ঢাকা শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বাবুগঞ্জে সাপের কামড়ে মৃত্যু যুবককে জীবিত করতে ঝাঁড়ফুক জ্বালানি সংকটে বন্ধের মুখে ভোলার ১২ কারখানা মেহেন্দিগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পঞ্চম শ্রেণীর পরীক্ষা, অভিভাবকদের ক্ষোভ মেহেন্দিগঞ্জে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সরকারি কবরস্থান পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান  ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ যাত্রীর সবাই নিহত রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে বিক্ষুব্ধ জনতা, পিএস জনি পুলিশ হেফাজতে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের ছাড় দিলো যুক্তরাষ্ট্র  আইএমএফ ঋণের কিস্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা, হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ দৌলতখানে জ্বালানি তেল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ ভিক্ষুকের কাছে ১০০ টাকায় ওষুধ বিক্রি করায় বন্ধ করে দেয়া হলো ফার্মেসি
  • কাঠালিয়ায় রোগীর জরায়ু কেটেছে ডাক্তার, মামলার প্রস্তুতি

    কাঠালিয়ায় রোগীর জরায়ু কেটেছে ডাক্তার, মামলার প্রস্তুতি
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার তালুকদারের বিরুদ্ধে সিজার করতে গিয়ে রোগীর জরায়ু কেটে ফেলার অভিযোগ উঠছে। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই নারী ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রয়েছেন। ভুক্তভোগী মাহিনুর (২৬) বেতাগী উপজেলার নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী ও কাঠালিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামের মৃত শাহজাহানের মেয়ে।

    গত রোববার মাহিনুরের মা রুনু বেগম সাংবাদিকদের কাছে ভুল চিকিৎসার বর্ণনা দেন এবং ডাক্তার তাপস কুমার তালুকদারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মাহিনুরের স্বামী নিজাম উদ্দিন জানান, ‘আমার স্ত্রী মাহিনুরের প্রসব ব্যথা দেখা দিলে গত ০৯ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখ কাঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (আমুয়া) নেওয়া হয়। সেখানকার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার তালুকদার রোগীকে হাসপাতাল সংলগ্ন আমুয়া নিউ সাউথ এ্যপোল ক্লিনিক ও ডিজিটাল  ডায়াগনস্টিক ভর্তি হওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।

    ক্লিনিকে ডাক্তার সাহেব নিজেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সিজার করার সিদ্ধান্ত নেন। সিজার করতে গিয়ে ভুলবশত মাহিনুরের জরায়ু কেটে ফেলেন। রোগী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ দেখা দিলে গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখ ডা. তাপস ক্লিনিক থেকে মাহিনুরের নাম কেটে দিয়ে অন্যত্র চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু কোন ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। উল্টো ডাক্তার তাপস ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মাহিনুরের স্বজনদের বিষয়টি সাংবাদিক কিংবা প্রশাসনের লোকদের না জানানোর জন্য শাসিয়ে দেন।’

    নিজাম উদ্দিন আরও বলেন, ‘ডাক্তার তাপস আমাদের কাছে প্রথমে ভুল চিকিৎসার কথা স্বীকার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমার ভুল হয়েছে; আপনারা আমাকে মামলাও দিতে পারেন বা মারও দিতে পারেন। এখন কী করবেন? ক্রমাগত রোগীর অবস্থা অবনতি হতে থাকায় ডাক্তার তাপসের বুলি পাল্টে যায়; তিনি চিকিৎসার সকল কাগজপত্র আটকে দেন এবং জরায়ু কেটে ফেলার কথা অস্বীকার করেন।’

    এদিকে মাহিনুরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁর স্বামীর বাড়ি বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা পাঠিয়ে দিলে গত রোববার (০২ জানুয়ারি ২০২২) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    তিনি আরও বলেন, ডাক্তার জানিয়েছেন—রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন, মাহিনুরের সিজার ও কেটে ফেলা জরায়ুর স্থানে পচন ধরেছে। আগামীকাল ৫ জানুয়ারি ২০২১ পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন পুনরায় তাঁর অপারেশন প্রয়োজন আছে কীনা। আর এই মুহূর্তে অপারেশন করা যাবে কি না। মাহিনুরের মা রুনু বেগম জানান, ‘ডা. তাপস কুমার তালুকদার সিজার করার জন্য আমাদের কাছ থেকে ৩৬ হাজার টাকা নিয়েছে। সিজারের পূর্বে ডাক্তার সাহেব বলেছিলেন ১৬ হাজার টাকা লাগবে। ভুল চিকিৎসা করে জরায়ু কেটে ফেলায় অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের কারণে ৩৬ হাজার টাকা দাবি করেন। আমরা ৩৬ হাজার টাকাই পরিশোধ করেছি। কাঠালিয়া ব্লাড ব্যাংকের পরিচালক তুহিন সিকদারের মাধ্যমে ১১ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করেছি, সব মিলিয়ে ওই দিন আমার মেয়েকে ১৭ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছিল। আমার মেয়ে এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হাসপাতালে রয়েছেন। আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে, তাই মামলা করতে পারিনি। আমরা গরিব এ জন্য মামলা করতে সাহস পাইনি। আমি ডাক্তার তাপসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ন্যায় বিচারের দাবি করছি।’

    এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে। নিজ উপজেলায় কর্মস্থল হওয়ায় ডা. তাপস কুমার তালুকদার কাউকে তোয়াক্কা করেন না। হাসপাতালে রোগীদের সেবা না দিয়ে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখেন। এবং ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন। এ ছাড়া রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা, হাসপাতালে বসে রোগী দেখে ভিজিট নেওয়া, সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, হাসপাতাল ভবন নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন রাখা, ইনজুরি সার্টিফিকেট দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়াসহ অনেক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
     
    এ প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সামাজিক আন্দোলন কাঠালিয়ার সভাপতি মো. তুহিন সিকদার বলেন, আমাদের সহযোগী সংগঠন ব্লাড ব্যাংক কাঠালিয়ার মাধ্যমে ওই মহিলাকে ১১ ব্যাগ ব্লাডের ব্যবস্থা করে দিয়েছি এবং আমি নিজেও ব্লাড দিয়েছি। আমি যখন ব্লাড দিতে গিয়েছি তখন ওখানের সবাইকে অনেক চিন্তিত দেখাচ্ছিল। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

    অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার তালুকদার বলেন, ‘পূর্বে তাঁর সিজার করা থাকায় ফুলটা পজিশনে ছিল না এবং জরায়ুর মধ্যে একটা টিউমার ছিল। এটা অপারেশন করতে গেলে খুব ব্লিডিং হয়। এটা আগে আলট্রাসনোগ্রাফিতে ধরা পড়েনি। অপারেশন করে বাচ্চা বের করার পরে যখন ফুলটা জরায়ু থেকে আলাদা করতে হয় তখন ফুলটা জরায়ুর মধ্যে ঢুকে থাকে। ওটা ছাড়ালেও ব্লিডিং হয় এবং না ছাড়ালেও ব্লিডিং হয়। না ছাড়ালে ফুলটা থেকে গেলে প্রচুর ব্লিডিং হয়। সেই মুহূর্তে জরায়ুর পার্সিয়ালী কিছু অংশ কেটে ফেলে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। সেটা তখন করতে হয়েছে।’

    ওই চিকিৎসক আরও বলেন, ‘ওটা করতে গেলে যেহেতু তাঁর প্রচুর ব্লিডিং হয়েছিল তখন জরুরি ভিত্তিতে অনেক ব্যাগ ব্লাড দেওয়া লাগছে। ব্লাড দিয়ে রোগীকে সেভ করা হয়েছে। পরবর্তীতে নাকি তাঁর ইনফেকশন হয়েছে আমি দেখিনি। আমাকে ফোন দিয়েছিল আমি বলেছি, ক্লিনিকে আসেন কয়েক দিন ড্রেসিং করলে ওটা ঠিক হয়ে যাবে। যেহেতু বড় ধরনের একটা ধকল গেছে ইনফেকশন হতেই পারে। এ রকমের অনেক রোগী আমাদের কাছে আসে এবং আমরা ভালো করে দেই। সে ওই ক্লিনিকে একবার গিয়ে ড্রেসিং করিয়ে কোথায় গেছে তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যায় নাই। পরের দিন আমি ক্লিনিকের মালিকের কাছে জিজ্ঞেস করলে সে বলে ওই রোগী আসছিল এবং ড্রেসিং করে চলে গেছে। সে থাকলে তার আরও চিকিৎসা করতাম, ইনফেকশনের জন্য ওষুধ লাগলে ওষুধ দিতাম। সে আমাদের না জানিয়ে চলে গেছে। সে থাকলে যা লাগত করতাম। এখন বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে আমার মানসম্মান নষ্ট করে। আমি অপারেশন করতে এ রোগীর কাছ থেকে কোন টাকা পয়সা নেই নাই।’


    এমবি
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ