ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বরিশাল নগরীর ২৭নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে মতবিনিময় সভা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় লালমোহনে আনন্দ মিছিল মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৫৩৭ কোটির সাম্রাজ্য গড়লেন তরুণী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ গুরুতর অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি : বঙ্গভবন অবসরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত মেসির! রাজকীয় বিদায়ের প্রস্তুতি আর্জেন্টিনার পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন মোদীর আশ্বাসে থামছে না আন্দোলনকারীরা, কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে ৯০ দিনেই ভোট, যেভাবে নির্বাচন করে ইসি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন স্পিকার
  • শিমু হত্যার পর মরদেহের সঙ্গে রাতভর ছিলেন নোবেল

     শিমু হত্যার পর মরদেহের সঙ্গে রাতভর ছিলেন নোবেল
    ছবি: সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু। সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে তার মরদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তার বস্তাবন্দি লাশ পাওয়ার পর থেকেই টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছেন এই অভিনেত্রী। এ যেন এক নির্মম হত্যাকাণ্ড, যা ঘটে গেল তার জীবনে।

    শিমুকে হত্যা করার অভিযোগে তার স্বামী শাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদকে গ্রেপ্তার করেছে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে শিমুকে হত্যার দায়ও স্বীকার করেছেন তার স্বামী। যদিও শিমুর বোন ফাতিমা নিশা এ বিষয়ে একমত নন বলে জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি এর সুষ্ঠু বিচার ও তদন্তের দাবি করেছেন।

    গ্রেপ্তার করার পর পুলিশের জেরার মুখে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদ। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ গণমাধ্যমে জানিয়েছেন।

    পুলিশের কাছে নোবেল জবানবন্দি যা দিয়েছে তারমধ্যে চুম্বক অংশ হচ্ছে, ‘শনিবার (১৫ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর গ্রিন রোডের বাসায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে শিমুকে। হত্যার পরদিন রোববার (১৬ জানুয়ারি) নোবেলের ছোট বেলার বন্ধু ফরহাদকে নিয়ে কেরানীগঞ্জে গিয়ে মরদেহ ফেলে দিয়ে আসেন। এরপর ঢাকায় ফিরে কলাবাগান থানায় স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছেন বলে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।’

    এ প্রসঙ্গে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার শাহাবুদ্দিন কবির বলেছেন, ‘নোবেল তার স্ত্রী শিমুকে হত্যার পর সারা রাত মরদেহের সঙ্গে ছিলেন। পরদিন সকালে বন্ধু ফরহাদকে বাসায় ডেকে আনেন নোবেল। এরপর বাসার নিরাপত্তাকর্মীকে নাশতা আনার জন্য বাইরে পাঠান। এই ফাঁকে একটি বস্তায় করে শিমুর মরদেহ গাড়ির ভেতরে রাখেন। তারপর সুযোগ বুঝে সেই গাড়িতে করে বাসার বাইরে বের হয়ে যান। মরদেহটি গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়ার জন্য জায়গা খুঁজতে থাকে। প্রথমে তারা সাভার, আশুলিয়া ও মিরপুর বেড়িবাঁধের দিকে মরদেহ ফেলার চেষ্টা করেন। তবে উল্লেখিত তিন স্থানে লাশ ফেলতে না পেরে বিকেলে আবারও মরদেহ গাড়িতে করে নিয়ে বাসায় ফেরেন। এরপর সারা রাত ধরে অপেক্ষা করে আবার দুই বন্ধু মিলে লাশ নিয়ে গাড়িতে করে বেরিয়ে পড়েন কেরানীগঞ্জের দিকে। সেখানকার আলিয়াপুর নামক একটি স্থানে মরদেহটি ফেলে দিয়ে আসতে সক্ষম হন।’

    মূলত পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে অভিনেত্রী শিমুকে খুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার।

    এ ঘটনার বিবৃতি দিতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘নোবেল ও ফরহাদকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। সেইসব তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে অভিনেত্রী শিমু হত্যায় এ দুজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। বিভিন্ন পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী নোবেলের সঙ্গে শিমুর দাম্পত্য-কলহ শুরু হয়। সেই কলহের জেরে গত রোববার (সকাল ৭টা থেকে ৮টা) যেকোনো এক সময় শিমুকে হত্যা করা হয়। শিমুর লাশ গুম করতে যে গাড়িটি ব্যবহার করেছে হত্যাকারীরা সেই গাড়ি জব্দ করে থানায় নিয়েছে পুলিশ। অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, সোমবার ১৭ জানুয়ারি দুপুরে স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জের হজরতপুর ব্রিজের কাছে যায় পুলিশ।পরে আলিয়াপুর এলাকায় রাস্তার পাশে বস্তাবন্দি এক অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ উদ্ধার করে তারা। পরবর্তীতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে রাতে গিয়ে ওই মরদেহ চিত্রনায়িকা শিমুর বলে শনাক্ত করেন তার বড় ভাই শহীদুল ইসলাম খোকন।


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ