বিবাহিত-মাদক ও মার্ডার মামলার আসামিদের নিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি

মোকাম্মেল মিশু : সম্প্রতি মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়ন শাখার নবগঠিত কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন বিতর্কিত বিবাহিত, মাদক ও মার্ডার মামলার আসামিরা। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জুড়ে চলছে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিতর্কিত নেতা-কর্মীদের কমিটির পদ দেয়া হয়েছে। জিন্নাগড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বিতর্কিত কমিটি সংশোধনের দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় নেতাকর্মী সূত্রে যায়, বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এনামুল আহসান আশিব স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জিন্নাগড় ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে আগামী এক বছরের জন্য নতুন ১৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেন।
যার মধ্যে নতুন কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান ২০১৯ এ জিন্নাগর ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড আমিন কান্দি গ্রামের বাসিন্দা আঁখি বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধে আবদ্ধ হয়। বিবাহিত হয়েও আবদুল্লাহ আল নোমান জিন্নাগড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ কমিটির সভাপতির পদ পেয়েছেন। এছাড়াও নোমান জিন্নাগড় ইউনিয়নের একাধিক বিতর্কিত ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে বলে জানা যায়।
সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন মঞ্জু ২০১৯ এ তার চাচাতো ভাই শামীমের প্রেম গঠিত বিষয় নিয়ে জিন্নাগড় ইউনিয়ন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জামাল মেম্বার এর ছেলে মো. সেহেলকে জিন্নাগর চক বাজারের একটি দোকানে কুপিয়ে হত্যা করে। ওই হত্যা মামলার ৪ নাম্বার আসামি হয়ে আদালতের স্বরনাপন্ন হন মঞ্জু । এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে জিন্নাগড় ইউনিয়নে বখাটেপানা, মাদক ব্যবসার, চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগও রয়েছে বলে জানা যায়।
বাংলাদেশে ছাত্রলীগ গঠণতন্ত্র ৫-এর (গ) ধারা অনুযায়ী বিবাহিত ও বয়সসিমা ২৯ এর বেশি হলে কোন ব্যক্তি ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান না পাওয়ার কথা থাকলেও বিতর্কিত এই দুই নেতাকর্মীদের ইউনিয়ন ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করে ১৮ সদস্যর কমিটিরর তালিকা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জিন্নাগড় ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সম্পাদক ইমাম হোসেন মঞ্জু বলেন, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মানুষ অভাবের কারণে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু আমার বাপের অনেক সম্পদ রয়েছে। আমি বংশীয় পরিবারের ছেলে। আমি কিসের অভাবে মাদক ব্যবসা কিংবা অন্যান্য ব্যবসা করবো। আমি কোন মার্ডার মামলার আসামী না। আমার বিরুদ্ধে একটি মহল মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।
আর জিন্নাগড় ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমি কোন বিবাহ করেনি। কেউ প্রমান দিতে পারবে না। এ ব্যাপারে আমি আপনাকে এক সাথে চা না নাস্তা খেয়ে সামনাসামনি বক্তব্য দিবো। মোবাইলে কোন বক্তব্য দিতে পারবো না।
এদিকে চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সােহাগ বলেন, আমরা অনেক যাছাই বাচাই করে এই কমিটি দিয়েছি। যদি তাদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমানসহ কোন অভিযোগ থাকে তাহলে নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর টাকার বিনিময়ে তাদের পদে আনা হয়েছে এটা সম্পন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
আর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রায়হান আহম্মেদ বলেন, জিন্নাগড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে যদি এ ধরণের কোন অভিযোগ প্রমানিত হয় তাহলে আমরা সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
পিএম