শিক্ষার্থী মারধরের প্রতিবাদে গ্রামে ঢুকে ববি শিক্ষার্থীদের তাণ্ডব

শিক্ষার্থী মারধরের প্রতিবাদে বাড়ি ভাংচুর ও সড়ক অবরোধ করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল কুয়াকাটা সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। গ্রামবাসী অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যথারীতি গ্রামে ঢুকে তান্ডব চালিয়েছে।
প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. খোরশেদ আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের সকল দাবি আমরা শুনেছি। প্রশাসন কাজ করছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তিনি বলেন, লিটন মেম্বার জনপ্রতিনিধি সুলভ আচরণ করেননি বিধায় এই ঘটনার উদ্ভব হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার সাইদুল আলম লিটনের অনুসারী জয় নামের যুবক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের প্রায়ই উত্যাক্ত করতো। এর ধারাবাহিকতায় আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক ছাত্রী তার স্বামীকে নিয়ে ঘুরতে গেলে আটকে রেখে স্থানীয় যুবক জয়ের নেতৃত্বে লাঞ্ছিত করে।
ঘটনা জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর নিচের, অভিযুক্ত লিটন মেম্বার ও জয়ের বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর চালায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম ইয়ামিন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই আনন্দ বাজার এলাকায় এক শিক্ষার্থী তার স্বামীকে নিয়ে ঘুরতে যান। এ সময় তাদের সাথে অশোভন আচরণ করে মেম্বার লিটনের অনুসারী জয় সহ কিছু লোকজন। এরপর ছাত্রী ও তার স্বামীকে মারধর শুরু করে তারা। বিষয়টি ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
সাইদুল আলম লিটনের পিতা আলতাফ হোসেন হাওলাদার বলেন, আমি হাটতে চলতে পারি না। ২/৩ শ ছেলেরা এসে আমার ঘর ভাংচুর করেছে। আমাকে মারধর করেছে। আমার স্ত্রীকে মারধর করেছে।
লিটনের মা নুরজাহান বেগম বলেন, কিছু লোক এসে প্রথমে জিজ্ঞেস করে গেছে এটা লিটন মেম্বারের বাড়ি কিনা। আমরা তাদের সাথে কথা বলার জন্য লাইট জ্বালোন সাথে সাথে ঘর ভাংচুর করে।
জাহিদ হোসেন জয়ের মা জোছনা বলেন, আমার ছেলে ওই ঘটনার সাথে জড়িত না। তারপরও এসে আমার ঘর বাড়ি ভেঙে লুটপাট করে নিয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর আগেও আমার বাড়িতে হামলা করেছে তারা। কোন প্রতিকার পাইনি। এখন আবার এসে লুটপাট করে গেছে। আমরা এলাকাবাসী জিম্মি হয়ে আছি ছাত্রদের কাছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিকার চাই।
এসএমএইচ