ইটভাটা এবং পরিবেশগত পরিস্থিতি বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

রহমতপুর এলাকার ইটভাটা এবং বর্তমান পরিবেশগত পরিস্থিতি বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০ টায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি “বেলা” বরিশালের আয়োজনে স্থানীয় মানিককাঠী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষক এইচ. এম. আবুল কালামের সভাপতিত্বে সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেলার বিভাগীয় সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আবদুল্লাহ আল মামুন, এ. কে. এম. শহিদুল ইসলাম, মো. ইউনুচ মোল্লা, রাশিদা আক্তার, মো. শাওন হোসেন, মো. জহির মোল্লা প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন, ‘‘রহমতপুর ইউনিয়নে ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটার বিধিবিধান না মেনে এ পর্যন্ত ২৩-২৪টি ইটের ভাটা গড়ে তোলা হয়েছে।
প্রভাবশালীদের এসব ভাটায় ১২০ ফিট পাকা চিমনি থাকার নিয়ম থাকলেও বেশির ভাগ ইটের ভাটায় তা নেই। এমনকি অনেক ইটের ভাটায় টিনের চিমনি থাকায় ইটভাটার ধোঁয়ায় বসতবাড়ীতে টিকে থাকাই দায় হয়েছে। এখানকার মানুষ শ্বাসকষ্টসহ নানা ব্যধিতে ভুগছে।
ফলদ বৃক্ষে ফল ধরে না, কৃষিজমিতে ফসল হয় না। নদীর কিনারের মাটি ও কৃষিজমির উপরের স্তরের মাটি কেটে ইটভাটায় ব্যবহার করায় নদী ভাঙ্গনসহ কৃষিজমি দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। কয়লার পরিবর্তে প্রতিটি ইটের ভাটায় কাঠ ব্যবহারের কারনে এলাকার বনভূমি উজার হচ্ছে। শব্দ দূষণ ও বায়ু দূষণ অসহনীয় মাত্রায় বেড়েই চলেছে। যারাই এসব অপরিকল্পিত ভাটার বিরুদ্ধে কথা বলে, প্রতিবাদ জানায় ক্ষমতাধর ইটভাটার মালিকরা তাদেরকে নানা ভাবে নিপীড়ন করে এবং ভয়ভীতি দেখায়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদাসীনতায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা এসব ইটভাটা মালিকরা সাধারন জনতার এসব দুঃখ-দুর্দশার প্রতি বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই। তাই তারা বেলা’কে এহেন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে বর্তমান চিত্র উচ্চ আদালতে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সাথে প্রশাসনকে কিভাবে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বাধ্যকরা যায় সে বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছেন। এ অবস্থার নিরসনে তারা ঐক্যবদ্ধ সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন’’।
এইচকেআর