ঈদ বাণিজ্যে সামিল হতে ঝকঝকে হচ্ছে লক্কর ঝক্কর বাস

মাত্র কদিন পরেই ঈদ। করোনার ক্রান্তি কাটিয়ে এবারে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক এবং নৌ পথে ঘরমুখো যাত্রীদের ভীড় দ্বিগুন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হতে পারে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের। সে জন্যই ফিটনেস বিহীন লক্কর ঝক্কর মার্কা গাড়িগুলোও প্রস্তুতি করা হচ্ছে ঈদ সার্ভিসের জন্য।
বহু বছরের পুরোনো বাসের বডিতে রং চং দিয়ে যাত্রীদের আকর্ষণের জন্য নতুন রূপ দেয়ার চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে ব্যস্ততার কমতি নেই ওয়ার্কসপ কারিগর ও রং মিস্ত্রিদেরও।
মঙ্গলবার সকালে নগরীর রূপাতলী ও নথুল্লাবাদ বাসর্টামিনাল এলাকা ঘুরে দেখা মেলে লক্কর ঝক্কর মার্কা যাত্রীবাহী পরিবহনের ফিটনেস ফিরিয়ে আনার ব্যর্থ চেষ্টার দৃশ্য। দেকা যায়, রাস্তার ওপরে ভাঙা-চোরা পুরাতন গাড়িতে দিন রাত রং করে যাচ্ছেন রং মিস্ত্রিরা। ঈদের সময় বহু বছরের পুরাতন এসব গাড়ি মেরামত করে নতুন সাজে সড়কে নামানো হবে। বিশেষ করে ২৫-২৬ রোজার পর ওপরে ফিটফাট গাড়িগুলো সড়কে নামানো হবে বলে জানিয়েছেন ওয়ার্কসপ কর্মচারীরা।
জানা গেছে, ঈদ যাত্রায় দক্ষিণাঞ্চলে মানুষের চাপের বিপরীতে যানবাহন সংকট দেখা যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির পরিবহন ব্যবসায়ী ভালো মন্দ বিচার না করে রং করা পুরোনো গাড়ি নামান রাস্তায়। ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেন ঘরমুখো যাত্রীদের। বাড়তি চাপে যাত্রীরা যে গাড়ি পান সেই গাড়িতেই উঠে বসেন। রং লাগানো এসব গাড়ি সড়কে নামানোর সঙ্গে সঙ্গে কোথাও না কোথাও বিকল হয়ে পড়ে। ফলে বেড়ে যায় দুর্ঘটনা। তৈরি হয় যানজট। আবার এসব গাড়ির কারণে ঈদে ঘরমুখো মানুষ পথে পথে ভোগান্তির শিকার হন।
রূপাতলীর জহির নামের রং মিস্ত্রি বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে পুরোনো গাড়িগুলো রং করে নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে যাতে করে যাত্রীরা আকৃষ্ট হয়। সময়মতো ডেলিভারি দেওয়ার জন্য দিন-রাত গাড়িতে রঙের কাজ করে ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। তবে এসব গাড়ির ইঞ্জিনের অবস্থা কতটুকু ভালো তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন যাত্রীরা।
তারা বলছেন, ঈদে যাত্রীদের ভীর বেশি হয়। তাই লাভের আশায় লক্কর ঝক্কর মার্কা গাড়িগুলো রং-চং করে রাস্তায় নামানো হচ্ছে। এটা যে কতবড় ঝুঁকি সেটা মালিকরা কখনই বোঝার চেষ্টা করবে না। আবার বিআরটিএ এবং ট্রাফিক বিভাগও এসব বিষয়ে সুদৃষ্টি দিচ্ছে না।
এ ব্যাপারে বরিশাল- পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন বলেন, যাত্রীদের ঈদ যাত্রা সুন্দর আর গতিময় করার জন্য বাস সার্ভিসের ব্যপারে আমাদের সমিতি সবসময়ই দৃষ্টি রেখে আসছে। এর ন্যায় এবারেও একই রকম হবে। তিনি বলেন, ঈদের জন্য এবারেও বিসিসি মেয়র মহোদয়ের নেতৃত্বে বরিশাল নদী বন্দর এলাকায় ফ্রি বাস সার্ভিস চালু থাকবে। লঞ্চ যাত্রীদের নথুল্লাবাদ ও রূপাতলী বাসটার্মিনালে পৌঁছে দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, পটুয়াখালী-বরগুনা ও ঝালকাঠি রুটের কিছু সংখ্যক পুরনো গাড়ি রয়েছে। সেগুলো হয়তো ঈদের জন্য রং করানো হচ্ছে। যাত্রী সেবায় লক্কড় ঝক্কর গাড়ি যাতে ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছেন শিপন।
এইচকেআর