ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • র‍্যাব-৮'র সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদুর বরখাস্ত প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সমগতের বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক ক্যাম্প  জিয়াউর রহমান হত্যায় পলাতক আসামি মেজর মোজাফফর আটক বানারীপাড়ায় জুলাই শহীদ দিবসে আলোচনা সভা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি  বরিশালে ১১দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হবে: হেলাল বরিশালে পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ২১  বরিশালে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা বাবুগঞ্জের ভূতেরদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন ছাত্রদল নেতা মাহফুজুল আলম মিঠু  পাথরঘাটায় বলেশ্বর নদীতে ৯ যাত্রী নিয়ে বন বিভাগের ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ১ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বরিশালে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
  • প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বাবাকে খুন করেন ছেলে

    প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বাবাকে খুন করেন ছেলে
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ১০ মাস আগে ৭৫ বছরের এক ব্যক্তিকে খুনের ঘটনায় নতুন তথ্য দিয়েছে পুলিশ। মামলায় দাবি করা হয়েছিল, দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় নিহত হন ওই বৃদ্ধ। দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ বলছে, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ওই ব্যক্তিকে হত্যা করেন তাঁরই এক ছেলেসহ স্বজনেরা।  

    ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁরা শনিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

    হবিগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়, নবীগঞ্জ থানা-পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বিজনা নদের জলমহালের ইজারা নিয়ে নবীগঞ্জ উপজেলার বাঁশডর গ্রামের ইউপি সদস্য রাজা মিয়া ও সফিক মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ১০-১২টি মামলা রয়েছে। এই বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করে পুলিশ প্রশাসন ব্যর্থ হয়। এর মধ্যেই গত বছরের ১৫ জুলাই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময়েই খুন হন সফিক মিয়ার পক্ষের জাহির আলী (৭৫)। তাঁর ছেলে আরশ আলী দুই দিন পর ১৭ জুলাই থানায় হত্যা মামলা করেন। তাতে প্রতিপক্ষের ৯২ জনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ১৫ জুলাইয়ের সংঘর্ষের সময় নিহত হন জাহির আলী। কিন্তু পুলিশ মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে নানা অসংগতি খুঁজে পায়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাদীপক্ষের লোকজনই জড়িত থাকতে পারেন বলে পুলিশের সন্দেহ হয়।

    হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, এমন সন্দেহ থেকেই গত ২২ এপ্রিল বাদীপক্ষের একজন মিসবাহ উদ্দিনকে আটক করে পুলিশ। তাঁকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আসল ঘটনা উদ্‌ঘাটন করতে সক্ষম হয় পুলিশ। মিসবাহর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, ২৩ এপ্রিল সামছুল হক ও জিলু মিয়া নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়। তাঁরা মামলার বাদী আরশ আলীর আত্মীয়। এই দুজন পুলিশকে বলেন, আরশ আলীসহ তাঁরা মিলে বৃদ্ধ জাহির আলীকে হত্যা করেছেন।

    পুলিশ আটক তিনজনকে গতকাল হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। সেখানে তাঁরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে বলেছেন, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই জাহির আলীকে হত্যার পরিকল্পনা হয়। এই পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন নিহত ব্যক্তির ছেলে আরশ আলী এবং তাঁর পক্ষের আরও সাতজন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাঁরা ঘটনার দিন বিছানায় শুয়ে থাকা জাহির আলীর পেটে বল্লম দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেন।

    পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, জবানবন্দি নেওয়ার পর আদালতের আদেশে মিসবাহ উদ্দিন, সামছুল হক ও জিলু মিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাদী আরশ আলীসহ অভিযোগ ওঠা অপর ব্যক্তিরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।


    /ইই
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ