উজিরপুরে চেরাগ আলী টু হারতা সড়ক নির্মানে অনিয়ম

বরিশালের উজিরপুরে ওটরা ইউনিয়নের চেরাগ আলী বাজার থেকে হারতা বাজারের বটতলা পর্যন্ত সড়ক নির্মানে দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বণ্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পূর্ণবাসন সড়ক মেরামতের প্রকল্পের আওতায় ৮ কিলোমিটার এই সড়কে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। কাজটি পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শরীয়তপুরের শেখ এন্টারপ্রাইজ। কাজ করছে টিপু নামের এক ঠিকাদার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। অপরদিকে পর্যাপ্ত বালু না দেওয়া ও কাদামাখা বালু দিয়ে চলছে রাস্তা নির্মাণ।
শ্রমিকেরা বলছেন, ঠিকাদার যে রকম ইট-খোয়া-বালু দিচ্ছেন, তা দিয়েই তাঁদের রাস্তা করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, মঙ্গলবার অতিরিক্ত প্রধাণ প্রকৌশলী নুরুল হুূদা ও জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মোঃ জামাল উদ্দিন সাতলায় গার্ডার ব্রিজ পরিদর্শন করতে যাওয়ার পথে সড়কটিতে নিম্নমানের ইট-খোয়া দিয়ে রাস্তার কাজ করছে এবং রাস্তার পাশে খুব বাজে মানের ইট সাজিয়ে রাখা হয়েছে দেখতে পেয়ে সাথে সাথে ঠিকাদারকে দ্রুত সকল ইট-খোয়া সড়িয়ে নিতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঠিকাদার টিপু নিম্নমানের ইট-খোয়া-বালু ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাস্তায় ইট-খোয়া-বালু ভালো মানের ব্যবহার করা হচ্ছে। অফিসের নির্দেশে রাস্তায় ব্যবহৃত ইট-খোয়া পরীক্ষার জন্য ল্যাবে নেওয়া হয়েছে। যদি আমার দেওয়া ইট-খোয়া নিম্নমানের হয় তাহলে সেইগুলো সরিয়ে ফেলা হবে।
ওটরা ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ খালেক রাড়ী জানান, নিম্নমানের ইট-খোয়া দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করছে ঠিকাদার টিপু। এভাবে নিম্নমানের মালামাল দিয়ে রাস্তা করলে কাজ করার কয়েকদিনের ভিতর রাস্তা পুনরায় ভেঙে যাবে।
দরপত্রের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, রাস্তার কাজ ঠিকঠাকমতো বুঝে নেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন এলজিইডির উপজেলা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ সাইফুল ইসলাম । নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কীভাবে রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমার একার দায়িত্ব না তারপরও সাধ্যমতো কাজ বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছি।
উপজেলা প্রকৌশলী শেখ আজিমুর রশীদ জানান, রাস্তায় নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যবহারের কথা শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে মালামাল পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরে কাজ শুরু করা হবে।
জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ জামাল উদ্দিন জানান, আমরা নিম্নমানের ইট-খোয়া দেখতে পেয়ে সড়ানোর জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছি এবং মাল পরীক্ষার জন্য ল্যাবে আনা হয়েছে। ল্যাবে নিম্নমানের প্রমানিত হলে আইনগতভাবে তার কাছে ব্যাখা চাওয়া হবে এবং পিপিআর ২০০৮ এর আলোকে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
এমইউআর