বরিশালে হত্যাসহ ১০ মামলার আসামী সরোয়ার ২ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার

যাত্রীবেশে মাইক্রোবাসের এক সিটে একজন করে বসতো ডাকাত দলের সদস্যরা। কেউ তাসবিহ পড়তেন, আবার কারও চোখেমুখে ভদ্রতার ছাপ। ডাকাতদের নম্র ব্যবহার দেখে সহজ সরল যাত্রীরাও কম টাকায় গন্তব্যে পৌঁছার লোভে গাড়িতে ওঠে। গাড়ি যাত্রা করার পর শুরু হতো ধর্মীয় আলোচনা। কিছু দূর যাওয়ার পর ডাকাত দলের একজন পথে নেমে গেলে পিছনে থাকা সদস্যরা সামনের সিটে চলে আসে এবং টার্গেট যাত্রীকে মাঝখানের সিটে বসায়। ভয়ভীতি দেখিয়ে কেড়ে নেওয়া হয় সর্বস্ব। শুধু তাই নয়, ভিক্টিমের মোবাইল থেকে স্বজনদের ফোন করে দাবি করতো মোটা অঙ্কের অর্থ। গাড়ি শনাক্ত করতে না পারার জন্য ভুক্তভোগীর চোখে মলম লাগিয়ে দেওয়া হতো।
চট্টগ্রাম-ফেনী মহাসড়কে ডাকাতি ও অপহরণ সিন্ডিকেটের মূল হোতা এবং দশ মামলার আসামি মো. সরোয়ার হোসেন ওরফে জনি প্রকাশ মনুসহ দুই সহযোগীকে আটক করেছে র্যাব-৭। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বন্দুক, দুইটি এলজি ও ৪ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
রোববার (১৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে নগরের পাহাড়তলির উত্তর কার্টলি খেজুরতলী জাইল্যাপাড়া ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন, ডাকাতদলের মূল হোতা ও দশ মামলার আসামি সরোয়ার হোসেন এবং তার দুই সহযোগী মো. রিপন (৩২) ও তাসলিমা বেগম (৩৬)।
র্যাব জানায়, আটকরা বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মানুষকে মাইক্রোবাসে তুলে মাঝপথে নিয়ে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে, মারপিট করে, গলায় গামছা পেঁচিয়ে পিছনে টান দিয়ে যাত্রীদের নিকট থেকে নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতো। যাত্রীদের মোবাইল থেকে ফোন করে আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ আদায় করতো। ডাকাতদল জরুরি অবস্থায় পালানোর পথ সুগম করতে গাড়িতে দেশীয় অস্ত্র রাখতো। ডাকাতি শেষে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার মধ্যবর্তী সুবিধাজনক স্থানে যাত্রীকে ফেলে দিতো। তার আগে গাড়ির নম্বর না দেখতে বা কোন দিকে গাড়ি চলে গেছে তা শনাক্ত না করতে ভিকটিমের চোখে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক মলম লাগিয়ে দিতো তারা। ততোক্ষণে ডাকাতরা নিরাপদ দূরত্বে চলে যেতো।
সোমবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে র্যাব-৭ এর জনসংযোগ কর্মকর্তা নিয়াজ মোহাম্মদ চপল বলেন, গতকাল অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম-ফেনী মহাসড়কে ডাকাতি ও অপহরণ সিন্ডিকেটের মূল হোতা মো. সরোয়ার হোসেন ওরফে জনি প্রকাশ মনু ও তার দুই সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। আটকের পর সম্প্রতি পাহাড়তলি থানার মামলা নং- ০১, তারিখ- ০১-০১-২০২২ইং ধারা- ৩৯৬ পেনাল কোড অর্থাৎ একই কায়দায় মাইক্রোবাসে যাত্রী উঠিয়ে ডাকাতি করে ফেলে গেলে পরবর্তীতে ভিকটিম মারা যায়। এ ঘটনা তাদের মাধ্যমে ঘটেছে বলে তারা স্বীকার করেছে। পাশাপাশি আটক সরোয়ারের বিরুদ্ধে বরিশাল মহানগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ ১০ টি মামলা রয়েছে।
ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও উদ্ধার হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এইচকেআর