‘খাদ্য অধিকার আইন’ প্রণয়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার- মানবাধিকার নিশ্চিত করতে ‘খাদ্য অধিকার আইন’ প্রণয়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন করেছে উন্নয়ন সংস্থা প্রান্তজন ও খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি), বাংলাদেশ। নগরীর সদর রোডস্থ অশ্বিনী কুমার হলের সামনে শনিবার (১১ ডিসেম্বর ) সকালে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় ।
উন্নয়ন সংস্থা আইসিডিএ এর প্রধান উপদেষ্টা আনোয়ার জাহিদের সভাপতিত্বে মানববন্ধন উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা, ক্যাব বরিশালের সম্পাদক রনজিত দত্ত, ম্যাপের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর চক্রবর্তী, বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি স্বপন খন্দকার, বরিশাল চারুকলা সংগঠক এডভোকেট সুভাষ চন্দ্র দাস, আরোহী এর নির্বাহী পরিচালক মো. খোরশেদ আলম। এছাড়া কর্মসূচিতে সাংস্কৃতিক কর্মীবৃন্দ, খানি সদস্য, নারী কৃষকদের প্রতিনিধি, উন্নয়ন কর্মী, সাংবাদিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বক্তারা বলেন, খাদ্য অধিকার নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশে কোন আইন কাঠামো না থাকায় ক্ষুধা ও দারিদ্রপীড়িত মানুষের কোন জায়গায় আবেদন-নিবেদন বা দাবি করার কোন সুযোগ নাই। ক্ষুধা ও অপুষ্ঠি শুধুমাত্র খাদ্যের অপ্রতুলতার কারণে হয়না। ক্ষমতাহীনতা, প্রান্তিকতা ও দারিদ্র্য ক্ষুধার অন্যতম কারণ। বাস্তবে খাদ্য অধিকার অবহেলিত হলেও অনেক আগেই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন খাদ্য অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের ২৫ এর (১) অনুচ্ছেদে, খাদ্য অধিকারের বিষয় ¯পষ্ট করে বলা আছে। তবে এই অধিকার শুধুমাত্র ক্ষেত্র বিশেষে জরুরী অবস্থায় খাদ্যের সরবরাহ যোগান নয়, বরং আইনী কাঠামো ও ফলপ্রসূ কৌশলের মাধ্যমে সকলের জীবন ও জীবিকার নিশ্চয়তা প্রদান ও সবসময় খাদ্য ও পুষ্টির সরবরাহের অধিকার নিশ্চিত করাকে বোঝায়। যেহেতু খাদ্যের অধিকার একটি মানবাধিকার, তাই নাগরিকের খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। আর এই দায়িত্ব তখনই পালন করা সম্ভব হবে, যখন একটি ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সেটি করতে হলে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের কোন বিকল্প নেই।’
বক্তারা আরো বলেন, ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা সূচক-২০২১ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১৩ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪; খাদ্যের ক্রয়ক্ষমতা, প্রাপ্যতা, মান ও নিরাপত্তা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের উপর ভিত্তি করে এই সূচকে অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তাতে আমাদের অবস্থান আশংকাজনক! গত ১০ বছরে অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৭ লাখ। এই তালিকার অধিকাংশই শিশু ও নারী এবং তারা কোনো না কোনোভাবে অপুষ্টির শিকার। এই অপুষ্টি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ক্রমাগত অতীমারি ও দুর্যোগের আক্রমণ, অনিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ চরম দারিদ্রহীনতা ও অপুষ্টিতে ভুগছে এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় মানবেতর জীবন যাপন করছে।
এইচকেআর