২৬টি ঘর প্রদান করা হবে। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগের ৩ হাজার ২১০ জন গৃহ এবং ভূমিহীন মানুষকে জমি সহ ঘর প্রদান করা হবে।
আগামী ২৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশব্যাপি ঘর বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর পরই বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে জমিসহ ঘর বিতরণ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. আমিন উল আহসান।
রোববার (২৪ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১২টায় বরিশাল সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
এসময় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘আমরা সাধারণত ঈদ উপহার হিসেবে আগে মানুষকে সেমাই, চিনি, শাড়ী-লুঙ্গি ইত্যাদি উপহার হিসেবে দিতে দেখে আসছি। কিন্তু বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিকভাবে এতটাই সক্ষমতা অর্জন করেছে যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদের উপহার হিসেবে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমির দলিলসহ ঘর উপহার দিচ্ছেন।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ইতিপূর্বে বরিশাল বিভাগে ১ম পর্যায়ে ৬০৮৮টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৭১৫৩টি ঘর জমিসহ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তৃতীয় দফায় বরিশাল বিভাগে ৭ হাজার ৮৭৭টি বরাদ্দ হয়েছে। এর মধ্যে ৩২১০টি ঘর হস্তান্তর উপযোগী হয়েছে। যা আগামী ২৬ এপ্রিল উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ৪৫২টি, পটুয়াখালী জেলায় সর্বোচ্চ ১০৫৬টি, ভোলা জেলায় ৭০১টি, পিরোজপুরে ২২৮টি, বরগুরায় ৩৭৮টি এবং ঝালকাঠি জেলায় ৩৯৫টি জমিসহ ঘর হস্তান্তর করা হবে। বাকি ঘর আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে বরগুনার খাজুরতলা আশ্রায়ণ প্রকল্পে ২২ জন তৃতীয় লীঙ্গের ব্যক্তিকে গৃহ প্রদন করা হবে।
তিনি বলেন, তৃতীয় পর্যায়ে প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যায় বরাদ্দ দেয়া হয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া প্রত্যেক উপকারভোগীকে ২ শতাংশ জমি রেজিষ্ট্রি করে দেয়া হচ্ছে। যার বাজার মূল্য স্থানভেদে ২-১০ লক্ষ টাকা।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ২৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের খাজুরতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুজন উপকারভোগীর সাথে সরাসরি কথা বলবেন বলে জারিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার।
এদিকে, বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, বরিশাল সদর উপজেলায় হিজড়াসহ দলীত জনগোষ্ঠীর জন্য সাত একর জমি নির্ধারন করা হয়েছে। সেখানে বাগান, কবরস্থান হবে। এছাড়া বসবাস করবেন ১২৩ জন। এর বাইরে বাবুগঞ্জ উপজেলার আরও ৬৪টি দলীত পরিবারের জন্য জমি প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশা করছি খুব শিঘ্রই এসব ঘর বিতরণ করা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ জামাল উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম বাড়ৈ, বরিশাল সদর উপজেলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
এইচকেআর