ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

Motobad news

আগৈলঝাড়ায় আশ্রয়ণের ঘর পেয়ে খুশি ১৪৭ পরিবার

আগৈলঝাড়ায় আশ্রয়ণের ঘর পেয়ে খুশি ১৪৭ পরিবার
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ভূমিহীন ও গৃহহীন ১৪৭টি পরিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার স্বপ্নের নতুন ঠিকানা দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা গৃহ পেয়ে আনন্দে এখন আত্মহারা। উপকারভোগীরা হচ্ছেন দুস্থ, অসহায়, বিধবা, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও উপার্জনে অক্ষম এবং পরিবারে উপার্জনক্ষম সদস্য নেই এমন ব্যক্তি।

আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে সারি সারি ঘর। সুন্দর এবং মজবুত এসব ঘরের পেছনে সামনে নানা জাতের সবজি ও বিভিন্ন গাছ রোপন করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের সামনে রয়েছে খোলা জায়গা। সেই জায়গায় কেউ কেউ রোপন করেছেন বিভিন্ন সবজি। উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ওঠা পরিবারগুলোর আনন্দ অনুভূতি। তারা প্রধানমন্ত্রীর উপহারস্বরুপ ঘর-জমি পেয়ে পরম আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছেন। এর আগে কেউ অন্যের জায়গায়, কেউ বাঁধের রাস্তায় অনেক কষ্টে জীবন যাপন করে আসছিলেন। এবার তারা দলিলসহ ঘর পেয়ে স্থায়ীভাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেছেন।
 
এখন তারা জমি-ঘর পেয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসাথে বসবাস করার সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়া পরিবারগুলো গভীর নলকূপ, বিদ্যুৎ, রাস্তাসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। ২ শতাংশ জমিতে পাকা সেমি দুকক্ষ বিশিষ্ট ঘর স্বামী ও স্ত্রীকে যৌথভাবে দলিল করে দেওয়া হয়।

রাজিহার ইউনিয়নের পশ্চিম গোইয়াল গ্রামের আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর মালিক বাবুল হোসেন সিকদার বলেন, সরকারের দেওয়া নিজস্ব জায়গায় ঘর হইছে। আর কোনো টেনশন নাই। কোনদিন আর কেউ ভূমিহীন বলতে পারবে না।

মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার ‘মাথা গোঁজার ঠাঁই’ পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় গৈলা ইউনিয়নের সেরাল গ্রামের উপকারভোগী নুরজাহান বেগম বলেন, সন্তানদের নিয়ে আমরা পরের জায়গায় অনেক কষ্ট করে থেকেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে জমিসহ ঘর দিয়েছেন। আমাদের সন্তানদের নিয়ে আর পরের জমিতে থাকতে হবে না। এখন আমরা আর ভূমিহীন-ঘরহীন না। আমরা প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করি। আমরা উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদেরকে ধন্যবাদ জানাই, তাদের সহযোগিতায় আজ আমরা পরিবার নিয়ে নতুন ঘরে আছি।

প্রতিবন্ধী সুন্দ লাল দাস নামে আরেক উপকারভোগী বলেন, আমার জায়গা জমি কিছুই ছিল না। জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। এখন আমাদের মা জননী শেখ হাসিনা জায়গা দিয়েছেন, ঘর দিয়েছেন, আমি তাতে অনেক খুশি। আমাদের মতো গরিবদের পাশে তিনি যেন সারাজীবন থাকতে পারেন।

ময়না বেগম বলেন, আমাদের সংসারে পাঁচজন লোক। মাঠে ঘাটে কাজ করে খাই। আমার কোন জমি নেই। প্রধানমন্ত্রী জমি দিয়েছেন, ঘর দিয়েছেন। ঘর পেয়ে আমি খুব খুশি। বিনামূল্যে জমি-ঘর পাব কোন দিন ভাবিনি।

উপজেলার রাজিহার, বাকাল, গৈলা ও রতুপুর ইউনিয়নে ১৪৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে স্থানীয় সাংসদ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি’র সহযোগিতায় জমিসহ ঘর পেয়েছেন।

গৈলা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল হোসেন টিটু বলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন-গৃহহীনদের জমিসহ ঘর দেয়া এটা প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প। আমার ইউনিয়নে ২০টি উপকারভোগী পরিবারকে এরই মধ্যে ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

রাজিহার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইলিয়াস তালুকদার বলেন, যেসব মানুষের জন্য ঘর নির্মাণ করা হয়েছে, তারা যে কত খুশি, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আমার ইউনিয়নে ৫টি উপকারভোগী পরিবারকে এরই মধ্যে ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম এর দিকনির্দেশনায় ও পরামর্শে ৫১টি পরিবারকে ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে, তারা নতুন ঘরে উঠে এখন খুশিতে আত্মহারা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে তাদের ভিজিডি কার্ড দেয়া এবং হাঁস-মুরগি পালন করে তারা যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে সেজন্য তাদের উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া তাদের নানা প্রকার সবজির বীজ ও গাছের চারা প্রদান করা হয়েছে।

ঘর নির্মাণ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইউএনও স্যারের নির্দেশে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছি। সিমেন্ট, ইট, বালু, যাতে মানসম্পন্ন হয় সেদিকে খেয়াল রাখছি। এই কাজ যেন বাঁধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য আমরা রাত-দিন আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। 

ঘর নির্মাণ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর প্রদানের উদ্যোগ নেন। তারই অংশ হিসেবে আগৈলঝাড়া উপজেলায় প্রথম ধাপে ৩৬টি, দ্বিতীয় ধাপে ১৫টি এবং তৃতীয় ধাপে ৯৬টি ঘরের মধ্যে ৫১টি পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে জমিসহ ঘর প্রদান করা হয়েছে। বাকি পরিবারগুলোকেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমি ও ঘর হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া আশ্রয়ন প্রকল্পের উপকারভোগী পরিবারের সন্তানেরা যাতে লেখাপড়া করতে পারে সে জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হবে।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক এই কাজ স্থানীয় জনপ্রতিনিদের মাধ্যমে গৃহহীনদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫১টি পরিবার তাদের পরিজন নিয়ে বসবাস করছে। এর ফলে সমাজের অবহেলিত মানুষগুলোর সামাজিক মূল্যায়ন বৃদ্ধিসহ প্রাত্যহিক জীবনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে। কাজের গুনগত মান বজায় রাখার জন্য বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন এর নির্দেশে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।


এমইউআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন