ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করলে খেলা বয়কটের ঘোষণা ক্রিকেটারদের সোনার ভরি ২৩৪৬৮০ টাকা, ভাঙলো অতীতের সকল রেকর্ড  ৩০০ আসনেই একটি দল প্রচারণা চালাচ্ছে, এমন হলে একসঙ্গে পথচলা কষ্টকর বরগুনায় চা দোকানের আলাপ থেকে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ পটুয়াখালীতে স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে সন্তান নিয়ে ইউপি সদস্যের বাড়িতে ২ নারী পিরোজপুরে স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার দিয়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন ছাত্রলীগ নেতা আগৈলঝাড়ায় ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মারবেল মেলা ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও না পরেও না: প্রধান উপদেষ্টা আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে মামুনুল হককে শোকজ জামায়াতসহ ১১ দলের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত
  • আমতলীতে হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখি ও তার শৈল্পিক বাসা

     আমতলীতে হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখি ও তার শৈল্পিক বাসা
    আমতলীতে হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখি ও তার শৈল্পিক বাসা
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    কবি রজনী কান্ত সেনের এই অমর কবিতাটি এখন এদেশে ৩য় শ্রেণীর বাংলা বইয়ে পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। এ কবিতায় বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়ুই, কুঁড়েঘরে থেকে করো শিল্পের বড়াই। আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে’।

    শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকের কবিতা পড়েই এখনকার শিক্ষার্থীরা বাবুই পাখির শিল্প  নিপুণতার কথা জানতে পারে। এখন আর চোখে পড়ে না বাবুই পাখি ও তার নিজের তৈরি দৃষ্টিনন্দন সেই ছোট্ট বাসা তৈরির নৈসর্গিক দৃশ্য।

    সেই ছোট্ট বাসা তৈরির নৈসর্গিক দৃশ্য হারিয়ে যেতে বসেছে বাবুই পাখি ও তার শৈল্পিক বাসা। মূলত তাল, নারকেল ও খেজুর গাছ কমে যাওয়ায় আবাস সংকটে পড়েছে বাবুই পাখি। প্রকৃতির ভারসাম্য ধরে রাখতে এই শিল্পী পাখি ও তার শিল্প টিকিয়ে রাখা দরকার।

    আমতলীতে উপজেলায় একসময় তিন প্রজাতির বাবুই পাখি দেখা যেত। এরমধ্যে বাংলা ও দাগি বাবুই এখন বিলুপ্তির পথে, টিকে আছে কিছু দেশি বাবুই। বাসা তৈরির জন্য বাবুই পাখির পছন্দের তাল, নারিকেল, সুপারি ও খেজুর গাছ কমতে থাকায় আবাসস্থল সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়াও কৃষিকাজে কীটনাশক ব্যবহার করায় দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে এই পাখি।
     


    তালগাছ আর বাবুই পাখির বাসা এ যেন একই বৃন্তে দুটি ফুল। একটিকে বাদ দিয়ে অপরটিকে নিয়ে ভাবা যায় না। শুধু তালগাছকে নিয়ে ভাবলে, বাবুই পাখির বাসা এমনিতেই যেন চোখে ভেসে আসে। অপরদিকে বাবুই পাখির বাসাকে নিয়ে ভাবলে, তাল গাছের ছবি যেন চোখের সামনে চলে আসে। আবহমান কাল থেকেই বাংলার গ্রামাঞ্চলের মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছে এরা। একটি যেন অপরটির পরিপূরক।

    অথচ এখন আর তেমন চোখে পড়ে না এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই তালগাছ আর নিপুণ কারিগর বাবুই পাখির বাসা। কালের আবর্তনে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী সেই তালগাছ আর বাবুই পাখির বাসা- এ দুই-ই যেন আজ আমরা হারাতে বসেছি। তালগাছ আর বাবুই পাখির বাসা নিয়ে পাঠ্যপুস্তকে কতই-না কবিতা রয়েছে। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তালগাছকে নিয়ে লিখেছেন,
    তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে,
    সবগাছ ছাড়িয়ে,
    উঁকি মারে আকাশে।
    মনে স্বাদ,
    কালো মেঘ ফুঁড়ে যায়,
    একেবারে উড়ে যায়;
    কোথা পাবে পাখা সে?

    অপরদিকে বাবুই পাখিকে নিয়ে কবি রজনীকান্ত সেন লিখেছেন, বাবুই পাখিকে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থাকি কর শিল্পের বড়াই, আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে।

    অথচ একসময় বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে সারি সারি উঁচু তালগাছ দেখা যেত। আর সেই তালগাছের পাতায় পাতায় দেখা যেত বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা। যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যকে আরো ফুটিয়ে তুলতো। দেখে মনে হতো তাল গাছ যেন তার কানে দোল পড়ে আছে। কিন্তু এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। কালের বিবর্তনে ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে সেই দৃষ্টিনন্দন পাখি, তার বাসা, বাসা তৈরির নৈসর্গিক দৃশ্য ও গ্রামের ঐহিত্যবাহী তালগাছ এ দুটোই আজ বিলুপ্তির পথে।

    বরগুনার আমতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একসময় যেসব গ্রামে সারিসারি তালগাছ ছিল, সেইসব তালগাছের পাতায় পাতায় মোড়ানো থাকতো বাবুই পাখির বাসা। পাশাপাশি পাখির কিচির-মিচির শব্দে গ্রামাঞ্চল মুখরিত থাকতো। সেইসব গ্রামে এখন আর তালগাছও নেই, বাবুই পাখির বাসাও নেই। ১৪-১৫বছর আগেও গ্রামের রাস্তা-ঘাট, পুকুরপাড় ও মাঠের মধ্যে সারিসারি তালগাছ ছিল। আষাঢ় মাস আসার আগে থেকেই বাবুই পাখি বাসা বুনতে শুরু করতো। তখন কিচির-মিচির শব্দে মুখরিত থাকতো পুরো গ্রাম। এখন হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি তালগাছ চোখে পড়ে। এখন আর মুখরিত হয়না কিচির-মিচির শব্দে গ্রামবাংলার জনপদ।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, কীটনাশকের অপব্যবহার, শিকারিদের দৌরাত্ম, অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ, মানববসতি বাড়ায় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে তালগাছ ও এ পাখি বিলুপ্ত হতে বসেছে। তবে সম্প্রতি বরগুনার আমতলী উপজেলার পাকা সড়ক ও গ্রাম অঞ্চলের পাশে একটি তালগাছে ৫০/৬০টি বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা দেখা গেছে। যা একনজর দেখতে পথচারী ও শিক্ষার্থীরা একটু হলেও থমকে দাঁড়াতো।

    প্রাণিবিদরা মনে করেন আত¦নির্ভরশীলতার প্রতিক প্রকৃতির সুন্দর সৃষ্টি বাবুই পাখি টিকিয়ে রাখা জরুরি। এজন্য বেশি করে তাল, খেজুর ও নারকেল গাছ রোপণ করতে হবে। সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া না হলে বাবুই পাখির বাসা তৈরির গল্প শুধু বই-পুস্তকেই থেকে যাবে।


    আমতলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা  ডা: মো. আবু সাইদ মুঠোফোনে বলেন,, সকল বন্যপ্রাণিই একটি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বাস করে থাকে। মানুষের কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করে। জলবায়ু পরিবর্তন ও জনবসতি বাড়ায় গ্রামাঞ্চলে বড়বড় গাছপালাসহ জঙ্গল কেটে অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে বাবুই পাখিসহ সকল শ্রেণির বন্যপ্রাণির নিরাপদ আশ্রয়স্থল নষ্ট হচ্ছে। একারণেই মূলত গাছ ও বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হচ্ছে।

     

     

     

     


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ