নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ট্রাকে-লঞ্চে বিভিন্ন মোকামে যাচ্ছে ইলিশ!

ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে সবধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। নিষেধাজ্ঞাকালীন মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের যৌথ অভিযানে প্রতিদিন নদীতে মাছ ধরার অপরাধে জেলেদের জেল-জরিমানা হচ্ছে। এতকিছুর পরও ভোলা থেকে প্রতিদিন লঞ্চ ও ট্রাকে করে বিপুলপরিমাণ ইলিশসহ নদীর বিভিন্ন মাছ ঢাকাসহ বিভিন্ন মোকামে পাঠাচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। তাঁদের ছত্রছায়ায় জেলেরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদী থেকে মাছ ধরে এনে বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করছেন।
আর সেই মাছগুলো আড়তদাররা কিনে নির্বিগ্নে লঞ্চ ও ট্রাকযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠাচ্ছেন। এতে করে সরকারের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
আর এসব কাজ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই করছেন বলে দাবি স্থানীয় জেলেদের।
গতকাল শুক্রবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সদর উপজেলা ইলিশাঘাট গিয়ে দেখা যায়, দুটি পিকআপ ও একটি ট্রাক ভর্তি লাখ লাখ টাকার ইলিশ ও পোয়া মাছ ভোলার বিভিন্ন ঘাট থেকে কিনে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছেন ব্যাপারীরা। এ ছাড়াও সন্ধ্যা ৭টার দিকে ইলিশাঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া তাসরিফ-১ লঞ্চের নিচতলার ডেকে প্রায় ২০-৩০ ঝুড়ি ইলিশ ও পোয়া মাছ দেখা গেছে। ভোলার স্থানীয় ব্যাপারীরা এসব মাছ জেলেদের কাছ থেকে কিনে ঢাকার আড়তগুলোতে বিক্রি করে থাকেন। নদীতে মাছ শিকারের বিষয়ে স্থানীয় মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের ব্যাপক নজরদারি থাকলেও এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। তবে স্থানীয় জেলেদের দাবি, প্রশাসন সাধারণ জেলেদের জেল-জরিমানা করলেও ব্যাপারীদের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
জেলেদের দাবি প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই নিষেধাজ্ঞাকালীন মাছ কিনে মোকামে পাঠাচ্ছেন ব্যাপারীরা। যার ফলে প্রশাসন এসবের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
ভোলা ইলিশা নৌ-থানার ওসি মো. শাহজালালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। আজ (শনিবার) থেকে ঘাটে লঞ্চ ও ট্রাকেগুলোতে তল্লাশি চালানো হবে। অবৈধভাবে মাছ পরিবহনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজহারুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
উল্লেখ্য, ইলিশসহ সবধরনের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা থেকে চর পিয়াল শাহবাজপুর চ্যানেলের মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার ও ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত তেতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এ সময়ে মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় সকল ধরনের মাছ শিকার, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন আইনত দণ্ডনীয়।
এইচকেআর