ভিক্ষাবৃত্তি করে নয়, কাজ করে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় বিকলাঙ্গ শুভ

ভিক্ষাবৃত্তিকে ঘৃণা করি, আমাকে কাজ দিন। কাজ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এমনটাই দাবি বিকলাঙ্গ যুবক তীব্র খান শুভ’র। মোবাইল, চার্জিং লাইটসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস মেরামত করাটাই তার পেশা। নগরীর বিভিন্ন অলিগলি ঘুরে এই কাজ করেই জীবিকার সন্ধান করছে জন্ম থেকে বিকলাঙ্গ তীব্র খান শুভ।
মাত্রই কিশোর পেরিয়ে যৌবনে পদার্পণ করেছে সে। ভিক্ষাবৃত্তিতে তীব্র ঘৃণা বলেই হয়তো নাম হয়েছে তীব্র খান। যদিও বাবা প্রয়াত দুলাল হাওলাদার তার নাম রেখেছিলেন শুভ হাওলাদার।
মেহেন্দিগঞ্জের চাঁদপুরের মাজের হাট গ্রামের বাসিন্দা শুভ হাওলাদার ৩ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। শুভ’র জন্মের কিছুদিন পরেই মারা যান বাবা। বুঝতে শেখার বয়সে মা-ও দ্বিতীয় বিয়ে করে চলে যান ওদের ছেড়ে অন্য ঘরে। বড় ভাইয়েরা নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পরলে শুভ বাধ্য হয়ে খুঁজে নেয় উপার্জনের পথ।
একজন মোবাইল মেকারের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং ইউটিউব ঘেঁটে শিখে ফেলে ইলেকট্রনিক ডিভাইস, রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, সৌরবিদ্যুৎ, মোবাইলসহ বিভিন্ন ঘর গৃহস্থালি দ্রব্য মেরামতের কাজ।
একটি হাতে চালিত অটোরিকশা নিয়ে শহরে ঘুরে ঘুরে এসব কাজ সংগ্রহ করে শুভ। এসব মেরামত কাজে ২০০ থেকে হাজার টাকাও আয় হয় কখনো। কোনোদিন আবার কাজই পায়না। এভাবেই অনিশ্চিত অকেজো দুই পায়ের ভারটানা জীবন শুভর। কেউ কোনো সাহায্য করতে চাইলেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বলে- আমিতো ভিক্ষুক নই। কেন আমাকে ভিক্ষুক বানাতে চান আপনারা? আমাকে কাজ দিন, দোয়া করুন যেন আমৃত্যু কাজ করে খেতে পারি।
নগরীর বেলতলা এলাকায় ঘর ভাড়া করে একাকী বসবাস তার। প্রতিবেশীরা সবাই ভালোবাসেন শুভকে। তাইতো রান্না খাওয়া নিয়ে ভাবতে হয়না তাকে। প্রতিবেশী মা ও বোনদের প্রতিও শুভর কৃতজ্ঞতা অনেক।
শুভ সম্পর্কে শুনেই আপ্লূত সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আল মামুন তালুকদার। তিনি জানালেন, শুভ বা তীব্র খানের কথা শুনে আমার ভালো লাগছে। আমাদের সাধ্যমতো ওর পাশে দাঁড়াবো আমরা।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই ভিক্ষাবৃত্তি দূর করতে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যার সুফল বরিশালের জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দারের হাত ধরে ইতিমধ্যে ৫২ জন ভিক্ষা ত্যাগ করে ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছে। শুভকেও আমরা সেরকম কিছু সাহায্য করতে চেষ্টা করবো।
এইচকেআর