ময়লার ভাগাড় ‘বেতুয়া খাল’!

দৌলতখান পৌরশহরের বেতুয়া খালটি এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত বাজারের বর্জ্য ফেলায় দিন দিন কমছে খালের গভীরতা ও প্রশস্ততা। দূষিত হচ্ছে খালের পানি। বর্জ্যরে দুর্গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী ও পথচারীরা। দৌলতখান পৌরশহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের ‘বেতুয়া নদী’ এখন এলাকার মানুষের কাছে ‘বেতুয়া খাল’ নামে পরিচিত।
বর্ষাকালে দৌলতখান বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা এই খাল দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কম খরচে নৌকাযোগে পণ্য আনা-নেওয়া করতেন। বেতুয়া খালে এখন আর নৌকা চলেনা। এই খালের পানিতে গোসল করতেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গৃহস্থালীর নানা কাজেও ব্যবহার হতো খালের পানি। সংস্কারের অভাবে এবং দখল-দূষণের ফলে খালটি এখন মৃতপ্রায়। দৌলতখান পৌরসভার বাস্তবায়নে ২০১৬--২০১৭ অর্থবছরে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে খালটির উপর নির্মাণ করা হয় একটি দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ। আধুনিক এই ব্রিজটির পাশেই বাজারের ব্যবসায়ী ও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। এছাড়াও এই খালের সঙ্গে পৌরসভার পাড়া-মহল্লার ড্রেনের সংযোগ রয়েছে।
প্রতিদিন পাড়া-মহল্লার প্রচুর ময়লা খালে এসে পড়ে। উপজেলা কমপ্লেক্সের প্রবেশদ্বারে বেতুয়া খালের উপর নির্মিত ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে। বর্জ্যের দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা পেতে পথচারীদেরা নাক বন্ধ করে ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হয়। পৌরসভার বাসিন্দা নেজামল হক, জুয়েল ও ইদ্রিস জানান, এক সময় এই খালে নৌকা চলত। খালের পানিতে এলাকার মানুষ গোসল করত। বাজারের ব্যবসায়ীরা ময়লা-আবর্জনা ফেলায় খালের পানি দূষিত হয়ে এখন ব্যবহারের অনুপযোগী। বর্জ্যরে দুর্গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। খালের বর্জ্য অপসারণ ও সংস্কারের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা । দৌলতখান পৌরসভার মেয়র জাকির হোসেন তালুকদার বলেন, ‘পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় ব্যবসায়ীরা খালে ময়লা ফেলছে। জনসাধারণের দুর্ভোগের বিষয় চিন্তা করে শিগগিরই খালে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খালটি সংস্কারেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
এইচকেআর